এনএনইউ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন দক্ষিন কলাবাগ এলাকায় শনিবার ১৬ ফেব্রুয়ারী বিকেল ৩টায় তিন নারীকে যৌনকর্মী আখ্যা দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের নির্দেশক্রমে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ও তার টিম নিয়ে উক্ত মামলার মূল আসামী ইউসুফ মেম্বার কে গ্রেফতার করেছে।
বাকি আসামীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জ আরো বলেন, কেউ অপরাধ করে পার পাবে না। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে। কোন সুপারিশ বা তদবির চলবে না। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ পেশাদারীত্বের সাথে কাজ করবে।
উল্লেখ্য, তিন নারীকে এমন অসামজিক কার্যকলাপের অভিযোগে জেলার বন্দর উপজেলার দক্ষিন কলাবাগ এলাকায় তিন নারীকে অমানুষিক নির্যাতন করার ঘটনা তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। যৌনকর্মী অভিযোগে তিন নারীকে অমানুষিক নির্যাতন ছাড়াও চুল কেটে ফেলা, গাছের সাথে বেধে রাখা ও সবশেষ বাড়ীঘরে লুটপাটের ঘটনায় ধিক্কারের ঝড় উঠেছে । অনেকের অভিযোগ তিন নারী যদি যৌনকর্মী হয়েই থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যেতো । পুলিশ প্রশাসন আছে তাদেরকে অবহিত করা যেতো । আইন হাতে তুলে নিয়ে এমন ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ড চালালো কারা ?
এমন তোলপাড়ের ঘটনায় মানবাধিকার কমিশন নির্যাতিতাদের সাথে আলোচনার পর বন্দর থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ মামরা গ্রহণ করে তাৎক্ষনিক অভিযানে নামে।
তিন নারীকে অমানুষিক নির্যাতনের পর চুল কেটে গাছের সাথে বেধে ও লুটপাটের ঘটনায় বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেটকে বলেন, পতিতাবৃত্তির মতো কোন বিষয় থাকলে থানায় অবহিত করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিতাম। এভাবে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। এর জন্য পুলিশ আছে, প্রশাসন আছে। তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনায় আহতের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নির্যাতিতরা সামান্য সুস্থ্য হওয়ার পর মামলা দায়ের করলে পুলিশী অভিযানে মামলার মূল আসামী ইউসুফ মেম্বার কে গ্রেফতার করা হয়েছে । বাকীদের গ্রেফতার করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে ।
Discussion about this post