স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে কৃত্রিম যন্ত্রণার শিকার হচ্ছেন একটি ওয়ার্ডের রোগীরা। ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি রেখেই দেয়াল ভাঙ্গার কাজ চলছে। এ কাজে বড় বড় হাতুড়ি-হ্যামার ব্যবহার হচ্ছে। এতে প্রচন্ড শব্দে কান জ্বালাপালা রোগীদের। একই সাথে পুরো হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলি ধূলিময় হয়ে পড়ে। এই অবস্থায়তেই রোগীরা খাবার-দাবার সারেন এবং কানে বালিশচাপা দিয়ে অসহায়ের মতো বিছানায় শুয়ে দিন পার করেন রোগিরা।
যেখানে হাসপাতালের সামনে কোন হর্ণ বাজানো নিষিদ্ধ, সেখানে খোদ হাসপাতালের ভেতরে শয্যাশায়ী রোগীর সামনেই ধুমধাম শব্দে দেয়াল ভাঙ্গার কাজ করা কতটা সমীচিন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। সোমবার (১৪ জানুয়ারি) হাসপাতালে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।
নগরীর খানপুর এলাকায় অবিস্থত নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল। এটি ৫০০ শয্যা করার নিমিত্তে বর্তমানে সেখানে ভাঙ্গা-গড়ার কাজ চলছে। তবে সেটি হাসপাতালের বাইরে। রোগীদের ওয়ার্ডে চলছে দেয়ালে টাইলস করণের কাজ ।
হাসপাতালের ২য় তলার উত্তর পাশে ২২নং ওয়ার্ড। এটি মেডিসিন ও সার্জিক্যাল রোগীদের জন্য। সহজ করে বললে এটি অপরাশেনযোগ্য রোগীদের ওয়ার্ড। কিছুদিন আগে শুরু হয়েছে এই ওয়ার্ডের পূর্ব দিকের দেয়াল ভাঙ্গার কাজ। যা এখনও চলমান। একদিকে শয্যাশায়ী রোগী, আরেকদিকে দেয়ালে নির্মাণ শ্রমিকদের শক্ত হাতে বড় বড় হাতুড়ি-হ্যামারের ক্রমাগত আঘাত। প্রচন্ড শব্দের কারণে সেখানেই সুস্থ যে কোন ব্যাক্তির কিছু মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থাকা দায়। তার ওপর ভাঙ্গা দেয়ালের ধুলার কারণে ওয়ার্ড ছাড়াও পুরো হাসপাতালের পরিবেশ হয়ে উঠেছে অস্বাস্থ্যকর।
সাধারণত এই ওয়ার্ডে ৫০ জন রোগী থাকার কথা। সোমবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায় জনাবিশেক রোগী। বাকী শয্যার রোগীরা কোথায় আছেন, সে খবর কেউ দিতে পারেনি কেউ। 
সংবাদকর্মীর খবর পেয়ে এক রোগীর অভিভাবক ছুটে এসে কথা বলা শুরু করেন। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘এটা কোন হাসপতাল হইলো। এই অবস্থায় সুস্থ মানুষও খারাপ হইয়্যা যাইবো। ধুম ধুম আওয়াজ কানে আইতেই থাকে। কতক্ষণ টেকা যায় কন ? রোগীরা কানে বালিশ চাইপ্যা শুইয়্যা থাকে। কেউ কেউ দিনের বেলা বাইরে থাকে। কাম বন্ধ হইলে বিছানায় আহে। হাসপাতালের ঢুকার সময় বড় গেটে একটা বোর্ডে লেখা দেখলাম, হর্ণ বাজানো নিষেধ। আর বিতরে আইহ্যা দেহি হরনের বাপ। এর কি কোন বিহিত নাই ?’ ডাক্তারদের কাজের সময় এমন ভাঙ্গনোর কাম কি করতে পারবো ? এটাকে হাসপাতাল বলা যায় ? নাকি গোলাল ঘর কমু ?
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়ার্ডে এক সেবিকা বলেন, ‘ভাই যন্ত্রণায় আছি। কিচ্ছু করার নাই চাকরির স্বার্থে সব সহ্য করে যাচ্ছি। মুখে মাস্ক পড়ে কাজ করি। এই কৃত্রিম যন্ত্রণা যে কবে শেষ তা কেউ বলে না। রোগীদের নানা কথায় আমরাও ত্যক্ত-বিরক্ত। তিনি বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা না করে এভাবে দেয়াল ভাঙ্গার কাজ করাটা কোনমতেই ঠিক হচ্ছে না। এতে শুধু রোগীরাই যন্ত্রণা পাচ্ছে না, পাশাপাশি হাসপাতালের ভাবমূর্তিও নষ্ট হচ্ছে ।
এমন কান্ডজ্ঞানহীন কর্মকান্ডের বিষয়ে ৩শ শয্যা হাসপাতালের সুপার আবদুল মোতালেব হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন িএই ঠিকাদার কোন আইনই মানেন না । তার ইচ্ছেমাফিক অসুস্থ্যদের আরো অসুস্থ করে তুলছে । এ পর্যন্ত আমাদের সাথে দেখাও করে নাই। কি করে কাজ করছে তাও বুঝি না ।
হাসপাতালের এমন কাজের ঠিকাদার সদর উপজেলার সস্তাপুরের জাহিদুর রহমানকে পাওয়া না গেলেও তার নিয়োজিত কাজের তদারককারী রেজাউল জানায়, আমাদের কাজ করতে বলেছে আমরা কাজ করতেছি । তবে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারতেছি অসুস্থ্যরা আরো অসুস্থ্য হয়ে পরতেছে এমন ধুলোবালি ও বিকট শব্দে দেয়াল ভাঙ্গার কারণে।









Discussion about this post