এনএনইউ রিপোর্ট :
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর বাবু ও সদর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ফুটবলার সালাউদ্দিনকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার ঘটনায় চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মাঝে । ১৭ নং ওয়ার্ড পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা সালাউদ্দিন দেওয়ানকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ গত রোববার রাতে পুলিশ আটক করে ১০০ পিছ ইয়াবাসহ গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ পাটালে কারাগারে পাঠায় বিজ্ঞ বিচারক। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচানর ঝড় উঠেছে শহরের সর্বত্র।
এলাকাবাসী ও পরিবারের অভিযোগ থেকে জানা যায়, রবিবার রাতে কাউন্সিলর আব্দুল করীম বাবুর সহযোগিতায় পুলিশ তার নিজ বাড়ি থেকে তুলে আনে। পরে রাতভর চলে দরকষাকষি। দাবী করা হয় ৫ লাখ টাকা। টাকা দিলে সালাউদ্দিনকে ছেড়ে দেবার কথা বলে পুলিশ গ্রেফতারকৃতের পরিবারকে বলা হয়। অপারগতায় ৫ লাখ নেমে আসে ৩ লাখ টাকায়। এক পর্যায়ে পরিবারকে থানায় বসিয়ে রেখেই বেদম পেটানো হয় সালাউদ্দিন দেওয়ানকে।
এলাকবাসীর দাবি, সম্প্রতি নাসিকের ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে খারাপ আচরণ করায় এর প্রতিবাদ করেছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাদির। এ সময় কাদিরের সাথে সাথে সাথে সালাউদ্দিনও বাবুর ওই কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করে। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ দিয়ে তাকে মাদক দিয়ে ফাঁসানো হয় ।
এ বিষয়ে সদর থান পুলিশ জানায়, ১৭ নং ওয়ার্ড পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা সালাউদ্দিন দেওয়ানকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
শহরের ফুটবলার সালাউদ্দিনকে আটকের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি অপরাধীই আটক হওয়ার পর নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেন আর তাখনই পুলিশের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেন। এটাও ঠিক তেমনটি হয়েছে। তাছাড়া এতো সংখ্যক ইয়াবা দিয়ে তাকে আমরা কেন ফাঁসাতে যাবো ? আমাদের লাভ কি ?”
কাউন্সিলর বাবু পুলিশের মাধ্যমে সালাউদ্দিনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে, এমন প্রশ্নে কামরুল ইসলাম বলেন, “তাকে যে দারোগা আটক করেছেন সে এই থানাতে একেবারেই নতুন। সে কাউন্সিলর বাবুকেও চিনে না। যে কথা ছড়াচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
থানায় আটক থাকাবস্থায় সালাউদ্দিন দেওয়ান জানায়, “১৯ জানুয়ারি মেয়র আইভী পাইকপাড়াতে গিয়েছিলেন একটি উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন করতে। উদ্বোধন শেষে মেয়র চলে গেলে কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু প্রকৌশলীদের গালাগালি শুরু করে। তখন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাদির ভাই এর প্রতিবাদ করে তথন বাবু কাদির ভাইকেও গালাগাল শুরু করে। এসময় কাদির ভাইয়ের পক্ষ হইয়া বাবুরে কইছি, ‘ওই মিয়া গালাগালি করো ক্যা ? এটা এলাকার মান সম্মান তুমি দুজন শিক্ষিত মানুষরে গালাগাল করবা। এই ছিলো আমার অপরাধ । যার কারণে আামরে ইয়াবা দিয়া জেলে পাটাইতাছে ।” আমি সিগারেট খাইনা, এলাকার সব মানুষ ই জানে। আমি মাদকের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদে সরব আছিলাম। স্থানীয় মানুষদের জিজ্ঞাসা করলে আমার সম্পর্কে জানতে পারবেন।”
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু তার বিরুদ্ধে অভিযোগে অস্বীকার করেন করে বলেন, “সালাউদ্দিনকে আমি দেখিও নাই । আমার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করে নাই। সালাউদ্দিনের পরিবারও আসছিলো আমার কাছে। আমি আরও ওসিকে রিকুয়েস্ট করেছি সালাউদ্দিনকে ছাড়াতে। আমি সব সদয় সালাউদ্দিনের পরিবারকে সহায়তা করে থাকি। আমার বিরুদ্ধে সালাউদ্দিন কোন প্রতিবাদ করে নাই । আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে মেয়র আইভী, তার বোন জামাই আবদুল কাদির, গম জসিম, খালিদরা। এরা আবার থানায় সালাউদ্দিনকে চাড়াতেও গিয়েছিলো ।
কাউন্সিলর আবদুল করিম বাবু ৫ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডের মুঠোফোনে আরো জানায়, আমার বিরুদ্ধে তার (সালাউদ্দিন) পরিবারের কোনো ক্ষোভ নেই। আমার প্রতি মেয়র আইভীর ক্ষোভ, কাদিরের ক্ষোভ, খালিদের ক্ষোভ। তাই তারাই আমার বিরুদ্ধে এসব ছড়াচ্ছে। আমি শুনেছি সালাউদ্দিন মাদকের ডিলার। তবে, সে বেচে কিনা আমি দেখি নাই।”
পাইকপাড়ার এলাকার অনেকেই জানিয়েছেন, সালাউদ্দিন দেওয়ান একেবারেই একজন ভদ্রলোক হিসাবে এলাকায় পরিচিত। তিনি ইয়াবা ব্যবসা করাতো দূরের কথা তিনি জীবনে একটি সিগারেটও পান করেননি। পাইকপাড়ার সকল মানুষই এটা জানেন। সালাউদ্দিন দেওয়ান পাইকপাড়ার দেওয়ান বাড়ির পরিচিত একজন মানুষ।









Discussion about this post