সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
আলী হোসেন আলা। অনেকের কাছে পরিচিত আলা হোসেন নামে। মৎস্য দারোয়ানের কর্মচারী দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু। সেই থেকেই চলছে তার আয়। কিন্তু এ আয়ের গতি থামছে না। দিনের পর দিন তার আয়ের গতি বাড়ছে, দ্বিগুন-তিনগুণ হারে। নিজেকে সর্বদা রাখেন সাদাসিদে ভাবে। অসহায় হিসাবে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য থেকে সাধারণ কর্মীদের কাছেও তিনি প্রচার, প্রকাশ করেন অর্থনৈতিকভাবে অনেক কষ্টে আছেন বলে। রাজনীতি দিয়ে তার পুরোটাই লাভ হলেও রাজনীতির পিছনে তার তেমন অর্থকড়ি খরচ করতে হয়না বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী, দলীয় নেতা-কর্মীরা।
দলীয় নেতা-কর্মীরা জানায়, দলের জন্য খরচ করেন রাজনৈতিক নেতারা। অনেক রাজনৈতিক নেতা বা কর্মী রয়েছেন জীবন ভর দলের জন্য ব্যায় করেছেন। তেমন একটা আয় করেননি। দলের কারণে আয়ও হয় অনেক নেতার। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে আয় করেন কাড়ি কাড়ি টাকা। এমন সৌভাগ্যবানদের সংখ্যা খুবই কম। এ কমদের মধ্যে সৌভাগ্যবান হলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক আলী হোসেন আলা ওরফে আলা মেম্বার। যিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর।
এখনকার মত শুরুটা এত বিলাসবহুল ছিলনা আলী হোসেন ওরফে আলার। ছিলনা এখনকার মত এত অর্থ, বিত্ত। আদমজী জুট মিল চালুকালীন অবস্থায় আদমজীর মুনলাইট সিনেমা হলকে কেন্দ্র করে হল গ্রুপ নামে একটা গ্রুপ ছিল। যার নের্তৃত্বে ছিল আতাউর রহমান, শাহজাহান ওরফে কালা শাহজাহান, মজিবুর রহমান মন্ডল, মোটা সামাদ ও জজ।
আদমজীর শ্রমিক নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, ঐ সময় এই হলগ্রুপের অন্যতম নেতা শাজহাজান ওরফে কালা শাহাজাহনের বাজার করত আলা হোসেন ওরফে আলা মেম্বার বা বর্তমান নাসিক ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলা হোসেন। হলগ্রুপের একটি মাছের খামার ছিল। শাহজাহানের বাজার করার পাশাপাশি ঐ সময় হলগ্রুপের খামারের দারোয়ান ছিল আলা হোসেন ওরফে আলা মেম্বার। আদমজীর সিবিএ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঐ সময় একাধিকবার হলগ্রুপ ও রেহান গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে হলগ্রুপ ত্যাগ করে রেহান গ্রুপের সঙ্গে যোগদান করে আলা হোসেন। তৈরী করে নিজস্ব বাহিনী। এক পর্যায়ে আলা হোসেন গ্রুপের সাথে বিএনপির প্রয়াত নেতা আবুল কাশেম ওরফে গলাকাটা কাশেম বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ হয়। ঐ সংঘর্ষে তার কপাল ঘেঁষে একটি গুলি যায়। এতে আহত হয় আলা হোসেন। ঐ গুলির চিহৃ এখনও তার কপালে কিঞ্চিত রয়েছে। রেহান সাহেবের নিজস্ব বাহিনী হিসাবে নের্তৃত্ব দিত আলা হোসেন আলা। এক পর্যায়ে রেহান উদ্দিন রেহান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আলা হোসেন আলাকে মেম্বার পদে মনোনয়ন দেয়।
