নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে হোম কোয়ারেন্টিন এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য আজ বৃহস্পতিবার থেকে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ প্রশাসনসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। এরপরও নিজ নিজ ঘরে থাকছেন না অসচেত বিশাল জনগোষ্ঠি ।
নারায়ণগঞ্জ শহর ও উপজেলা পর্যায়ের সকল প্রধান প্রধান সড়কে লোক সমাগম খুব এটা দেখা না গেলেও প্রতিটি পাড়া মহল্লা, অলি গলিতে প্রচুর মানুষের লোক সমাগম কোন অবস্থাতেই থামোনো যাচ্ছে না।
বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সেনাবাহিনী আজ থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার অংশ হিসেবে দেশের সব স্থানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টিনের বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করবে। সরকারের দেয়া নির্দেশাবলি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এর পক্ষ থেকে এমন ঘোষনার পর করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে তৎপড়তা শুরু করে সেনা বাহিনীসহ পুলিশ সদস্যরা। কোয়ারেন্টিন অমান্যকারীদের ক্ষেত্রে প্রথম দিকে কিছুটা নমনীয় আচরণ করলেও এখন অবস্থান পাল্টেছেন বাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাহির হলেই ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে তাদের।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পণ্যবাহী যানবাহনসহ সকল পরিবহনকে পুলিশের চেকপোস্ট পার হতে হয়েছে কঠোরভাবে। প্রতিটি যানবাহনকে শহরে ঢুকতে হয়েছে উপযুক্ত প্রমাণ সহকারে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ মোটর সাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রো কিংবা রিকসাযোগে আসলে তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছিল।
চাষাড়া পুলিশ বক্সের ইনচার্জ মো.সোরহাব জানান, দুই-তিনজন একসাথে বের হয়ে আসছে ব্যাংকের কাগজ কিংবা প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে নগরীতে প্রবেশ করছে। তাদের মধ্যে অনেকেই আমাদের মনে হয়েছে বিনা কারণে প্রবেশ করছে, তারপরও জরুরি প্রয়োজনের অংশ হিসেবে তাদেরকে আমরা প্রবেশ করতে দিচ্ছি। এছাড়াও, অযথা অনেকেই মোটরসাইকেল বা রিকসা যোগে বেড়িয়ে এসেছেন। তাদের অনেকেই আমরা বাড়ি ফিরিয়ে দিয়েছি।
জেলা শহরের এমন পরিস্থিতি হলেও মহানগরীর প্রতিটি পাড়া মহল্লার মধ্যে দেওভোগ , কাশিপুর , ফতুল্রার প্রিতিটি এলাকা, বাবুরাইল , পাইকপাড়া, নিতাইগঞ্জ, নলুপাড়া, শহীদনগর , ডিয়ারাসহ এমন কোন পাড়া মহল্লা নাই যেখানে লোকজনের সমাগম দেখা যায় নাই ।
করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশে জরুরী সেবা ছাড়া সকলকে ছুটির ঘোষনার আওতায় আনার জন্য বিশেষ আদেশ দেয়া হলেও কেউ সরকারী এই আদেশ মেনে নিজ নিজ ঘরে থাকছেন না ।
এমন ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন অভিজ্ঞ মহলের দাবী, শহরের পাশাপাশি প্রতিটি পাড়া মহল্লার অলি গলিতে কঠোর হাতে অসচেতন বিশাল জনগোষ্টিতে ঘরে আবদ্ধ করা জরুরী । পাড়া মহল্লায় কঠোরতা নিশ্চিত করা হলো শহরের লোক সমাগম একেবারেই নিয়ন্ত্রিত হবে ।









Discussion about this post