বিগত সময়ের চাইতে এবার আরো কঠোর ভাষায় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ও তার ঘনিষ্টজন হিসেবে নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক পরিচিত চেম্বারের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। যা এখন টক অব দ্যা টাউন ।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ও রাজাকারপুত্র খালেদ হায়দার খান কাজলকে নিয় নাসিক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর “আপনি আপনার কর্মচারী কাজলকে এক সময়ে মারধর করে গলায় জুতার মালা পরিয়ে আপনি বের করে দিয়েছিলেন। আবার কি কারণে জানি, ওকে আবার মাথায় তুলেছেন। ওই রাজাকারের ছেলেকে দিয়ে সবকিছু লুটপাট করে খাচ্ছেন।” এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পুরো নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বত্র ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে ।
মেয়র আইভীর টানা ৬ মিনিটের এমন কড়া মন্তব্যকে ঘিরে সর্বত্রই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
অনেকেই বলেছেন,“এবার নতুন তথ্য প্রকাশ করলো মেয়র । কেউ তো জানতোই না রাজাকার পুত্র কাজলকে জুতার মালা পরানো হয়েছিলো । সেই রাজাকার পুত্র এখন নারায়ণগঞ্জে সকলের উপর ছড়ি ঘুড়িয়ে চলছে । এদের লজ্জা হবে করে ? নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা পক্ষ সভা সমাবেশ করে নাসিক মেয়র আইভীর রিরুদ্ধাচারণ করে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। এমন কি দেওভোগে মেয়র আইভীর প্রয়াত বাবার নামে নব নির্মিত চুনকা কুটির নিয়েও নানা মন্তব্য করে আসছিলেন । যে বাড়ীকে হোয়াইট হাউজ বলে মেয়র আইভীকে হোয়াইট ওয়াশ করার টেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এমন একের পর এক আক্রমনাত্মক রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পর এবার শনিবার (২ অক্টোবর) বিকেলে বন্দরের এক জনসভায় মিস্টার ওসমান ও রাজাকারপুত্র কাজলকে উল্টো হোয়াইট ওয়াশ করছেন বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকেই।
নাসিক মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী তার বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ৪০ বছর ধরে এই নারায়ণগঞ্জকে লুটপাট করে খাচ্ছেন। মানুষ মারছেন, হত্যা করছেন, যা মন চায় তাই বলেন। মাথা দেখা যাবে শুধু, মানুষকে পিষে মারতে চান। নারায়ণগঞ্জ শহরের মানুষ আপনার কথা বলা বন্ধ করে দিবে। আপনাদের দিন শেষ হয়ে আসছে। কার সাথে লড়তে আসেন কথা বুঝে বলবেন।
শনিবার (২ অক্টোবর) বিকেলে বন্দরে নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহী মসজিদ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা সিটি কমপ্লেক্স ভবন ও মুক্তিযোদ্ধা সড়ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইভী এসব কথা বলেন।
আইবী বলেন, আপনি আপনার কর্মচারী কাজলকে এক সময়ে মারধর করে গলায় জুতার মালা পড়িয়ে আপনি বের করে দিয়েছিলেন। আবার কি কারণে জানি, ওকে আবার মাথায় তুলেছেন। ওই রাজাকারের ছেলেকে দিয়ে সবকিছু লুটপাট করে খাচ্ছেন।
সাংসদ সেলিম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে মেয়র আইভী বলেন, ‘হুশ করে কথা বলবেন। ক্ষমা চাওয়ার কথা বলবেন আপনার ভাই ব্রাদারকে যারা ত্বকীকে হত্যা করেছে। তাদের ক্ষমা চাইতে বলেন। আমাকে ক্ষমা চাইতে বলেন কোন দুঃসাহসে ? দুঃসাহস বেশী দেখাবেন না মিস্টার ওসমান। কখনও কিছু বলি নাই আপনাকে। বলার যখন সময় আসবে তখন পালাতেও পারবেন না। ওই রাজাকারের ছেলে কাজলকে দিয়ে সব লুটপাট করাচ্ছেন। ৪০ বছর ধরে এই নারায়ণগঞ্জকে লুটপাট করে খাচ্ছেন। মানুষ মারছেন, হত্যা করছেন, যা মন চায় তাই বলেন। মাথা দেখা যাবে শুধু, মানুষকে পিষে মারতে চান। নারায়ণগঞ্জ শহরের মানুষ আপনার কথা বলা বন্ধ করে দিবে। আপনাদের দিন শেষ হয়ে আসছে। কার সাথে লড়তে আসেন কথা বুঝে বলবেন। বাজে কথা বলবেন না। আপনার যাকে যা খুশি বলবেন না। আপনি আবার বলেন আমাকে মাফ চাইতে, আমি কার কাছে মাফ চাইবো? কোন অন্যায় কাজ তো করিনি। কারও কাছে কোন দিন আমি বা আমার পরিবার একটা টাকাও চাঁদা তো দাবী করিনি। আমার গোষ্ঠীতে কেউ খুন খারাবি করেনাই। আমার যে দুইটা ভাই আছে তাও অনেকে জানেনা। কিসের জন্য ক্ষমা চাইবো? আপনি কে যে আপনার কথায় আমাকে ক্ষমা চাইতে হবে? ক্ষমা চাইবেন আপনারা।’
আইভী বলেন, অনেকেই ধমকের সুরে আমাকে বলে কথা বন্ধ রাখতে। আমার কাজই তো জনগণের সাথে কথা বলা। যারা এসব কথা বলেন তারা তো ঢাকায় বসবাস করেন। দিনের বেলা নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা বাণিজ্য আর চাঁদাবাজি করে রাতে ঢাকায় গিয়ে থাকেন। আমি তো ঢাকায় বসবাস করিনা। আমার চৌদ্দ পুরুষ নারায়ণগঞ্জে থাকেন। আমাকে ধমক দিয়ে কাজ হবেনা। কারণ আপনাদের পিস্তলেই তো ভয় পাইনি। দুই বছর আগে তো পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করতে এসেছিলো, ভাগ্য ভালো গুলি লাগেনাই, আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছে।
আইভী বলেন, যখন যা খুশি তাই বলবেন না। মায়ের জাতকে সম্মান দিয়ে কথা বলবেন।আপনার ৩টা মেয়ে আছে, আপনি যেই উদাহরন দিয়েছেন আল্লাহ না করুক আপনার মেয়েদের কপালে যেন না পরে। সেই ব্যাপারে আপনি সাবধান থাকবেন। যাকে যা খুশি বলবেন না। এই শহরের মানুষ আমাকে জানে।
নাসিক মেয়র ডাক্তার আইভীর প্রতিটি মন্তব্য নিয়ে অনেকেই শনিবার রাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত নানাভাবে বিশ্লেষন করে ঘটনার সত্যতা মিলাতে ফোন করে নিজেদের মধ্যেও আলোচনা চালিয়ে যেতে দেখো গেছে ।









Discussion about this post