ষ্টাফ রিপোর্টার :
”মোবাইল কোর্ট আইতেছে”- এমন খবরে নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও শহরের সকল নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরীর কারখানা এবং পলিথিনের পাইকারী ও খুচরা দোকান সকাল থেকেই বন্ধ হয়ে যায় । বিশেষ করে শহরের ২নং রেল গেইট এলাকার বাবুল ও তার মেয়ের জামাতার ছোয়া এন্টার প্রাইজ, চাঁদাবাজ সাগরের দোকান ও ফ্যাক্টরী, টানবাজারের লিটন ও রাজিবের ফ্যাক্টরী, দিগুবাবুর বাজারের অঞ্জন, সিদ্দিকের পাইকারী দোকান, শাহাপাড়ার বাদল সাহার ফ্যাক্টরীসহ সকল নিষিদ্ধ পলিথিন ও উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়ে সটকে পরে অসাধু ব্যবসায়ীরা।
নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানায় তালা দিয়ে সটকে পরার প্রাক্কালে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে ফতুল্রার ভোলাইল এলাকার এক ম্যানেজার জানায়, কেনই বা এরা নিষিদ্ধ ব্যবসা করে আর কেনই বা ভ্রাম্যমান আদালতের নাম শুনে কারখানা, দোকান বন্ধ করে ? অপরাধ করার ই বা দরকার কি আবার পালানোর ই বা কি প্রয়োজন ! আমি ভাই পেটের দায়ে এদের এখানে চাকুরী করি। নারায়ণগঞ্জে এই নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরী ও ব্যবসার গডফাদার হলো ২নং রেল গেইটের বাবুল ও তার মেয়ের জামাই । একই সাথে এই নিষিদ্ধ ব্যবসা করে সাগর আজ কোটি কোটি টাকার মালিক। এই সাগর নারায়ণগঞ্জের সকল পলিথিনের কারখানা ও দোকান থেকে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা উঠায় ডিসি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের নামে । ডিসি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের নাকি বিশাল টাকা দিতে হয় । আর এই টাকার দেয়ার কারণে কখন মোবাইল কোর্ট অভিযান চালাবে তার আগেই খবর দিয়ে দিলে আমরা কারখানা ও দোকান বন্ধ করে দিয়ে সটকে পরি । নইলে জেল জরিমানা দিতে হবে।
যেমন গত রোববার ২৭ জানুয়ারী বিকেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূসরাত আরা খানমের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট অভিযান চালায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার জালকুড়ি পশ্চিমপাড়া মাঝার রোড এলাকার বাবুল মিয়ার নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরীর কারখানায়। কয়েক মাস যাবৎ বাবুল মিয়া পলিথিনের গডফাদার সাগর ও বাবুলের কাছে চাঁদা না দেয়ায় এমন অভিযান চলেছে বলে সকলের কাছে খবর আছে । যার কারণে এই অভিযান চালিয়ে ৭৭ বস্তা পলিথিন, ২১ বস্তা পলিথিন তৈরীর কাঁচামাল ও বেশ কিছু মেশিনারীজ জব্দ করা হয় মোবাইল কোর্ট।
এমন অভিযানের পর কয়েকটি কারখানা থেকে গত দুদিনে সাগর ও বাবুলচক্র শহরের দিগু বাবুর বাজারের অঞ্জন, সিদ্ধিকসহ চারটি নিষিদ্ধ দোকান থেকে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করে । একই ভাবে খানপুরের বৌ বাজারের পলিথিনের কারখানার মালিক সবুজ, নয়ামাটির শ্যামা সুন্দর সাহা, টানবাজারের রাজিব, লিটন, এক্সপোর্ট ব্যবসায়ী বাদল সাহা, জে জে পলি ফ্যাক্টরীর লোকমান, ২নং রেল গেইটে এলাকার সোহাগের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের চাঁদা আদায় করার পর আজ আবার মোবাইল কোর্ট অভিযান চালাবে বলে সকল ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে । তাই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রির সকল দোকান ও কারখানা বন্ধ রাখা হয় ।
গামেন্টসের জন্য বিদেশ থেকে আমদানী করা পলিথিনের দানা অসাধু পথে নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরী করতে একটি বিশাল চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ জেলা প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা, থানা ও ডিবি পুলিশের অসাধু কর্মকর্তাদের নিয়মিত মোটা অংকের মাসোয়ারা দিয়ে সরকারের কঠোর আইন থাকলেও তা না মেনে অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ।
বিগত সময়ে জেলা প্রশাসনের এনডিসি মাঞ্জারুল মান্নান নারায়ণগঞ্জ নিষিদ্ধ পলিথিনের গডফাদার বাবুলের কয়েক ট্রাক নিষিদ্ধ পলিথিন আটক করলেও তোলপাড়ের ঝড় উঠে শহরজুড়ে। এরপর আর বাবুলসহ অন্যান্যদের অনেক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দেখা না যাওয়ায় সমালোচনা রয়েছে সর্বত্র ।
নারায়ণগঞ্জের নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরীর কারখানার মালিক ও সকল প্রতিষ্ঠান থেকে চাদা আদায়কারী নিষিদ্ধ পলিথিনের গডফাদার সাগরের সাথে অসংখ্যবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নাই ।









Discussion about this post