নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মোহাম্মদ শাহ আলম। জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংবাদকরর্মীদের কাছে ।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মোহাম্মদ শাহ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, স্বাস্থ্যগত কারণে এই পদে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয় বলে পদত্যাগ করেছি।
শাহ আলম বলেন, ‘দেশ, জাতি ও জনগণের সেবা করার জন্য রাজনীতিতে এসেছিলাম। তবে আমার মা-বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত আফিয়া-জালাল ফাউন্ডেশন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত জান্নাহ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আজীবন জনগণের সেবা করে যাব। জনকল্যাণমূলক কাজে দলমত-নির্বিশেষে সকল এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করি।’
নাশকতার মামলা দায়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন গত সেপ্টেম্বরে আমার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ১১টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সম্প্রতি এই বিষয়ে অবগত হয়ে উচ্চ আদালত থেকে নাশকতার ওই মিথ্যা মামলায় জামিন পেয়েছি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, মোহাম্মদ শাহ আলমের এমন পদত্যাগ ও বিগত নির্বাচনে নানা আলোচনা ও সমালোচনার পর অনেকটাই রাজনীতি থেকে পিছিয়ে গেছেন তিনি । আর এই রাজনীতির পিছনে একজন প্রভাবশালীর ভূমিকা নিয়েও রয়েছে সমালোচনা । একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও নাটকীয়ভাবে শেষ মুহূর্তে এসে ২০-দলীয় জোটের উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এলাকায় অপরিচিত মনির হোসেন কাসেমীকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ায় জেলা বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা ওই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হন। এই মনোনয়ন বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন এসব নেতা-কর্মী। মনির হোসেন কাসেমীকে ভোটের মাঠে দেখা যায়নি এবং কোনো ভোট কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দেননি। নির্বাচনের চার দিন আগে অসুস্থতার অজুহাতে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।
অনেকেই সমালোচনা করে আরো বলেন, ২০০৮ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ শাহ আলম আওয়ামী লীগের প্রার্থী সারাহ বেগম কবরীর সঙ্গে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ২ হাজার ১০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এবার নির্বাচনের আগে ও পরে কি কি হয়েছে তা এলাকার সকলেই জানেন বলেও মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা ।









Discussion about this post