নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি এড.মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন,ইদানীং দেখা যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একজন নেতা (আমি কিন্তু সংসদ সদস্যের কথা বলছি না) মাদক বিরোধী কথা বলেন। কিন্তু আপনে নিজেই মাদক সেবন করেন, মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে সভা করেন এবং সারা রাত মেয়েদের সাথে কথা বলেন। আপনার মুখের এই মাদক বিরোধী কথা মানায় না।
রবিবার (২০সেপ্টেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের ৩য় তলায় সিনামুন রেস্টুরেন্টে দৈনিক বিজয় পত্রিকার এর ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ৫ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষ্যে বনাঢ্য শোভাযাত্রা,কেক কাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মাহবুবুর রহমান মাসুম মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করে আরো বলেন, আমাদের প্রেস ক্লাবের পিছনে ব্লু পেয়ার নামে একটা মদের বার খুলেছিলো আমরা প্রেস ক্লাব থেকে আন্দোলন করে বন্ধ করেছি। শুনছি এখনো আড়ালে ব্লু পেয়ারের ৯ তলায় মদ বিক্রি হয়। আপনার রিপোর্টার ও ফটোসাংবাদিকরা যদি মদ বিক্রির ছবি বা প্রমান নিয়ে আসতে পারেন আমরা আবার আন্দোলন করবো। আমি ডিসিকে বলে এসেছি দরকার হলে মামলা খাবো,জেলে যাবো তারপরও ব্লু পেয়ার মদের বার খুলতে দেয়া হবে না ।
টানবাজারের যারা সুতার ব্যবসায়ী তারা মদ খাবার জন্য নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে টাকা দিয়ে সদস্য হয়েছে। এটা বললে আমার সদস্যপদ বাতিল হবে হোক। যে হার মানে না। হার মানতে জানে না সেই হানিফ খানের পথ ধরে সাংবাদিকতা করি। শুধু নারায়ণগঞ্জ ক্লাব না পাগলার ম্যারিএন্ডারসনেও মদ বিক্রি হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এড.মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন,সাংবাদিকতায় একটি মহান পেশা। জাতির চতুর্থ স্তম্ভ। এক সময় এই সাংবাদিক পেশা দিয়ে সংসার চলতো সাংবাদিকদের। কিন্তু যখন কর্পোরেট হাউজগুলো বাড়তে থাকলো তখন পত্রিকাও বেশি করে বের হতে লাগলো এবং শিল্পপতিরাও পত্রিকার মালিক হয়ে যেতে লাগলো। যার ফলে অপসাংবাদিক বের হতে শুরু করেছে। যারা নিজেদের পরিচয় কার্ড দিয়ে দেয়। আর আগে আমাদের কোন পরিচয় কার্ড দিয়ে দিতে হয় না। তিনি আরও বলেন,নারায়ণগঞ্জে ফটোসাংবাদিকের সংখ্যা কত ? ইচ্ছে করলে তারা প্রায় ৮০/৯০টি হোন্ডা দিয়ে শহরে মহড়া দিতে পারে। আজকে একজন ফটোসাংবাদিক দিনে ১৫শ টাকা কাজ করে যখন অফিসে যায় তখন সম্পাদক বসে থাকে সে জিজ্ঞাসা করে আজ কর টাকা ইনকাম করেছি যদি বলে ১৫শ তাহলে ১হাজার নিয়ে তাকে ৫শ ধরাইয়া দেয়। আর এখন টাকাকে তো আতর বলে। সাংবাদিক পেশা মানেই সামনে সম্মান আর পিছনে গালি দিবে। এটাই তো সাংবাদিক পেশা। কিন্তু বর্তমান কার্ডধারী কিছু সাংবাদিক আছে যারা অপকর্ম করে বেড়ায় আর গালি শুনতে হয় সবাইকে। এই গালি ব্যক্তি বিশেষ গালি দেয় না। আমাদের মান্নান বা মতিউরকে গালি দেয় না। এটা সারা বাংলাদেশের সাংবাদিকদের গালি দেয়।
