এনএনইউ রিপোর্ট :
নগরীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিক মামলার আসামী সালাউদ্দিন বিটু (৩৫) এবার সদর থানা পুলিশের উপর হামলা করে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে আটক করে রাখার মতো দু:সাহসিক কর্মকান্ড করার সাহস দেখিয়েছে । শনিবার (১৯ জানুয়ারী) রাতে নগরীর তামাকপট্টি এলাকায় এমন ঘটনা ঘটালে অতিরিক্ত পুলিশ অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার দারোগা সাহাদাতসহ অন্যান্যদের উদ্ধার করে।
এমন ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে গত দুইদিন সাড়াসী অভিযান চালিয়েও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন বিটুকে আটক করতে পারে নাই পুলিশ ।
সদর থানা পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত শনিবার রাতে এসআই সাহাদাত হোসেন ও তার সাথে থাকা দায়িত্বরত অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা শহরের তামাকপট্টি এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনাকালে বিটুর এক সহযোগিকে আটক করে । এ সময় মাদক ব্যবসায়ী বিটুর নেতৃত্বে তার সহযোগিরা পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে ড্রাইভার আব্বাসকে গুরুতর আহত করে । আব্বাস কে এখনো জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে । এমন হামলার ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোন মামলা না হলেও একটি সাধারণ ডায়রাী করা হয়েছে বিটুর এমন পুলিশের উপর হামলার ঘটনায়।
এ বিষয়ে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন আমরা শীর্ষ এই মাদক ব্যবসায়কে আটক করতে জোড়ারো চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ।
এমন ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম গত দু’দিন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাড়াসী অভিযান চালিয়ে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী তামাকপট্টি এলাকার আবিদ আলী চৌধুরী ওরফে হাবলু চৌধুরীর ছেলে সালাউদ্দিন বিটুকে আটক করতে পারে নাই পুলিশ।

পুলিশের উপর হামলার বিষয়ে নিতাইগঞ্জ তামাকপট্টি এলাকার অনেকেই বলেন, এই বিটু এতো সাহস, কোটি কোটি টাকার মাদক ব্যবসা, অস্ত্র মজুদ ও শহরের সকল এলাকায় পাইকারী মাদক ব্যবসার প্রসার হলো কি করে । স্থানীয় কিছু রাজনীতিবিদ, কয়েকজন কাউন্সিলর ছাড়াও শহরের এক প্রভাবশালীর আত্মীযের পরিচয়ের প্রভাবে শহরের সর্বত্র অপকর্ম করার সাহস করে যাচ্ছে ।
নির্বাচনের আগে গত ২০ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের নির্বাচনী মঞ্চে সেলিম ওসমানের পিছনে দাড়িয়ে মূহুর্মুহু করতালি দৃশ্য দেখে হাজারো এলাকাবাসী বিরক্ত হয়ে অনেক সংবাদকর্মীদের কাছে ফোন দিয়ে বিষয়টি অবহিত করে । একই সাথে এই মঞ্চে মাদক ব্যবসায়ী বিটুকে কারা কারা নানাভাবে শেল্টার দিয়ে থাকে তাদের বিষধ বর্ণনাও তুলে ধরেন এলাকার অনেকেই ।
গত দুই দিনে তামাকপট্টি এলাকার অনেকেই আরো বলেন, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বিটু এলাকার প্রভাবশালীদের শেল্টারেই এমন অপরাধ করে যাচ্ছে । শেল্টারদাতাদের সকলেই খুব ভালো করে চিনলেও কেউ তাদের নাম বলতে সাহস করে না । এর কারণ হিসেবে নিতাইগঞ্জ তামাকপট্টি এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো জানায়, এই বিটু বাহিনী খুবই মারাত্মক অপরাধী। আর তাদের কে এলাকার প্রভাবশালী ছাড়াও পুলিশের অসাধু সদস্যরা গোপনে এই বাহিনীকে নানাভাবে সহায়তা করে আসছে । নারায়ণগঞ্জ থেকে বদলী হওয়া ডিবি পুলিশের এক ইন্সপেক্টরও সব দিকে দিয়ে বিটুকে দিয়ে পাইকারী মাদক ব্যবসা করাতো । ওই ইন্সপেক্টর ই বিটুকে গ্রেফতার হলে জামিন করানোসহ ভারতে পালিয়ে যেতে ভিসা করে দেয়ার সকল আইনী সহায়তা করে থাকে।









Discussion about this post