এক দিনমজুরকে হাতকড়া পড়িয়ে ব্যাপক মারধর ও মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
নির্যাতনের শিকার গোলাপ হোসেন নামে ওই ব্যক্তির অভিযোগ, বাড়িওয়ালার স্ত্রীর সাথে তর্কবিতর্কের জেরে বন্দর থানার এসআই শহিদুল তাকে বেধরক মারধর করেন।
গত ৭ অক্টোবর রাতে ঘটে বলে জানান তিনি।
নির্যাতনের শিকার গোলাপ হোসেন বন্দরের সোনাকান্দার পানির ট্যাংকি এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন।
তার মা বলেন, গ্যাসের চুলায় একটা ভেজা প্যান্ট শুকাতে দিয়েছিল গোলাপ। এ নিয়ে বাড়ির মালিকের স্ত্রী মমতাজ বেগমের সাথে তর্কবিতর্ক হয়। এ ঘটনায় মমতাজ বেগম বন্দর থানা পুলিশের এসআই শহিদুল ইসলামকে ডেকে আনেন। এসআই শহিদুল ঘরে ঢুকেই হাতে হাতকড়া পরিয়ে ছাতা দিয়ে বেধরক পেটায় গোলাপকে। এসআই মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন গোলাপের মা।
শরীরের আঘাতপ্রাপ্ত স্থানগুলো দেখান গোলাপ। তার মুখের বেশ কয়েকটি স্থান ফোলা দেখা যায়। পিঠ এবং হাত পায়ের কয়েকটি স্থানে কালোশিরা পড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘বাড়িতে ঢুইকাই এলোপাথারি মারধর শুরু করে দারোগা শহিদুল। কেউ অভিযোগ করলে আগে তো যাচাই করবো। কোনো কথা বলারই সুযোগ দেয় নাই। ধুমধাম মারছে।’
গোলাপের মা বলেন, ‘বাড়িওয়ালী পুলিশ ডাইকা আনে। বাড়িতে ঢুইকাই পোলারে মাইর শুরু করে।’ ঘরের ভাঙ্গা একটি ছাতা দেখিয়ে বলেন, ‘আমার পোলার শরীলে এই ছাতাটা ভাঙছে। ছাতা দিয়া পিটাইছে আবার লাত্থি, ঘুষাও মারছে। বাড়িওয়ালীর মুখের কথায়ই পুলিশ এমনে মারলো।’
যোগাযোগ করা হলে বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি ছুটিতে আছেন। তার মা অসুস্থ তাকে নিয়ে হাসপাতালে আছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মারধরের বিষয়ে অস্বীকার করে তিনি বলেন, ডিউটিরত অবস্থায় রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দেখেন এক বৃদ্ধার গলায় চাপ দিয়ে ধরেছেন গোলাপ। এই ঘটনা দেখে গাড়ি থামিয়ে ধমক দিয়ে চলে আসেন তিনি।
এসআই শহিদুল বলেন, ‘ওয় (গোলাপ) মাদক ব্যবসায়ী। মাদকের মামলায় কয়েকদিন আগে গ্রেফতারও হইছিল। মারধরের অভিযোগ মিথ্যা।’
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুদ্দীন ভূইয়া বলেন, মারধরের বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









Discussion about this post