এনএনইউ রিপোর্ট :
”কথায় আছে কাকের মাংশ কাকে খায় না। কিন্তু পুলিশের ক্ষতি পুলিশ ই করে।” এমন প্রবাদ টি গত দুইদিন যাবৎ নারায়ণগঞ্জের পুলিশের মাঝে সর্বত্র চাউর হচ্ছে। কারণ হিসেবে পুলিশের অনেক সদস্যই বলেছে মাত্র তিন মাস ৭ দিনের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ থেকে পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানকে বিদায় করতে তারই ব্যাচমেন্ট অপর একজন পুলিশ সুপার আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে।
একটি মাত্র ছবিকে পুঁজি করে আনিসুর রহমানের উপর দেয়া হচ্ছে নির্বাচনী রং। তা হলো প্রধানমন্ত্রীর সাথে পুলিশ সুপার তার স্ত্রী সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট ফাতেমাতুজ্জহুরা (শ্যামলী) ও শিশু সন্তান আদরজান কে সাথে নিয়ে ছবি তোলার পর তা সংবাদের শিরোনাম হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃস্টি হয় পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মাঝে। আর এই সুযোগে নির্বাচনে নিরপেক্ষ কর্মকর্তার ধোয়া তুলে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করা হয় পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানকে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানকে প্রত্যাহরের ঘটনায় অনেক পুলিশ সদস্য আলোচনা সমালোচনা করে জানান, প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ছবি তোলা ছাড়াও গোপালগঞ্জের তকমা লাগিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে কৌশলে বিদায় করা হলো। নারায়ণগঞ্জে বদলী হতে এরই মধ্যে গাজিপুরের সাবেক পুলিশ সুপার হারুনুর রশিদ হারুন জোড়ালোভাবে চেস্টা-তদ্বির চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সূত্র দিয়ে। এরই মধ্যে এসপি হারুন নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের সংবাদ কিছু গণমাধ্যম প্রকাশ করলেও এখনো পর্যন্ত এই সংবাদের কোন সত্যতা প্রকাশ করে নাই জেলা পুলিশের কোন সূত্র।
তবে স্টেনোগ্রাফার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমাদের কাছে এখনো পর্যন্ত কোন নির্দেশনা আসে নাই।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পুলিশের মধ্যে কি যে রাজনীতি হয় তা অনেকেই জানেন না। কাকের মাংশ কাকে খায় না, তবে পুলিশের শত্র খোদ পুলিশ ই। আলফা ওয়ানকে (এসপি ) বিদায় করে কোন ওসি বা দারোগা তো আর এই চেয়ার চালাতে পারবে না । এই চেয়ারে একজন এসপি ই আসবেন। মূখ খুলে কথা বলতে গেলে চাকরী হারানোর ভয় আছে। কে এই চেয়ারে আসে তা বলাা যায় না । তবে বিতর্কিত কোন এসপি নানা তদ্বিরে যদি নারায়ণগঞ্জে যোগদান করে তবে নারায়ণগঞ্জ বাসীর ললাটে কি যে দুঃখ অপেক্ষা করছে তা সময়ই বলে দেবে। এখন নারায়ণগঞ্জবাসীর ই উচিত হবে বিতর্কিত কেউ যেন আর কস্টের বোঝা হয়ে না আসে।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা আরো জানান, হেডকোয়ার্টারে স্বচ্ছ মানষিকতার প্রায় চারজন পুলিশ সুপার পোস্টিংয়ের জন্য অপেক্ষা করছেন। তাদের ইমেজ নিয়ে পুলিশের মাঝেও কোন দ্বিমত নাই। স্বচ্ছ ইমেজের অধিকারী এমন কোন পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জে নিয়োগ দিলে জন সাধারণ শান্তিতে ঘুমাতে পারবে । যেমন শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের বর্তমান পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার শান্তির জনপথে রূপান্তরিত করেছে গাজীপুরকে।









Discussion about this post