স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জ শহরের কালীরবাজার, বঙ্গবন্ধু সড়ক, আমলাপাড়া এবং বাসষ্ট্যান্ডে বিশাল সামিয়ানা টাঙ্গিংয়ে জুয়ার মেলা চলে আসছিলো বছরের পর বছর । বিগত সময়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কোন সদস্যরাই এমন জুয়ার আসরে অভিযান চালানোর সাহস করে নাই । এর নেপথ্যের কারণ ছিলো প্রশাসনের অসাধু কিছু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ ও বিশেষ পেশার নাম ব্যবহার করার পাশাপাশি জেলার সংসদ সদস্যদের মধ্যে কারো কারো নাম ব্যবহার করতো জুয়ারীরা । এমন জুয়ার বিরুদ্ধে হাজারো প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও কেউ এতো প্রভাবশালীদের টিকিটিও স্পর্শ করতে পারে নাই ।
বছরের পর বছর জুড়ে অবিরাম চলা এমন জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের কঠোর হস্তক্ষেপে ৪১ জন জুয়ারী গ্রেফতারসহ জুয়ার বিশাল টাকা উদ্ধার করে পুরো আস্তানা গুড়িয়ে দেয় । এমন অভিযানের পর পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের প্রতি নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষে অভিনন্দনের ঝড় উঠে । এ ছাড়াও শহরের ফুটপাত, ঝুট সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজসহ গত ১৮ ফেব্রুয়ারী ভোরে শহরের প্রভাবশালী সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসার মুন্না ও বর্তমান কাউন্সিলর কবির হোসেনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে আরেকবার শহরবাসীর আস্থার স্থান দখল করে এসপি হারুন ।
এমন ঘটনার কিছুক্ষন পর মধ্যেই সোমবার ১৮ ফেব্রুয়ারী দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ক্যাবল অপারেটর এসোসিয়েশনের পক্ষে শহরের ব্যাপক সমালোচিত শামীম হায়দার ওরফে পিজা শামীম নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর পর এমন ছবি সাসাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করলে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয় ।
অনেকেই এমন ছবি দেখে প্রশ্ন তুলেন শহরের কালীর বাজারের আমান ভবনের তিন তলায় রমরমা জুয়ার আসর পরিচালনাকারী পিজা শামীম কি করে ফুল দিয়ে তা প্রচার করার সাহস পেলো । যার জুয়ার আস্তানায় অসংখ্যবার পুলিশ হানা দিয়ে জুয়ারীদের আটক ও আদালতে প্রেরণের ঘটনা শহরের কারো অজানা নয় । পুলিশী অভিযানের পর কিছুদিন বন্ধ থাকলেও আবার চালু করে সাসাজিক ভারসাম্য নষ্টকারী পিজা শামীম নিজেকে একজন সংসদ সদস্যের বন্ধু পরিচয় দিয়ে এমন জুয়ার আসর চালাতো বলেও জোর অভিযোগ রয়েছে । এমন একজন ব্যক্তি কি করে পুলিশ সুপারের দপ্তরে হাজির হয়ে তার ছবি তুলে প্রচার করার সাহস করে । ছবি প্রচারের মাধ্যমে পিজা মামীম নিজের অবস্থান জানান দিতেই নাকি ক্যাবল অপারেটরের নাম ব্যবহার করে । অথচ শহরের অনেকই জানেন পিজা শামীম একজন জুয়ারীদের গডফাদার।
খোজ নিয়ে জানা যায় শামীম হায়দারের পিতা এক সময়ের নারায়ণগঞ্জের প্রখ্যাত চিকিৎসক রুস্তম আলী । তার গ্রামের বাড়ী কিশোরগঞ্জ জেলায় । পেশাগত কারণে রুস্তম আলী নারায়ণগঞ্জে অবস্থানকালে শহরের পাক্কা রোড এলাকার মফিজ দালালের বোন বিয়ে করেন । নারায়ণগঞ্জেই গড়ে তুলেন বসতি । এরপর আর কিশোরগঞ্জে তাদের থাকা হয় নাই । প্রখ্যাত চিকিৎসক রুস্তম আলীর পরিবারের সকলেই সুণামের সাথে নিজ নিজ অবস্থান তৈরী করে নিলেও পিজা শামীম নানা কারণে শহরে ব্যাপকভাবে সমালোচিত। পিতা রুস্তম আলীর সুণাম এখনো শহরবাসীর মুখে উচ্চারিত হলেও শহরের জুয়া সহ নানা কারণে শামীম হায়দার ওরফে পিজা শামীম বরাবরই সর্ব মহলে সমালোচিত। আর এমন সমালোচনা থেকে শহরবাসীকে দেখানোর জন্য নিজ জেলা কিশোরগঞ্জের সন্তান পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের সাথে সাক্ষাৎ করে ফুল দেয়ার ছবি প্রচার করে । যা দেখ হতবাক নারায়ণগঞ্জের মানুষ ।
এমন ঘটনা বিষয়ে ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ রুমন নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেটকে বলেন, ”এসপি স্যার হয়তো জানতো ই না শামীম হায়দারের এমন কর্মকান্ডের বিষয়গুলি। কোন সমালোচিত ব্যক্তিকে পুলিশ সুপার প্রশ্রয় দেন না । যার কারণে এসপি হারুন সারাদেশে নানা ভাবে আলোচিত । তবে পিজা শামীমের বিষয়ে আরো খোজ খবর নেয়া হচ্ছে । ইতিমধ্যেই গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে এমন অপরাধীদের সকল তথ্য সংগ্রহ করতে।









Discussion about this post