নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (১৩ ডিসেম্বর) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সালেহ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বিকাল ৪টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।
এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জামান।
নগরীর ২নং রেলগেইট থেকে শুরু হয়ে চাষাড়া পর্যন্ত এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
শহরের এমন হকার উচ্ছেদের অভিযানের চিত্র দেখে নগরীর অনেকেই পুলিশের সামনেই কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, শহরের ১০/১২ জন লাইনম্যান (ফুটপাতের চাঁদাবাজ) আর থানা পুলিশের ক্যাশিয়ার কে কঠোর হস্তে শায়েস্তা করলেই বন্দ হবে এই ইদুর বিড়াল খেলার মতো উচ্ছেদ উচ্ছেদ নাটক । অতি সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বদলীর আগ মূহুর্ত পর্যন্ত ক্যাশিয়ার হিসেবে কন্সস্টেবল খালেদ, আজাদ পুরো শহরের ফুটপাতের ফাইনম্যানদের কাছ থেকে মোটা অংকের মাসোহারা আদায় করতো । ওসি আসাদুজ্জামান বদলী হওয়ার সাথে সাথেই এবার নতুন ওসির সাথে এরই মধ্যে নতুন ক্যাশিয়ার নিযুক্ত হয়েছে । ফলে উচ্ছেদ উচ্ছেদ নাটক চলছে, চলবে বলেও মন্তব্য করেন পথচারীদের অনেকেই।

এ সময় বঙ্গবন্ধু সড়কের দুপাশের ফুটপাতে থাকা হকারদের ফুটপাত ছেড়ে দেবার নির্দেশ দেওয়া হয়। উচ্ছেদ অভিযান চালালেও এসময় কোন হকারকে আটক বা তাদের মালামাল জব্দ করেনি পুলিশ।
ফুটপাতে হকার উচ্ছেদের পাশাপাশি সড়কের নো-পার্কিং জোন স্থানগুলোতে প্রাইভেট কার ও মোটর সাইকেলও সড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু সড়কের দুপাশে থাকা বহুতল ভবনের ব্যবসায়ী ও দোকানদার নিজেদের দোকানের গন্ডি পেরিয়ে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করায় তাদের সতর্ক করা হয় যাতে করে তারা দোকানের বাইরের যে ফুটপাত তা দখল করে ব্যবসা না করে।
অভিযান প্রসঙ্গে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানটি আমাদের নিয়মিত অভিযানের অংশ। অভিযান শুরু হওয়ার আগেই হকাররা ফুটপাত থেকে নিজেরাই সড়ে গেছে। যে কারণে কাউকে আটক কিংবা জব্দ কিছুই করা হয়নি। শুধু হকার উচ্ছেদ নয়। যারা অবৈধ পার্কিং করে তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
এমন উচ্ছেদের ঘটনায় পথচারীদের অনেকেই তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে আরো বলেন, কয়েকদিন পূর্বে ঢাক ডোল পিটিয়ে স্যুট টাই পরে বিশাল আয়োজন করে ফুটপাত থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফটোসেশান করলো ডিপিডিসি । কিন্তু ২৪ ঘন্টা না পেরুতেই আবার যেই লাউ সেই কদু । নগরবাসীর সাথে ‘ভানুমতীর খেলা’ খেলছে প্রশাসনের নির্লজ্জ কর্মকর্তারা । আর নগরবাসীকে বোকা বানিয়ে ফাইনম্যান আর পুলিশের ক্যাশিয়াররা মিলেমিশে এমন নাটক মঞ্চায়ন করেই যাচ্ছে বছরের পর বছর যাবৎ ।









Discussion about this post