সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কয়েক দফা মহড়ার পর ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। এতে আহত হন ৬ ব্যবসায়ী।
আজ ১৪ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর ১টায় সিদ্ধিরগঞ্জের আমজী ইপিজেডের পাশে কদমতলী পুল এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩জনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় ইপিজেডের সাধারণ ঠিকদার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক-বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজিজুল হক জানান, ব্যবসায়ীদের মারধরের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ৩ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বাকীরা পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় মামলা নেওয়া হচ্ছে। পলাতকদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
ইপিজেডের ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ঠিকাদারী ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সন্ত্রাসীদল কয়েকদিন ধরেই রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে মহড়া দিচ্ছিল। আজ সকালেও স্থানীয় সেলিম মজুমদারের নেতৃত্বে স্বপন মন্ডল, শিপন, আপেল, আশিক, রনি, কশাই বাবু, রাসেলসহ ২০ থেকে ২৫ জন সন্ত্রাসী আদমজী ইপিজেডের কয়েকটি ফ্যক্টরীর সামনে মহড়া দেয়।
পরে তারা ইপিজেডের অদূরে কদমতলীপুল এলাকায় অবস্থান নেয়। ওই এলাকা দিয়ে ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান, ইফতেখার আলম রাজু, সজীব, সোহাগ, জামাল ও ফয়সাল খাবার নিয়ে ইপিজিডের ভেতরে খাবার নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় ওই সন্ত্রাসীরা তাদের গতিরোধ করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
দাবি প্রত্যাক্ষান করলে সন্ত্রাসীরা ওই ৬ ব্যবসায়ীর উপর হামলা চালান। উপর্যুপরী হামলায় ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আহত হন।
খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তবে শিপন, আপেল ও আশিক নামে ৩ জনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আহত ব্যসায়ীদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সেলিম মজুমদারকে নারায়ণগঞ্জ সিপি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজ মন্ডল ও বর্তমান কাউন্সিলর আলা হোসেন সেল্টার দিয়ে থাকে। যে কারণে, ওই ৬ ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা চায়, না করলে তাদের মারধর করা হয়।
এদিকে ২০১৫ সালে সেলিম মজুমদার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে একটি মামলা হয় বলে জানা যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে আপলোড করায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা চলমান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইপিজেডের ব্যবসা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য নাসিকের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজ মন্ডল ও বর্তমান কাউন্সিলর আলা হোসেন মিলে সেলিম মজুমদারকে দিয়ে আদমজী ইপিজেডে মহড়া দেওয়াচ্ছিল। আজ ব্যবসায়ীদের মারধরের কারণে এলাকায় ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বর্তমানে আতঙ্গ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, বর্তমানে গার্মেন্ট ব্যবসায়ীরা নানা প্রতিকূলতার সন্মুখীন হচ্ছেন। এরমধ্যে সন্ত্রাসীদের মহড়া ও ঠিকাদারদের উপর হামলার ঘটনায় ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে কথা হলে সন্ত্রাসী দলের নেতা সেলিম মজুমদার মজুমদার বলেন, ‘সব ব্যবসা ওরা একাই করে। আমি ব্যবসা চাইসি, দেয় নাই। তাইলে বলেন তাদের কি করা যায়?’









Discussion about this post