স্টাফ রিপোর্টার :
মন্দ লোকের সংখ্যা কম হলেও সামান্য কিছু অপরাধীদের কারণে সমাজ হয়ে উঠে কলুষিত। আর এই কলুষিত সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেই অপরাধী চক্র মাথাচারা দিয়ে উঠে। আর মন্দ লোকে জয়জয়াকার সর্বত্র শোনা গেলেও অপরাধীদের মন সব সময় থাকে দূর্বল। এই দূর্বল চিত্তের অপরাধীচক্র সার্বক্ষনিক থাকে কি করে তাদের অবস্থান টিকিয়ে রাখা যায় ।
নারায়ণগঞ্জে এমন অপরাধীদের সংখ্যা খুব একটা বেশী না হলেও তাদের ক্ষমতার পাল্লা অনেক ভারী। যার কারণে অনেকই নিজ নিজ অবস্থান টিকিয়ে রাখতে কুটকৌশলে ব্যস্ত থাকে সব সময়। যেমন শহরের দীর্ঘদিনের ঝঞ্জাট ফুটপাত, জুয়া, যানজট পুলিশের নানা অপরাধ কার্যক্রম থামিয়ে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। আর এমন অসংখ্য অপরাধ কার্যক্রম ফের চালু করতে নানাভাবে অপরাধী চক্র চালিয়ে যাচ্ছে অপতৎপড়তা। এমন অপরাধীদের প্রতি পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের সাফ জবাব,”আমি পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করবো, কোন অপরাধীদের সাথে আপোষ করবো না।”
জেলা পুলিশের অনেক সদস্য, বিএনপির কয়েকজন নেতা ও শাসক দলের অনেকের সাথে আলোচনাকালে জানা যায়, একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ নারায়ণগঞ্জে যোগ দেন। এরপর থেকেই নির্বাচনের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন। বিগত সময়ে বিএনপির অনেক নেতা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে জেড়ালো ভাষায় মন্তব্য করলেও নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরকে নিরাপত্তা প্রদান করায় বিএনপির নেতকর্মীরা এ বিষয়ে চুপষে গেছে।
আর এখন খোদ নিজ বিভাগের পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ায় অনেকেই হয়েছেন নাখোষ । যেমন জেলার ৭টি থানায় নিয়মিত ২টি করে দীর্ঘদিন সিভিল টিম পরিচালিত হতো। সিভিল টিমের কাজ কি তা সকলের অজানা নয়। জেলা ডিবি পুলিশের একাধিক দল সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারনা ছিলো মারাত্মক। রূপগঞ্জের হাইওয়ে চেকপোষ্ট সহ অন্যান্য চেক পোষ্টের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, রূপগঞ্জে নিরপরাধ সন্তানকে পুলিশ গ্রেফতার করায় মায়ের মৃত্যু, সদর থানায় সাধারণ মানুষকে ইয়াবা দিয়ে গ্রেফতারের ঘটনা, বন্দরের মদনপুরে আসামী ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশের উপর হামলা পাল্টা হামলায় একজন নিরপরাধ য়ুবকের মৃত্যুর পর এমন অনেক অসংখ্য ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ সুপার। এতে অনেকেই নাখোষ হয়ে পরেন। অনেক অপরাধীরা স্বপদে ফিরে আসতে চালায় তদ্বির। এতে ব্যর্থ হয়েই চালায় কুটকৌশল।
অপরদিকে ফুটপাত ফের সার্বক্ষনিক দখল করতে, জুয়ার প্রভাবশালীচক্র চালাচ্ছে দৌড়াত্ম । একই সাথে পরিবহনের প্রভাবশালীরা আবারো নৈরাজ্য চালাতে নানাভাবেই অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ।
ভূমিদস্যূ হিসেবে পরিচিত মিরু বাহিনীর প্রধান মিরু, টেনু গাজী, পিচ্চি সুজন সহ অনেকেই গ্রেফতার হওয়ায় শাসক দলের অনেকেই নাখোষ হয়ে উঠেছে পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে অনেকেই মাদক ব্যবসা, ভুমিদস্যুতা, জুট সন্ত্রাসী, পরিবহণ সেক্টর নিয়ন্ত্রণসহ সকল ধরণের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দূর্ণাম হচ্ছে সরকারের সাথে সাথে স্থানীয় নেতাদেরও। এমন দূর্ণামের বিষয়গুলি অনেক নেতারাই বুঝতে চান না। পুলিশী অপরাধও অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। ইদানিং আওয়ামীলীগের কিছু নেতা পুলিশ সুপারের ভালো কাজগুলোর সমালোচনা করছে।
এসপি হারুন না হলে মসজিদের টাকা নিয়ে শহরের নলুয়াপাড়ার যে সংর্ঘর্ষ তা থামাতো কে ? তারা এতটাই প্রভাবশালী যে তাদের টিকিটিও স্পর্শ করতে পারতো না কেউ।
সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলর মুন্না ও কবিরকে গ্রেফতার করার কারণেই দুজন এখন এক সাথে বসে মীমাংশার কথা বলতে পারছে। নইলে কতটা যে লাশ পরতো তা অনুধাবন করাই কঠিন।
পুলিশ সুপারের কর্মকান্ডে এখনো পর্যন্ত পেশাদারিত্ব থাকায় সমালোচনার কোন সুযোগ পাচ্ছে না কেউ। শুধু নারায়ণগঞ্জের কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নানাভাবে কুটকৌশল চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ সুপারের হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে।
প্রতিবেদকর সাথে আলোচনাকালে অনেকেই পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, এসপি হারুনের বিরুদ্ধে অনেক কথাই শোনা গেছে । কিন্তু নারায়ণগঞ্জে যোদানের পর পেশাদারিত্বের বাইরে তিনি কি করেছেন ?









Discussion about this post