দীর্ঘদিন মায়ের সাথে সকল সুখ দুঃখ মত বিনিময় করা সেই রাজনৈতিক ময়দানে ইস্পাতের মতো শক্ত ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী মাকে খুজে বেড়াচ্ছে নিজের অজান্তেই৷ কখনো কখনো মা মা বলে ডাকতে গিয়ে থমকে দাড়িয়েছেন ৷ মা যে বিদায় নিয়েছেন তা মেনে নিতেও কষ্ট হচ্ছে। সেই মা কে ঘিরে স্মৃতিচারন করতে গিয়ে মুষড়ে পরেছেন সেই চিরচেনা শক্ত মনোবলের অধিকারীনী মেয়র আইভী
আমার মা অনেক পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। নিজে রান্না করতেন, নিজের কাজ নিজে করতেন। মাকে গত ১১ বছরের মধ্যে কখনো হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়নি। বার্ধক্যজনিত কারণে বছরে এক দুইবার জ্বর, ঠান্ডা হলেও ওষুধ খেয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতেন। ফলে কখনো বড় কোন ডাক্তার দেখাতেও নিতে হয়নি। আমরা যে মাকে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো সেই সুযোগটাও মা আমাদের দেয়নি।’
ইস্পাতের মতো রাজনৈতিক ময়দানে শক্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী উল্লেখিত কথাগুলো বলতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পরেন
বুধবার (২৮ জুলাই) বিকেলে শহরের পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় ‘চুনকা কুটির’ নামে মেয়র আইভী বাসভবনে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ ও পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম সমবেদনা জানাতে গেলে তাদের সঙ্গে মা মমতাজ বেগমকে নিয়ে স্মৃতিচরণ করার সময় কথাগুলো বলেন মেয়র আইভী।

তিনি বলেন, ‘আমি মায়ের পাশেই বিছানায় ঘুমিয়েছি। আমি মায়ের খুব কাছে ছিলাম। মা খুব ধর্মপরায়ন নামাজী মানুষ ছিলেন। মারা যাওয়ার কয়েকদিন আগেও কথায় কথায় বলছিলেন যে, বাবা এসে মাকে নিয়ে যাবে। এভাবে যে চলে যাবে সেটা বুঝতে পারিনি।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন মেয়র আইভীর ছোট ভাই শহর যুবলীগের সেক্রেটারী আহম্মদ আলী রেজা উজ্জল, জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির, জেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রানু খন্দকার, সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ আফসানা আফরোজ বিভা সহ মেয়র আইভীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
প্রসঙ্গত গত ২৫ জুলাই বিকেলে বার্ধক্যজনিত কারণে শহরের পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় নিজ বাসায় বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রয়াত চেয়ারম্যান নগরপিতাখ্যাত আলী আহম্মদ চুনকার স্ত্রী ও সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর মা মমতাজ বেগম (৭৩) ইন্তেকাল করেন। বাদ এশা বাড়ির পাশে বাইতুন নূর জামে মসজিদে মরহুমার নামাজে জানাযা শেষে মাসদাইর কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।









Discussion about this post