আড়াইহাজার ( নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে উপজেলা ভূমি অফিসে চরম দূর্নীতির চিত্র ধরা পড়েছে। একটি মিস মোকদ্দমার রায়ে প্রদানের পরও বিবাদী পক্ষ যাতে আপীলের সুযোগ না পায় সে জন্য রায়ের কথা গোপন রেখে তাদেরকে ৩ মাসে ৩ দফা তলফ করে হাজিরা গ্রহণ করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাও গ্রামের কাজী সাজাহান গং পাঁচগাও মৌজাস্থিত এস এ ৩৮৮, আর এস ১২১৯ খতিয়ানের এস এ ২০৮ ও আর এস ৫৯৪ ও ৫৯৫ নং দাগের ২৫ শতক সম্পত্তি নামজারী জমা ভাগ কেস নং- ৪২৫৫/১৬-১৭ এর মাধ্যমে নামজারী জমাভাগ করে খাজনাদী পরিশোধ করেন। উক্ত সম্পত্তিটি বিগত ৫১ বছর ধরে ভায়া হয়ে তার দখলেও আছে । কিন্তু সম্পত্তিটি ইপিজেড এর মধ্যে পড়ায় এর প্রতি লোভের বশবর্তী বাদি হাসিম ভুইয়া (৮৫) পিতার বিক্রিত জমির উপর উক্ত নামজারীর বিরুদ্ধে মিস মোকদ্দমা নং- ৪০৮/২০১৮ দায়ের করেন। উক্ত মোকদ্দমায় তদন্তের দায়িত্বে থাকা কাননগু জিল্লুর রহমান একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।
মিস মামলার বিবাদী পক্ষ ৫১ বছর যাবত উক্ত সম্পত্তির দখলে থাকা সত্যেও কাননগো জিল্লুর রহমান টাকার কাছে নিজেকে সমর্পন করে বিবাদী পক্ষ সম্পত্তির দখলে নেই মর্মে মিথ্যা রিপোর্ট দাখিল করেন।অথচ বাদীগন নিজেরাও জানেন না জমিটি কোথায় আছে ।কাননগো আরো বলেন ৪৩২৮ নং দলিলের নকলের সাথে দাতা-গ্রহিতার কোন মিল নেই অথচ ৪৩২৮ নং দলিলের কোন অস্তিত্ব নেই। উপযুক্ত কাগজপত্রাদী এবং বিবাদী পক্ষের দখলে থাকা সত্যেও সহকারী কমিশনার ( ভূমি) আড়াইহাজার নামজারীটি বাতিল করে দেন। শুধু তাই নয়, গত২৬ শে জানুয়ারী নামজারী বাতিলের রায় প্রদান করার পর তা গোপন রেখে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী ও ৩ মার্চ মামলার বিবাদীগণকে ভূয়া তারিখ দিয়ে আপিলের সময় পার করার জন্য তাদেরকে অফিসে হাজিরা নিতে থাকেন। সর্ব শেষ ৩ এপ্রিল বিবাদী পক্ষ অফিসের হাজিরা দিতে এসে জানতে পান যে, ২ জানুয়ারী ই উক্ত মিস মোকদ্দমার রায় হয়ে গেছে। রায় হওয়ার পরও তিন তিনবার বিবাদী পক্ষকে তারিখ দিয়ে হাজিরা নেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তাদেরকে ধমকে অফিস থেকে বের করে দেন কাননগো জিল্লুর রহমান।
এ ব্যাপারে সাজাহান গং আড়াইহাজার থানা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের স্মরণাপন্ন হলে সাংবাদিকগণ সরেজমিনে যান। সরেজমিনে গিয়ে দুটি ইরি স্কীম মালিক যথা ক্রমে নবিউল্লাহ ও দানিস মাষ্টার, এলাকার বর্তমান মেম্বার কিরণসহ অনেকে জানান, সাজাহান গং দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে উক্ত সম্পত্তির দখলে রয়েছে। মামলার রায় হওয়ার পরও বিবাদী পক্ষের পর পর ৩টি হাজিরা কেন নিলেন সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি সহকারী কমিশনার শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স ও কাননগো জিল্লুর রহমান।
ভুক্তভোগী আল আমিন বলেন, আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ দুর্নীতিবাজ কাননগো জিল্লুর রহমানও সহকারী কমিশনার (ভুমি) জাহিদ হাসান প্রিন্স এর অপসারন দাবি করছি। ।









Discussion about this post