সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
সিদ্ধিরগঞ্জে তিতাস গ্যাসের পাইপ সরানো নামে নিরিহ এলাকাবাসীর কাছ থেকে তালিকা করে চাঁদা আদায়ে মাঠে নেমেছেন বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগে যোগদান করা রওশন আলী ওরফে রওশন চেয়ারম্যান।
বহিরাগত (যারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে এসে বাড়ি করেছেন) শতাধিক নিরিহ ব্যাক্তিদের টার্গেট করে তার অনুসারী কালাম ও আনোয়ারের মাধ্যমে দিয়ে ৩ থেকে ৫ হাজার করে টাকা আদায় করছেন।
নাসিক সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ডের মিজমিজি বাতানপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকার শতাধিক নিরিহ বাড়ির মালিকের কাছ থেকে এ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নাসিক ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওমর ফারুক জানান, কয়েক জন এলাকাবাসী আমাকে ফোন করে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন, আমি ঐ এলাকার লোকজনকে বলে দিয়েছি আপনারা কাউকে চাঁদা দিবেন না। এটা তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাজ এটার সমাধান তারা করবে।
এলাকাবাসী জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ পুল পাগলাবাড়ি থেকে জালকুড়ি যাওয়া ক্যানেল এবং রাস্তার উন্নয়ন কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ঐ রাস্তা দিয়ে তিতাস গ্যাসের ২ ইঞ্চি পাইপ লাইন রয়েছে। যা রাস্তার মাঝ খানে পড়ে যাবে। ঐ পাইপ লাইন তুলে রাস্তার এক পাশে নেওয়ার কথা বলে প্রতি বাড়ি থেকে রওশন আলী ওরফে রওশন চেয়ারম্যানের অনুসারী কালাম ও আনোয়ারের মাধ্যমে ৩ থেকে ৫ হাজার করে টাকা করে জোর পূর্বক চাঁদা আদায় করছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে নানা ভাবে হুমকী ধমকী দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মিজমিজি বাতানপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকায় অধিকাংশ লোকজন বহিরাগত (যারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে এসে বাড়ি করেছেন)। তাই নব্য আওয়ামীলীগ নেতা রওশন চেয়ারম্যানের ভয়ে এলাকার লোকজন তটস্থ থাকে।
এছাড়াও রওশন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি সিন্ডিগেট করে মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকায় শতশত বাড়ি ঘরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সে শত শত বাড়ি ঘরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ রাখ টাকা।
এ বিষয়ে কথা হলে রওশন আলী দাবি করেন, এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতেই আমি এ উদ্যোগ নিয়েছি। সিদ্ধিরগঞ্জ পুল থেকে জালকুড়ি যাওয়া ক্যানেল এবং রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলছে। ঐ রাস্তা দিয়ে তিতাস গ্যাসের ২ ইঞ্চি পাইপ লাইন রয়েছে। যা রাস্তার মাঝ খানে পড়ে যাবে। এটা তুলে রাস্তার পাশে নেওয়া প্রয়োজন। তাই এ কাজ করতে হলে তিতাস গ্যাসকে টাকা দিতে হবে। জানতে চাইলে তিতাস কর্তৃপক্ষকে কোন আবেদন করেছেন কি না? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা এলাকাবাসীর সাক্ষর নিচ্ছি। যারা টাকা দিচ্ছে তাদের সাক্ষর নিচ্ছি। সাক্ষর নেওয়া শেষ হলে আমরা তিতাস গ্যাসের অফিসে আবেদন করবো। এ পাইপ সরাতে প্রয়োজনে আমরা সেনাবাহিনীর সহযোগীতা নিবো। আমাদের এলাকায় সেনাবাহিনী যখন ব্রীজের কাজ করেছেন ঐ সময় আমার সাথে তাদের (সেনাবাহিনীর) কথা হয়েছে। তারা বলছে, এ পাইপ সরাতে আমাদের সহযোগিতা করবে।
উল্লেখ্য রওশন আলী ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের আমলে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান নূর হোসেনকে বিতারিত করে সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন ইউপি সদস্য রওশন আলীকে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেন। এরপর বিএনপির আমলে রওশন চেয়ারম্যান এলাকায় ভূমিদুস্যতাসহ নানা অবৈধ কাজে নেমে পড়েন। ক্লিনহার্ট অপারশেনের সময়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমানের ভূয়া ও জাল দলিল উদ্ধার করে তা আগুনে পুড়িয়ে ফেলে।
( রওশন আলী চেয়ারম্যানের বক্তব্য রেকর্ড আছে )









Discussion about this post