নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
শহরের চাষাড়ায় রেলওয়ের জমি দখল করে গড়ে উঠা কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করার ঘটনায় দীর্ঘদিন পর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ।
সোমবার ২৯ জুলাই সকাল থেকে ওই উচ্ছেদে শহরের ব্যাপকভাবে সমালোচিত দখলদার ও ভুমিদস্যু জয়নাল আবেদীনের আল জয়নাল ট্রেড সেন্টার, মাদক ব্যবসায়ী কাশেম জামালের মালিকানাধীন বেলী টাওয়ার ও বাগানবাড়ী রেষ্টুরেন্টসহ প্রায় শতাধিক স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে । এছাড়াও রেল লাইনের দুই পাশের সকল অবৈধ স্থাপনা । উচ্ছেদ চলাকালীন সময়ে বেলী টাওয়ারের পক্ষে থেকে এক দিনের সময় চেয়ে আবেদন করে । দখলদার এই চক্র নানাভাবে দখলকৃত সম্পত্তি নিজেদের বলে দাবী করে টালবাহানা করতে দেখা গেছে ।
এমন উচ্ছেদ চলাকালীন সময়ে উপস্থিত অনেকেই কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, উচ্ছেদের মধ্যে কয়েকটি বস্তি ঘর রয়েছে । যাদের জন্য কষ্ট হচ্ছে । কিন্তু রাঘর বোয়াল শহরের চিহ্নিত প্রতারক ও নিজেকে শিক্ষানুরাগী দাবীকারী মাদক ব্যবসায়ী কাশেম জামাল রেলওয়ের সম্পত্তির উপর অবৈধভাবে বহুতল ভবন তৈরী করায় ধিক্কার জানানোর ভাষাও পাচ্ছি না। একই সাথে শহরের আরেক ভূমিদস্যু জয়নাল কতটা নগ্ন পন্থায় অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে তার হিসাব কেউ নিচ্ছে না । এই অপরাধীদের রুখবে কে ? বিরূপ মন্তব্য করে অনেকেই দখলদার অপরাধীদের বারবার ধিক্কার জানাতে দেখা যায় ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে অভিযানে রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ভূমি বিষয়ক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম সহ রেলওয়ে পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের শুরুতে চাষাঢ়া রেল স্টেশনের দুইপাশের শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পরে ধীরে ধীরে উচ্ছেদ চলে কেন্দ্রীয় রেলওয়ে স্টেশন অভিমুখে। চাষাঢ়া রেললাইন সংলগ্ন জাতীয় পার্টি নেতা আল জয়নালের মালিকানাধীন আল জয়নাল ট্রেড সেন্টারের পশ্চিম দিকের ১০ ফুট জায়গা ভেকু দিয়ে ভেঙ্গে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিভিশনাল (ঢাকা) এস্টেট অফিসার নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, রেলওয়ের দুই পাশে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলছে। যারা অবৈধ ভাবে রেলের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছিলো তাদেরকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে
সকাল ১০ টার দিকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এসময় তারা একটি এতিমখানা, বাগান বাড়ি রেস্টুরেন্টসহ বেশ কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন। পরে রেলওয়ে জমিতে অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা কাশেম জামালের মালিকানাধিন বেলী টাওয়ার এবং জাতীয় পার্টির নেতা জয়নালের মালিকানাধিন আল জয়নাল ট্রেড সেন্টারের কিছু অংশ উচ্ছেদ করতে যায় উচ্ছেদকারী দল। কিন্তু এসময় দুই ভবনের কর্তৃপক্ষ কালক্ষেপনের জন্য নানা টালবাহানা শুরু করে। তবে, কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পেরে একদিনের সময় প্রার্থনা করেন তারা। এতে ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম তাদেরকে ১ দিনের সময় দেন।
এদিকে অন্য স্থাপনার ক্ষেত্রে কোনো সময় না দিয়ে তাদের ক্ষেত্রে সময় দেওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে স্থানীয়রা। পরে স্থানীয়দের জোর আপত্তির কারণে বেলী টাওয়ার ও আল জয়নাল ট্রেড সেন্টারের পিছনের কিছু অংশ উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে উচ্ছেদকারী দল।









Discussion about this post