এনএনইউ রিপোর্ট :
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, আগামীতে সোনারগাঁ হবে পর্যটনের রাজধানী। সোনারগাঁয়ের এই ১৬৮ বিঘা জমি যদি আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি তাহলে সোনারগাঁকে পর্যটনের রাজধানী হিসেবে আপনাদের যে দাবি আছে তা বাস্তবায়ন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমি চাই সোনারগাঁয়ের ইতিহাসগুলোকে লিপিবদ্ধ করার জন্য, যাতে যখন কেউ এখানে আসবে তারা দেখে এই সোনারগাঁয়ের ইতিহাস বুঝতে পারে।
বাঙালি সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য ধারণ করে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচেছ। সোনারগাঁয়ে কারুশিল্পের যে জায়গাটি রয়েছে সেটিকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়া হবে। যাতে করে আমাদের ঐতিহ্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে মাসব্যাপী লোক ও কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব ২০১৯ এর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।
লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক কবি রবীন্দ্র গোপের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়রে যুগ্মসচিব মো: খোরশদ আলম, নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ, সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি বি এম রুহুল আমিন রিমন, সহকারী পুলিশ সুপার (খ) সার্কেল খোরশেদ আলম, সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, সোনারগাঁ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ওসমান গনি প্রমুখ।
নারায়ণগঞ্জে আগমন উপলক্ষে জেরা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ কে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ আরো বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কৃতি বান্ধব সরকার। সাংস্কৃতি চর্চার জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে। জায়গা পেলে সোনারগাঁ অথবা মুন্সিগঞ্জে তৈরী করা হবে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি ।
প্রসঙ্গত, মাসব্যাপী এই মেলা ও লোকজ উৎসব চলবে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি র্পযন্ত। দেশীয় সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবনে আয়োজিত মাসব্যাপী লোককারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসবের বিশেষ আর্কষণ তামা-কাঁসা-পিতল শিল্প শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনী, কর্মরত কারুশিল্পী প্রদর্শনী, লোকজীবন প্রদর্শনী, পুতুল নাচ, বায়স্কোপ, নাগরদোলা, গ্রামীণ খেলাসহ বাহারি পণ্য সামগ্রীর সমাহার পরিদর্শন করনে।
উল্লেখ্য, এবার বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চল থেকে ৬০ জন কারুশিল্পী মেলায় প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন। তাদের জন্য ৩০টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঝিনাইদহ ও মাগুরার শোলা শিল্প, রাজশাহীর শখের হাড়ি, চট্টগ্রামের নক্শি পাখা, রংপুরের শত রঞ্জি, সোনারগাঁয়ের হাতি ঘোড়া পুতুল ও কাঠের কারু শিল্প, নক্শিকাঁথা, নক্শি হাতপাখা, মুন্সিগঞ্জের শীতল পাটি, মানিকগঞ্জের তামা-কাঁসা পিতলের কারুশিল্প, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কারু পণ্য, কিশোরগঞ্জের টেরা কোটা শিল্প, সোনারগাঁয়ের পাটের কারু শিল্প, নাটোরের শোলার মুখোস শিল্প, মুন্সিগঞ্জের পট চিত্র, ঢাকার কাগজের হস্ত শিল্পসহ মোট ১৭০টি স্টল।
এছাড়াও লোক কারু শিল্প মেলা ও লোকজ উৎসবে রয়েছে বাউলগান, পালাগান, কবিগান, ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালী গান, জারি-সারি ও হাছন রাজার গান,লালন সংগীত, মাইজভান্ডারী গান, মুর্শিদী গান, আলকাপ গান, গাঁয়ে হলুদের গান, বান্দরবান, বিরিশিরি, কমলগঞ্জের-মণিপুরী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শরিয়তী-মারফতি গান, ছড়া পাঠের আসর, পুঁথি পাঠ, গ্রামীণ খেলা, লাঠি খেলা, দোক খেলা, ঘুড়ি ওড়ানো, লোকজ জীবন প্রদর্শনী, লোকজ গল্প বলা, পিঠা প্রদর্শনী ইত্যাদি।
লোক কারু শিল্প মেলা ও লোকজ উৎসবঅনুষ্টান উদ্ভোধনের পর সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদসহ সকল অতিথিদের মেলার প্রতিটি ষ্টল ঘুরে ঘুরে সকলের সাথে কুশল বিনিময় করেন ।









Discussion about this post