নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের একেক জন কাউন্সিলর কত বড় ক্ষমতাধর তা এবার প্রমাণ করেছেন ১নং ওয়ার্ড (সিদ্ধিরগঞ্জ) কাউন্সিলর ওমর ফারুক । নানাভাবে চাঁদাবাজি, লুটপাটসহ এমন কোন অপকর্ম নাই যা ওমর ফারুক ও তার বাহিনী দ্বা সংগঠিত হচ্ছে না । কুক্ষাত খুনি নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এই কাউন্সিলর ওমর ফারুক এবার পিতা পুত্রের লাশ দাফনে বাধা দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা সিদ্ধিরগঞ্জের দন্ডমূর্তের হোতা ।
পিতা পুত্রের এমন মৃত্যুতে যখন পুরো নারায়ণগঞ্জ শোকে মুহ্যমান তথন করোনা ভাইরাসের দোহাই দিয়ে লাশ দুটি দাফন করতে দেয় নাই এই অপরাধী চক্র ।
অপরাধী চক্রের হোতা কাউন্সিলর ওমর ফারুকের সাাথে সাথে তাদের পৃষ্টপোষকদেরকে এমন ন্যাক্কারজনক কাজের জন্য বিচারের দাবী জানিয়েছেন এলাকার শান্তিপ্রিয় জনসাধারণ । যারা এমন ঘুন্য ঘটনার পরও মুখ খলেতে সাহস করছে না এই অপরাধীদের বিশাল অবৈধ অস্ত্র ভান্ডারের কারণে । কাউন্সিলর ওমর ফারুকের অপরাধ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে কেউ কোন প্রতিবাদ করতে চাইলে নূর হোসেনের রেখে যাওয়া অস্ত্র প্রদর্শন করে নানাভাবে হুমকি দেয় বলেও চাউর রয়েছে এলাকায়
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :
করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া রিমন হোসেন সাউদের লাশ নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পাইনাদী ঈদগাহ করবস্থানে নাসিকের স্থানীয় কাউন্সিলর ওমর ফারুক দাফন করতে দেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রিমন হোসেন সাউদ করোনার উপসর্গ নিয়ে একাধিক হাসপাতালে ঘুরে বিনা চিকিৎসায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তবে রিপোর্টে রিমনের করোনা নেগেটিভ এসেছে।
স্বজনদের অভিযোগ, নাসিকের ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুক রিমনের লাশ দাফন করতে বাধা দিলেও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা রিমনের বাবার লাশ একই কবরস্থানে দাফন করতে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওই করবস্থানে রিমনের লাশ দাফন করতে না পেরে পরবর্তীতে রিমন ও তার বাবার লাশ সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলোরোড এলাকাস্থ কবরস্থানে দাফন করা হয় সোমবার বিকেলে। করোনা সন্দেহে তার লাশ দাফন করতে দেয়া হয়নি। অথচ রিমন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না।
মৃত ইয়ার হোসেনের জামাতা মো. রানা ভূঁইয়া বলেন, ১১ মে ভোর ৩টার দিকে তার শ্যালক রিমন সাউদ (২৭) অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ডস্থ প্রো-এ্যকটিভ হাসাপাতাল ও পরবর্তীতে পুরান ঢাকার আজগরআলী হাসপাাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু করোনার উপসর্গ জ্বর, ঠান্ডা, কাশি থাকার কারণে কোন হাসপাতালে তাকে ভর্তি করেনি। অবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ভোর ৬টার দিকে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। একমাত্র ছেলে মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হন আমার শ্বশুর ইয়ার হোসেন। তাকেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সকাল ৭টায় তিনিও মারা যান।
তিনি আরো বলেন, আমার শ্যালকের করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তার নিউমোনিয়া হয়েছে। সে করোনায় আক্রান্ত ছিল না। তার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।
ইয়ার হোসেনের ছোট ভাই সানিক হোসেন জানায়, আমার ভাই ইয়ার হোসেন ও ভাতিজার লাশ দাফনের জন্য আমরা সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি পাইনাদী ঈদগাহ কবরস্থান গেলে সেখানে আমার ভাতিজা রিমন সাউদের লাশ দাফন করতে দেবে না বলে জানিয়ে দেন নাসিক ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুক। তবে আমার ভাই হাজী ইয়ার হোসেনের লাশ দাফন করতে দিতে সম্মত হয় কাউন্সিলর ওমর ফারুক। এতে আমরা হতবাক হয়ে পড়ি। পরবর্তীতে আমরা সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলোরোডস্থ মহিউদ্দিন ইমদাদুল উলুম কওমী মাদ্রাসায় নামাজে জানাজা শেষে পাশ্ববর্তী কবরস্থানে তাদের উভয়ের লাশ দাফন করি।
রিমনের লাশ সিদ্ধিরগঞ্জের ওই কবরস্থানে দাফন করতে না দেয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার দিনভর বিভিন্নস্থানে এ নিয়ে সমালোচনা করতে দেখা গেছে এলাকাবাসীকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিদ্ধিরগঞ্জ বাজারের এক ব্যবসায়ী জানায়, করোনা আক্রান্ত হলেও লাশগুলোতো দাফন করতে হবে। এছাড়া আমরা জানি মৃত্যুর ৩ ঘন্টা পর লাশের শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবানু থাকে না। সেখানে একজন কাউন্সিলর কিভাবে লাশ দাফন করতে বাধা দেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। প্রয়োজনে তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করতে পারতেন কিন্তু সেটা না করে লাশ দাফন না করতে দেয়াটাও অমানবিক।
এ বিষয়ে জানার জন্য নাসিক ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুকের ব্যবহৃত মুঠোফোনে (০১৭৩১১৫৫০০৭ ও ০১৫৫১১৫৫০০৮) একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।









Discussion about this post