সিদ্ধিরগঞ্জে মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে চাচাতো ভায়রার (চাচাতো বোনের জামাই) ৭ বছরের শিশু সন্তানকে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার সুজন (২৮) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ মে) বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সুজন।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান স্বীকারোক্তি প্রদানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার (৫ মে) বিকেলে নিহত শিশুর বাবা রাজু বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা হামলা দায়ের করেন সুজনের বিরুদ্ধে।
নিহত শিশু রিয়াদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৪ মে অভিযুক্ত সুজনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি শিশু রিয়াদ হত্যার কথা স্বীকার করলে এবং তার দেওয়া তথ্যমতে বুধবার ভোরে জালকুড়ি তালতলা এলাকার মাদবর বাজার সংলগ্ন বিলের ডোবা থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গত ২৪ এপ্রিল বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল শিশু রিয়াদ। ২৮ এপ্রিল একটি মোবাইল নাম্বার থেকে রিয়াদের বাবার কাছে ফোন করে দেড় লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ঐদিন রিয়াদের বাবা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করে। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে এবং রিয়াদের বাবার সন্দেহের ভিত্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল এবং উপ-পরিদর্শক শওকত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত সুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সুজন শিশু রিয়াদকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং লাশের সন্ধান দেয়। শিশু রিয়াদকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।
পুলিশ জানায়, ২৪ এপ্রিল শিশু রিয়াদকে অপহরণ করে ঐ রাতেই তাকে হত্যার পর লাশটি গুম করার উদ্দেশ্যে জালকুড়ি এলাকার বিলে একটি ডোবায় পানিতে ভাসমান জঙ্গলের নিচে লুকিয়ে রাখে সুজন। আটককৃত আসামী জালকুড়ির একটি রোলিং মিলে কাজ করতো এবং চর সুমিলপাড়া এলাকায় বাস করতো। অপরদিকে শিশু রিয়াদের পরিবার মুনলাইট এলাকায় করিম মিস্ত্রির বাড়ির ভাড়াটিয়া। শিশু রিয়াদের পরিবার এবং অভিযুক্ত আসামি উভয়ের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায়। কর্মসূত্রে তারা সিদ্ধিরগঞ্জে ভাড়াটিয়া হিসেবে আলাদা আলাদা ঠিকানায় বসবাস করে।









Discussion about this post