“মা মারা গেছে ছোট বেলায় । ছোট ভাই তুহিনরে শাসন করার কেউ ছিলো না । বাবা অটো রিক্সা চালাইয়া সংসার চালায় । এরপরও তুহিন বুঝলো না বাবা ও ভাই – বোনের কষ্ট । কি লাভ হইলো ? মইরা তো গেলি ! আমাদের আর কিছু কওনের নাই । লাশটা পাইলেই দাফন কইতে চাই । এই ভাইয়ের লাইগা স্বামী ছাইড়া দিছি৷ দুই ভাইরে কতো আদর কইরা পালছি ৷ আহারে ভাই ! কেন যে তুই এই লাইনে গেলি ?’
এনএনইউ রিপোর্ট :
বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে ব়্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত কিশোর গ্যাং ‘তুহিন বাহিনী’র প্রধান সাইফুল ইসলাম তুহিনের (২০) বোন স্বর্ণা আক্ষেপ করে এভাবেই কথাগুলো বলার এক পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে পুলিশ ও র্যাবের উপস্থিতিতেই নিহতের স্বজনদের উপর হামলা চালায় দেওভোগবাসী ।
তুমুল হামলারপর র্যাব ও সদর থানা পুলিশের পৃথক দল উভয় পক্ষকে থোমাতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে ।
দেওভোগের হাশেমবাগে শাকিল হত্যার মামলার প্রধান আসামী তুহিন। গত ২৭ জুলাই শনিবার রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাকিল নামে নিরিহ ওই যুবককে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসী তুহিন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। ওই ঘটনায় আরও ছয়জনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তুহিনকে প্রধান আসামী করে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা করে নিহত শাকিলের বড় ভাই সাঈদ হোসেন।
এদিকে নিহত তুহিনের বাবা কাওসার হোসেন জানায়, লাশ ময়নাতদন্তের আগেই দেওভোগের অনেকেই হাসপাতালে পুলিশ ও র্যাবের উপস্থিতিতে মর্গের সামনেই তুহিনের লাশ দাফনে বাধা দিয়েছে এলাকাবাসী ৷ তাই পাইকপাড়া কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে জানান তিনি ৷
ক্রসফায়ারে তুহিন মারা যাবার খবর পেয়ে দেওভোগ এলাকার অনেকেই ভীড় করেন হাসপাতালে । এ সময় অত্যান্ত নমনীয় অবস্থায় নিহতের বোন ও বাবা উপস্থিত সকলের কাছে তুহিনের অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়ে বলেন, আমার ছেলে অনেক বছর যাবৎ আমার সাথে থাকতো না । ওর অপরাধের বিচার তো হয়েছে । এবার ওর দাফন করতে এলাকার লোকজন বাধা দিলে বারবার সকলের কাছে ক্ষমা চান নিহত চাপাতি তুহিনের বাবা কাওসার ও বোন স্বর্ণা।









Discussion about this post