শিল্পাঞ্চলখ্যাত নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা কিংবা রূপগঞ্জ । জেলার আড়াইহার কিংবা বন্দর ! সদর কিংবা সোনারগাঁ কোথায় চলছে না গ্যাস চুরির মহোৎসব । সর্বত্রই গ্যাসের প্রয়োজন অনেক বেশি। নারায়ণগঞ্জের হাজার হাজার শিল্প কল কারখানায় নেওয়া এসব গ্যাসের পাইপ লাইন থেকে বাসা বাড়িতে গ্যাস নিচ্ছে প্রতিটি এলাকার প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
বিভিন্নভাবে তিতাস গ্যাস নারায়ণগহ্জ অফিস কিংবা সোনারগাঁ রূপগঞ্জের যাত্রামূড়া শাখা অফিসকে ম্যানেজ করে প্রভাবশালী মুখোশের আড়ালে চোরেরা মূল্যবান রাষ্ট্রীয় এই সম্পদের হরিলুট করছে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব সংযোগও দেয় বাড়ির মালিকদের কাছে ।
চাষাড়ার বালুর মাঠ এলাকার তিতাস কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের ম্যানেজ করে ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও শহরের প্রায় প্রতিটি এলাকায় বাণিজ্যিক ও আসাসিক সংযোগের ক্ষেত্রে গ্যাস চুরির মহোৎসব চলছে বিরামহীনভাবেই । নিয়মিত নিদ্দিষ্ট অংকের মাসোয়ারা দিয়েই এমন অবৈদ সংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে অসাধুৃরা । আর বাসা বাড়িতে একটি আবাসিক সংযোগ নিয়ে কোন অনুমতি ছাড়াই । আর তিতাস অফিসের যন্ত্রাংশ ব্যবহার ও লোকজনের যোগসাজসেই রাস্ট্রিয় সম্পদ তিতাস চুরির মহাযজ্ঞ ।
অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রীয় এই সম্পদ চুরির ঘটনা এ অঞ্চলের পুলিশকে জানালেও নেওয়া হয় না ব্যবস্থা। এমনকি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ চিহ্নিত অবৈধ গ্যাস চোরদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই ফিরে আসে। উল্টো গোপন খবর প্রদানকারীদের নানাভাবে হেনস্তা করে পুলিশ। এমন ঘটনার অসংখ্য উদহারণ বয়েছে ।
গত শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়া এলাকায় মীম শরৎ টাওয়ারের সামনে মধ্যরাতে অবৈধ সংযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়দের এমন খবরের ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে অজ্ঞাতনামা শ্রমিক তড়িঘড়ি করে গর্ত বন্ধ করার চেষ্টা করেন এবং বাকিরা পালিয়ে যায়। সেই শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই গর্তের মাধ্যমে সেই মেইন লাইন থেকে গ্যাস নিয়ে বাড়িতে সংযোগ দেওয়া হবে।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই বেড়িয়ে আসে নারায়ণগঞ্জের অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানকারী প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মূল হোতা কাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বের একটি সিন্ডিকেটের নাম। পুরো নারায়ণগঞ্জের ৫টি উপজেলায় স্থানীয় রাজনীতিবিদদের ম্যানেজ করে এই কাজিম উদ্দিন সিন্ডিকেট তিতাস গ্যাসের লুটপাট করে হাজার কোটি টাকার মালিক । আর এই চোরাই কাজের বৈধতা পেতে এবং প্রশাসনিক ঝামেলা এড়াতে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতাদের ম্যানেজ করে নিজেই আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গত কয়েক দিনে রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, সোনারগাঁ, বন্দর, ফতুল্লা ও সদর এলাকায় সুযোগ মতো উল্লেখিত বেশকিছু এলাকায় রাতের আঁধারে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে । মূলত রমজান মাসেই এই অবৈধ সংযোগ প্রদানের হিড়িক বেশি থাকে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অবৈধ সংযোগ প্রতি ২০-৫০ হাজার পর্যন্ত মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবৈধ গ্যাস গ্রহীতারা বলেন, এলাকায় প্রায় ৪০-৫০টা বাড়িতে গ্যাস দিবে বইলা ২০-৫০ হাজার কইরা টাকা নিছে তারা। আমরাতো জানি না কোনটা বৈধ, কোনটা অবৈধ। এখন আমাদের দিছে আমরা নিচ্ছি।
অবৈধ গ্যাস চুরির খবর প্রদানকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি সাংবাদিকদের বলেন,‘ভাই এলাকায় তো আমারে নিয়া তাণ্ডব চলতাছে। আমি না কি এলাকায় পুলিশ, সাংবাদিক আইনা ভরায় ফেলছি । নানাভাবে চাপ আসতেছে আমার ওপর।
এমন তিতাস গ্যাসের চুরির বিষয়ে বরাবরই নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরের চাষাড়া বালুর মাঠ এলাকার কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলেও সকল সময়ই উদাসীনতার পরিচয় দেয় কর্তৃপক্ষ । ফলে রাতের আধারে কিংবা দিনের আলোয় এমন অবৈধ সংযোগ চলছেই বিরামহীনভাবে ।









Discussion about this post