তিনি নারায়নগঞ্জের পত্রিকা ও অপসাংবাদিকদের বিষয়ে বলেন,আমি প্রতিদিন খাবার টেবিলে বসে জেলার বাহিরের ১০টা, নারায়নগঞ্জের ২৯ ও কখনো কখনো ৩৩ টা পত্রিকা সব পড়ি। আমি দেখলাম বেশ কয়েকজনের ৪-৫টা পত্রিকা প্রকাশ পায়। রওশন আরা নামে এই মহিলার ৬টা পত্রিকা নারায়নগঞ্জে আসে। একটা মানুষের এত পত্রিকা তো হতে পারে না। আবার নারায়ণগঞ্জ জেলা একটা বিষয় দেখা যায় এখানে অনেকেই ভারপ্রাপ্ত না হয়ে পত্রিকায় ভারপ্রাপ্ত দিয়ে রাখেন কিন্তু জেলা প্রশাসক যে পর্যন্ত ডিক্লেয়ারেশন না দেয় তাকে ভারপ্রাপ্ত হওয়ার সে সেই পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত হতে পারে না। এটা আইন বিরোধী। নারায়নগঞ্জের অনেক সাংবাদিক অন্যায়ভাবে টাকা উপার্জন করে।
যারা অন্যায় পথে টাকা উপার্জন করে সংসার চালান আমি তাদের বলবো আপনার সন্তান কিন্তু মানুষ করতে পারবেন না। অপসাংবাদিক দূর করতে হলে সকলের মিলে আন্দোলন করতে হবে। এই আন্দোলন একদিনের জন্য না।যে পর্যন্ত অপসাংবাদিক অপসারণ না করা হয়। তবে আমি গর্বের সাথে বলতে পারি আমি হারাম খাই না।
দৈনিক বিজয় পত্রিকার সম্পাদক সাব্বির আহমেদ সেন্টুকে উদ্দেশ্য করে বলেন,আমি সেন্টুকে বলতে চাই আপনার পত্রিকা যাতে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রিক না হয়। ঢাকা অফিস নিয়ে বসেন।ঢাকা বসলেই তো আপনে মতিউর হতে পারবেন।
আলোচনায় দৈনিক বিজয় পত্রিকার সম্পাদক সাব্বির আহমেদ সেন্টু বলেন,ইদানীংকালে নারায়নগঞ্জে সাংবাদিকের এত ছড়াছড়ি সাংবাদিক পরিচয় দিতে নিজের লজ্জা লাগে। অনেকে আছে অনুষ্ঠানের দাওয়াত ছাড়াই চলে যায়। কিন্তু আমার প্রতিষ্ঠানের সবাই দাওয়াত ছাড়া কোথাও যায় না। নারায়নগঞ্জের অনেক সাংবাদিক এমনকি সিনিয়র সাংবাদিক অপরাধের বিভিন্ন স্পট থেকে মাসিক টাকা খায় এবং পত্রিকা প্রকাশ করে । আমি কোন মাদক,ভূমিদুস্যু,ভুমি বা অপরাধের স্পট থেকে টাকা খাই না। এমনকি ভূমি অফিস থেকেও খায় আমার কাছে এর লিষ্ট আছে।নিজের কাছে যা আছে তা দিয়ে পত্রিকা প্রকাশ করি।আপনেরা দোয়া করবেন বিজয় পত্রিকাকে যেনো ২০২১ সালে সারা বাংলাদেশের মধ্যে ১নম্বারে নিয়ে যেতে পারি।আমরা স্বপ্ন দেখি না। স্বপ্ন হচ্ছে কাল্পনিক। আমরা বাস্তব করতে চাই।
আলোচনার দৈনিক বিজয় পত্রিকার ৫ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষ্যে বনাঢ্য শোভাযাত্রা হয় এবং আলোচনা শেষে কেক কেটে সাফল্যের ৪র্থ বর্ষ উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মানবাধিকার সভাপতি ও দৈনিক সবার কন্ঠ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ লাভলু।অনুষ্ঠানে আরো উপ¯ি’ত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক দিল মোহাম্মদ দিলু,জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক জাফর আহমেদ,দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টা বিল্লাল হোসেন রবিন,,দৈনিক দেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি খন্দকার মাসুদুর রহমান দিপু,দৈনিক বিজয় ও দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক কামাল প্রধান,দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সোহেল রানা,জাগো নারায়ণগঞ্জ২৪.কমের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক রফিকুল্লা রিপন,মোহনা টিভির জেলা প্রতিনিধি আজমির, একুশের কাগজ ডট কমের সম্পাদক এম এ মান্নান ভূইয়া সহ বিভিন্ন সাংবাদিকবৃন্দ।









Discussion about this post