এলাকাবাসী জানায়, ঐ নির্বাচনে রেহান ও আলা হোসেন বাহিনী কেন্দ্র দখল করে মেম্বারপদে বিজয়ী হয় আলী হোসেন ওরফে আলা। সে থেকে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আওয়ামীলীগ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও বিএনপি আমলে আত্মীয়তার সুবাধে বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই রাজুর শেল্টারে ছিল কৌশলী আলা হোসেন আলা। আলী হোসেন আলা বিএনপি নেতা আব্দুল হাই রাজুর চাচাতো বোন বিয়ে করেছিল। রাজুর শেল্টারের কারণে বিএনপির কোন নেতা-কর্মী তাকে কোন মামলা বা হয়রাণি করেনি। দিব্যি সে এলাকায় ঘুরাফেরা করে জমির ব্যবসা, জমি দখলসহ বন্ধ হওয়া আদমজী জুট মিলে ব্যবসা পরিচালনা করত। ঐ সময় আব্দুল হাই রাজু সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিনকে দিয়ে মৎস্য কর্পোরেশন থেকে আলী হোসেন আলাকে ডিএনডি ক্যানেল লীজ নিয়ে দিয়েছিল আব্দুল হাই রাজ্। যে লীজ এখনও বাতিল হয়নি। ২ বছর অন্তর অন্তর টেন্ডার হওয়ার নিয়ম থাকলেও মৎস্য কর্পোরেশনের লোকদের ম্যানেজ করে টেন্ডার দিতে দেয় না।
বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতায় আসার পর তার আয় আরো বাড়তে থাকে। এলাকাবাসীর মতে, কাউন্সিলর হওয়ার পর কাউন্সিলর অফিসের সামনে ৩০ টি দোকান তুলে প্রতিমাসে একেকটটি দোকান ভাড়া দেয় আলী হোসেন আলা। এ দোকানগুলোর প্রতিটি থেকে মাসে তার আয় হয় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা করে। এ ছাড়া এমডিব্লউ স্কুলের জানালা ঘেষে রাস্তা দখল করে তৈরী করা তার কাউন্সিলর কার্য্যালয় থেকে মালেক ফকিরের স্কল পর্যন্ত অর্ধশত দোকান থেকে তার প্রতিমাসে আয় হয় ৩ লাখ ২০ হজার টাকা। ডিএনডি ক্যানেলের পার্শ্বে রয়েছে তার ৮ টি দোকান। যার ভাড়া প্রতিমাসে ২ হাজার ৫০০ করে। এতে তার মাসিক আয় ২০ হাজার টাকা। ডিএনডি রোডের পার্শ্বে ৫ টি দোকান রয়েছে তার। ৩ হাজার টাকা করে ৫ টি দোকানে মাসিক ভাড়া পায় ১৫ হাজার টাকা। এমডব্লিউ কলেজের পাশে সে বর্তমানে একটি ১০ তলা বিলাসবহুল ভবন তৈরী করছে। এমডব্লিউ কলেজের পার্শ্বে রয়েছে আলা হোসেনের ৯ কাঠা জমি। জনৈক মহসিনের বাড়ির পার্শ্বে রয়েছে ১০ কাঠা জমি। কদমতলী বিলে রয়েছে ৫ থেকে ৬ কাঠা করে ১০/১২টি জমি। নয়াপাড়া এলাকায় ৬ কাঠার ২ টি জমি রয়েছে। ফয়েজ মেম্বারের বাড়ির পার্শ্বে ১৫ থেকে ২০ কাঠার জমি রয়েছে। ভুয়া দলিল বানিয়ে মানুষের জমি দখলের নামে সমঝোতা করে অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আল-আমিন ট্রেডার্সের মাধ্যমে আদমজী ইপিজেডের বাছাই করা বড় ৭-৮ টি ফ্যক্টরী থেকে ঝুট নামানোসহ নানা ব্যবসা করে আসছে সে এবং তার সহযোগীরা। এছাড়াও নামে বেনামে ২০-২২টি ফ্যক্টরী থেকে সে তার শ্যালক ছালাউদ্দিন, তার সহযোগী নজরুল, বালু শাহাজাহান, আলাউদ্দিন মেম্বারসহ অন্যান্য সহযোগীরা আদমজী ইপিজেডে ব্যবসা করে আসছে।
এত আয়ের পরও তিনি আওয়ামীলীগের নারায়ণগঞ্জ শীর্ষ নেতাকে বলেন, ভাই আমার কোন ব্যবসা নাই। রাজনীতির মিটিং মিছলসহ রাজনীতিতে তিনি তেমন কোন টাকা খরচ করতে দেখা যায় না। চতুর এ রাজনীতিবিদ সব সময় থাকেন ক্ষমতায়। দাপটের সময় সেই সময় আদমজী ইপিজেড, নারায়ণগঞ্জ সওজ ও সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার ষ্টেশনে ব্যবসা করেছিলেন। এখনও গিয়াস উদ্দিনের সহযোগীদের সাথে সম্পর্ক রাখেন। যার প্রমাণ তার মোবাইল কললিষ্ট পরীক্ষা করলেই পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহ-সভাপতি। তার স্বজনদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে বলে জানায় এলাকাবাসী। তার শ্যালক কালাম ইতিপূর্বে মাদকসহ গ্রেফতার হয় বলে জানায় এলাকাবাসী। তার ভাই আলী আরশাদ মাদক মামলায় একাধিকবার জেল খাটে বলে জানায় এলাকাবাসী।
এমন অভিযোগের বিষয়ে কাউন্সিলর আলী হোসেন আলার মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন আমি ব্যস্ত আছি পরে ফোন দেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন ।









Discussion about this post