স্টাফ রিপোর্টার :
সারা বছর জুড়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের সড়ক ঘন্টার পর ঘন্টা দখল করে প্রতিবন্ধকতা সৃস্টিকারীদের বিরুদ্ধে কেউ কোন ব্যবস্থা না নিলেও এবার পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশে নারায়ণগঞ্জের বিশিস্ট ব্যবসায়ী কাশেম জামালের মালিকানাধীন বিকাশ এজেন্টের মাইক্রোবাস চাষাড়া চত্তরে রেকার লাগিয়ে জরিমানা আদায় করেছে ট্রাফিক পুলিশ।
শুক্রবার (১৮ জানুয়ারী) দুপুরে বিকাশের টাকাবাহী মাইক্রোবাস কোন প্রকার নিরাপত্তা ছাড়াই শহীদ মিনারের সামনে ফেলে অজ্ঞাত স্তানে চলে যায় ড্রাইভার। এমন সময় জুম্মার নামাজ পরতে পুলিশ সুপার পুলিশ লাইনে যাওয়ার পথে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাইকে দেখে শহীদ মিনানে নেমে দেখতে পান অবৈধ পার্কিং। সাথে সাথে নির্দেশ দেন রেকার লাগিয়ে পুলিশ লাইনে নিয়ে যেতে। এমন খবর পেয়ে দৌড়ে ছুটে আসে বিকাশ এজেন্টদের অনেকেই। এরপর তদ্বিরে জরিমানা দিয়ে ছাড়া পায় কাশেম জামালের মালিকানাধীন মাইক্রেবাস।
ঘটানার বিবরণে ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই রুহুল আমিন হাওলাদার জানান, আমরা অনেক দিন যাবৎ ই দেখছি কাশেম জামালের মালিকানাধীন বিকাশের অসংখ্য গাড়ী, সিগারেটের গাড়ী, কোকের গাড়ী, ভ্যান গাড়ী, স্কুলের গাড়ী, তার পরিবারের কয়েকটি গাড়ী শহরে যানজট সৃস্টি করে রাখেন। তার এই গাড়ীগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলাই যায় না । নারায়ণগঞ্জের পরিচিত ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম কাশেম জামালকে সকলে চিনেন বলে কেউ কিছুই বলতে সাহসও করি না । আইনের কোন তোয়াক্ক না করে টাকা ভর্তি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো ঠ ১৩-৪৮৯৮) গাড়ীটি অনেকক্ষন যাবৎ শহীদ মিনারের সামনে রেখে চলে গেছে ড্রাইভার সহ কাশেম জামালের লোকজন । আর এই সময় পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ নিজেই দেখে তা রেকার লাগিয়ে পুলিশ লাইনে নিয়ে যেতে বলেছেন। কামেম জামালের অনেক গাড়ীই সড়কে উপর রেখে যা খুশি তাই করে। কারো কথা শুনে না তারা।
প্রতিবেদককে গাড়ীর ভিতরে টাকার বাক্স দেখিয়ে রুহুল আমি আরো বলেন, গাড়ীর ভিতরে টাকা ফেলে কোথায় গেছে এরা । এখন যদি কোন ক্ষতি হতো তখন পুলিশের দোষ । আর পুলিশকে তখন টাকা খোয়ানোর মামলা নিয়ে হন্যে হয়ে পাগল হয়ে রেড়াতো। যেমন ঘটেছে রূপগঞ্জে । নিজেদের দোষে টাকা লুট হবে আর পুলিশ ছিনতাইকারীদের ধরতে পাগল হয়ে বেড়াচ্ছে । আর এই মামলার তদন্ত অফিসার ছিনতাইকারী ধরতে না পারলে তার চাকরী নিয়ে কতই না ধকল পোহাতে হবে।
এমন ঘটনায় জব্দ করা গাড়ীর ড্রাইভার হাসান জানায়, কাশেম জামালের গাড়ী কেউ ধরে না । তাই এখানে রেখেছিলাম। এসপি কখন এসেছেন তা বুঝতে পারি নাই।
বিকাশের গাড়ীতে রেকার লাগালো অবস্থায় উপস্থিত অনেকেই আরো বলেন, গত ৭ জানুয়ারী রূপগঞ্জের দিঘী বরাবো এলাকায় কাশেম জামাল এন্ড কোম্পানী-৩ (বিকাশের) ডিএসও শাকিল মিয়া টাকা ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে রিক্সায় যাওয়ার সময় পিস্তল ঠেকিয়ে টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় তাদের নিজেদের দোষেই। এ সময় অনেকেই নানাভাবে কোম্পানীর লোকজনকে এবং খোদ কাশেম জামালকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজও করেন। (যার ভিড়িও রেকর্ড রয়েছে প্রতিবেদকের কাছে)
টাফিক পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা এ সময় আরো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাশেম জামালের সিগারেটের, বিকাশ এজেন্টের গাড়ী, কোকের গাড়ী,সহ অনেক গাড়ী প্রেস ক্লাবের বিপরীতে কি করে যানজট সৃস্টি করে রাখে তা কোন ভাবেই থামানো যায় না । এমন যানজটের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে কাশেম জামালের লোকজন পুলিশকে কুকুর বেড়ালের মতো দূর দূর করে। পুলিশ জনগণের সেবা করে বলেই এদের অপমান আমরা সহ্য করি।
এ বিষয়ে ড্রাইভারসহ বিকাশের কয়েকজন পুলিশের সামনের প্রতিবেদককে জানান, আামদের কিছু বলার থাকে না। কাশেম জামাল এন্ড কোম্পানীর কর্মকর্তাদের ইচ্ছেতেই আমাদের কাজ করতে হয় । দেখলেন না ফোন করে জরিমানার টাকা এনে পুলিশকে দিয়ে গাড়ী ছাড়াতে হলো।









Discussion about this post