ষ্টাফ রিপোর্টার :
শিক্ষকরা তাদের মহান পেশাটি কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন ? কতটা নীচু মনের মানুষ হলে মানুষ গড়ার কাড়িগরখ্যাত শিক্ষকরা কোচিং সেন্টারে ছাত্রী ধর্ষন, বলদকারের ঘটনা ঘটাতে পারে তার অনেক প্রমাণ পাওয়া গেলেও এবার পিতৃতুল্য স্কুলের দপ্তরীকে বলৎকারের ফুটেজ হাতে পেয়ে প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিবকে আটক করায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে নগরজুড়ে।
মঙ্গলবার ৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে অভিযোগের ভিত্তিতে দাপা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রধান শিক্ষককে আটক করে ফতুল্লা থানা পুলিশ। এমন ন্যাক্কার জনক ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে খোদ নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নামও ব্যবহার করেছে পুলিশের হাতে বদৎকারের অভিযোগে আটক দাপা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব ।
এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে প্রধান শিক্ষক ফতুল্লা থানায় উপস্থিত হয়ে বিদ্যালটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির পদ দখল করার জন্য স্থানীয় সিরাজ মিয়া তাকে আপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে মারধর করেন। এছাড়া ফতুল্লায় এসেও আরেক দফায় মারধর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়, অস্ত্রের মুখে মারধরসহ বিদ্যালয়ের সভাপতির পদে অধিষ্ঠিত করতে চাপ প্রয়োগ করে, সভাপতির পদে অধিষ্ঠিত হতে হলে মামীম ওসমান হজ্ব থেকে ফিরে আসার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এমন কথা বলার পর আবারো মারধর করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করে আহসান হাবিব।
অপরদিকে প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির অফিস সহায়ক বৃদ্ধ (দপ্তরী) বলাৎকারের অভিযোগ দায়ের করেছেন ফতুল্লা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তে নামে পুলিশ ।
দাপা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিবের পক্ষে এবং বিরুদ্ধে দায়ের করা এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করতে গিয়ে বেড়িয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য ।
পৃথক দুটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে এবং প্রধান শিক্ষকের কক্ষে স্থাপিত সি সি টিভির ফটেজ দেখে ফতুল্লা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মজিবুর রহমান জানান, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষ থেকে সিসি টিভি ক্যামেরার মেশিন জব্দ করা হয়েছে। দুজনের অভিযোগেরই গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চলছে।তবে প্রাথমিকভাবে সিসি ফুটেজে দেখা গেছে গত ২৬ ডিসেম্বর দুপুর ১ টা ১৫ মিনিটে বৃদ্ধ দপ্তরীকে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক বলৎকারের চিত্র পাওয়া গেছে ।
এ বিষয়ে দাপা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, স্থানীয় সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এতে স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে সিরাজুল নানাভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন। এ ব্যাপারে সিরাজুল ইসলাম জানান, বলাৎকার একটি অপরাধ। এটা কোনো সাজানো নাটক হতে পারে না। প্রধান শিক্ষকের অফিসে বলাৎকারের ঘটনা। সেই অফিসে সিসি টিভি ক্যামেরা ছিল। এ ক্যামেরা প্রধান শিক্ষকের অফিস থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ অপরাধের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।
এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ফতুল্রা থানা পুলিশের কর্মকর্তারা কোন মন্তব্য করার ক্ষেত্রে ”আমরা বিব্রতকর” বলে মন্তব্য করেন ।









Discussion about this post