নারায়ণগঞ্জ জেলা গণপূর্ত বিভাগের হাজার হাজার কোটি টাকার টেন্ডারবাজিতেও আধিপত্য বিস্তার করতো জেলার কয়েকজন নেতাসহ র্যাবের হাতে আটক যুবলীগ নেতা পরিচয় দানকারী শামীম ওরফে জি কে শামীম । যদিও জি কে শামীম আটক হওয়ার পর যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর জানান,‘জি কে শামিম যুবলীগের কেউ নন। তার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। জানতে পেরেছি শামীম নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।’এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সমবায় সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেয়া হলেও কোনো সংগঠনই তাকে নিজেদের নেতা বলে স্বীকার করেনি
নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা শামীম ওরফে জি কে শামীমকে আটক করেছে র্যাব।
দেহরক্ষীদের মধ্যে প্রধান দেহরক্ষী শহীদুল মুরাদ কামাল ও জাহিদের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিকেতন ৪ নম্বর রোডের ১১৪ নম্বর ভবনে জিকেবি কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড শামীমের বাণিজ্যিক কার্যালয়। জি কে শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক। একই সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি।
দুপুর ২টার দিকে ওই বাসায় ঢুকে প্রথমেই দেখা যায় বিশাল গ্যারেজ। গ্যারেজের পাশে কাঁচ দিয়ে ঘেরা একটি অফিস কক্ষ, এখানে কর্মচারী ও কর্মকর্তারা বসেন। ওই ঘরের পাশে দুটি দামি মোটরসাইকেল রাখা রয়েছে। কক্ষের পাশে দুই পাল্লার একটি কাঠের দরজা। দরজার দামি কাঠের চৌকাঠ চোখে পড়ার মতো।
তার কাছ থেকে নগদ দেড় কোটি টাকা এবং প্রায় ২০০ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট রেটের (এফডিআর) কাগজপত্র পায় র্যাব। এরপর সাংবাদিকদের ওই নগদ টাকার বান্ডিল দেখার সুযোগ দেয়া হয়।
অফিসে সাংবাদিক ও র্যাকে ঢুকতে দেখে হতভম্ব হয়ে যান শামীম।র্যাব অভিযান পরিচালনার সময় ছবি তুলেন সাংবাদিকরা।
এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে ক্যাসিনো শামীম বলেন, আমার একটা সম্মান আছে। আল্লাহর ওয়াস্তে ছবি তুইলেন না, আমাকে বেইজ্জতি কইরেন না। এখানে যা হচ্ছে, আপনারা দেখছেন। কিন্তু আমাকেও আত্মপক্ষ সমর্থন করতে দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘প্লিজ ছবি তুলবেন না।’
শামীম ছবি তুলতে নিষেধ করলে র্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযানের স্বচ্ছতার জন্য মিডিয়া আমাদের সহযোগিতা করছে। আপনিও আমাদের সহযোগিতা করুন।
অভিযানের পুরো সময়টুকু নিজেকে ক্যামেরা থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন শামীম। কখনও দাঁড়িয়ে, চেয়ারে বসে, হাত দিয়ে মুখ ঢাকছিলেন তিনি। আবার এটা-ওটা খোঁজার জন্য দীর্ঘক্ষণ টেবিলের নিচে মাথা ঢুকিয়েও রাখেন।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে শামীম থাকেন বনানীর ডিওএইচএসে। আর নিকেতনে ৫ নম্বর সড়কের ১৪৪ নম্বর ভবনটি তিনি তার জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের অফিস হিসেবে ব্যবহার করেন।
তিনি নারায়ণগঞ্জের অনেকে নেতার সাথে অর্থনৈতিক লাভের কারণে সখ্যতা রেখে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতো বলেও জোড় অভিযোগ উঠেছে । নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন ঠিকাদার ও এক নেতার টোকেন ছাড়া গণপূর্ত তেকে কোন কাজ করার সাহস করতো না কোন ঠিকাদার । লিয়াজো ও নেতাদের কাছে অগ্রিম কাজের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে চাঁদা না দিয়ে কোজ করার ক্ষমতা ছিলো না কারোর ই । শহরের নিতাইগঞ্জের এক ঠিকাদার নারায়ণগঞ্জের একজন সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে জিকে শামীমের মাধ্যমে ঠিকাদারীর নিয়ন্ত্রণ করতো।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন ঠিকাদার আলোচনাকালে বলেন, নারায়ণগঞ্জে যে কোন ঠিকাদার কাজের জন্য সিডিউল ক্রয় করতে গেলেই কয়েকজন নেতা তাতে বাধা দেয় । এরপর একজন সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে, তাতেও যদি কাজ না হয় সে ক্ষেত্রে জিকে শামীমকে ব্যবহার করে স্বার্থ হাসিল করে নিচ্ছে নারায়ণগঞ্জের স্বার্থান্বেষী মহলটি ।









Discussion about this post