স্টাফ রিপোর্টার :
কোটি লোকের বসবাস শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি সমস্যার মধ্যে অন্যতম মাদক, হকার, ভুমিদস্যুতা ও যানজট । এই কয়েকটি সমস্যার বিষয়ে হাজারো প্রতিবাদ হলেও কেউ এই সমস্যা সমাধান করতে পারেন নাই। এবার বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ সাংবাদিক সমেম্মলন করে গুরুতর এই সমস্যা সমাধান করবেন বলে আম্বস্থ করেছেন জেলাবাসীকে।
পুলিশ সুপারের এমন কঠোর ঘোষনার পর শহরে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই বলেছেন, কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজির এমন কার্মকান্ড তাহলে কি বন্ধ হবে ? কোটি কোটি টাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা কি এতই সহজ ? ভুমিদস্যুতা কারা করছে ? যানজটের মূলে শহরের প্রভাবশালী চক্রের অবৈধ স্ট্যান্ড এত সহজেই কি উচ্ছেদ করা যাবে ? যদি পুলিশ সুপার সত্যিই তার দেয়া আশ্বসের প্রতিফলন ঘটাতে পারেন তবে নারায়ণগঞ্জবাসী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে আজীবন মনে রাখবেন শ্রদ্ধার সাথে।
চাষাড়া শহীদ মিনারে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের কঠোর ঘোষনার পর শহরের ব্যাপক আলাচনা সমালোচনার সৃস্টি হয়েছে এমন কঠিন কাজ নিয়ন্ত্রণ করার চ্যালেঞ্জকে ঘিরে। এক বছর পূর্বে ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের বড় দিনের উৎসবকে কেন্দ্র করে তৎকালীন পুলিশ সুপার মঈনল হক নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার জন্য।
এ দিন সকালে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ব্যাপ্টিস্ট চার্চে আসার মূহুর্তে হকারদের অবস্থান দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে তাৎক্ষনিক সদর থানার ভাপপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিন শাহ পারভেজকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করেন তৎকালীন পুলিশ সুপার। ঘটনার শুরু এখান থেকেই । এরপর পুলিশের সাড়াসি অভিযানে বেশ কিছুদিন শহরের সকল ফুটপাত দখলমুক্ত করে দেয় পুলিশ। এমতাবস্থায় শহরের কিছু বাম রাজনীতিবিদ ও হকারদের কাছ থেকে প্রতিমাসে কোটি টাকার চাঁদা আদায়কারী চক্র ফের তৎপর হয়ে উঠে শহরের কয়েক কিলোমিটারের সড়কপথ দখল করতে। এতে জোড়ালো বাধা দেয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভী। দীর্ঘদিন যাবৎ আইভীর এমন অবস্থানের পর কঠোরতার এক পর্যায়ে দখলকারী হকারদের লাইনম্যান, চাঁদা গ্রহণকারী চক্র নানাভাবে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে ম্যানেজ করে শহরের পরিস্থিতি উত্যাপ্ত করে তুলে।
জেলা আওয়ামীলীগ নেতা শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াৎ আইভীর পুরানো রাজনৈতিক দ্বন্ধকে পুঁজি করে ফুটপাতের সুবিধাবাদী চক্র ও শহরের ফুটপাত দখলকারী হকাররা চাষাড়ায় ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী মঙ্গলবার বিকেলে মেয়র আইভীর উপর হামলা করে। হামলায় আহত হন আইভীসহ ২০/২৫ জন। এই ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড়ের সৃস্টি হলেও থামানো যায় নাই ফুটপাতের চাঁদাবাজ চক্রটিকে ।
কিছু দিনের ব্যবধানে আবার শহরের সর্বত্র হাজার হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে ফুটপাত পুরোদমে দখলের পর নগরবাসীকে জিম্মি করে ফেলে। যা এখনো চলমান । ফুটপাত দিয়ে কোন জনসাধারণ চলাফেরা করাতো দূরের কথা কোন ক্রেতা ফুটপাত থেকে কোন পন্য ক্রয় না করলে কি পরিমাণ অপমান অপদস্ত সহ্য করতে হয় তা শহরের সকলেই খুব ভালো করে জানেন।
ফুটপাত দখলকারীদের এমন অপকর্মের প্রতিবাদ করলে, ”মেয়র আইভী ই মাইর খাইয়্যা গেছে, আর আপনি কোথাকার কে ?” এমন মন্তব্য হরহামেশাই হজম করতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
এমতাবস্থায় পুলিশ সুপার কতটা সফল হবেন তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে জিম্মি অবস্থায় থাকা নগরবাসী।









Discussion about this post