নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের কথিত যুবলীগকর্মী টাইগার ফারুক চাঁদাবাজি ও ডাকাতি প্রস্তুতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছে। কিন্তু মজার বিষয় হলো টাইগার ফারুক নিজেকে যুবলীগ কর্মী দাবি করলেও তার ছোটভাই ছাত্রদল নেতা জুয়েল রানা আওয়ামীলীগকে বলছেন ‘সেক্সলীগ’।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত আইডি থেকে আওয়ামীলীগকে ‘সেক্স লীগ আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেয়া ছাড়াও আওয়ামীলীগ তথা বর্তমান সরকারের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে অসংখ্য পোস্ট দিয়েছে সে।
এলাকার লোকজন এখন বলাবলি করছে ‘বড় ভাই বলে যুবলীগ, আর ছোট ভাই বলে সেক্সলীগ’। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে। তারা বলছেন, কথিত যুবলীগকর্মী দাবী করা টাইগার ফারুক মূলত দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারী। সে তার পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করতে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে মিশে গেছে। কারণ এক সময় টাইগার ফারুক বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে শামীম ওসমানের নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী ক্যাম্প জ্বালিয়ে দেয় টাইগার ফারুক ও তার বাহিনী। তাছাড়া তার বাবা আবু সাইদ, চাচা আমির হোসের, মেঝ ভাই জসিম ও ছোট ভাই জুয়েল রানা বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। শুধু তাই নয়, জসিম ছিনতাই ও ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামী। ছিনতাই করতে গিয়ে হাতে নাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। আর জুয়েল রানা নাশকতার মামলাসহ কয়েকটি মামলার আসামী। বর্তমানে পলাতক। এছাড়া জসিম ও জুয়েল রানা দুইজনেই ফারুকের মতো মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।
টাইগার ফারুকের ছাত্রছায়ায় থেকে জুয়েল রানা সরকার বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। কিন্তু টাইগার ফারুক আওয়ামীলীগের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে তার ভাই জুয়েল রানাকে শেল্টার দিয়ে আসছে।
আওয়ামীলীগের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, যার পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। ছোট ভাই নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি। সারাক্ষন আওয়ামীলীগ ও সরকারকে ফেসবুকে তুলোধুনু করে। সেই পরিবারের ছেলে টাইগার ফারুক নিজেকে যুবলীগের কর্মী পরিচয় দেয়ার সাহস পায় কোথায়? ধারনা করা হচ্ছে, টাইগার ফারুক তার পরিবার ও ভাইকে রক্ষা করতে কৌশলে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে মিশে আছে। আর যুবলীগের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে নিরাপদে মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছে।
সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি ক্যানেল পাড়, পাগলাবাড়ি, মুজিববাগ এলাকার আওয়ামীলীগের সমর্থক লোকজন বলছেন, টাইগার ফারুক মুলত আওয়ামীলীগের নাম ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা করছে। মাদক বিক্রির টাকা শীর্ষ নেতাদের পিছনে খরচ করে তাদের সাথে ছবি তুলে সেই ছবি পুজি করে নিজেকে যুবলীগ কর্মী পরিচয় দেয়। এবং গড়ে তুলেছে কথিত যুবলীগের কার্যালয়। যেই কার্যালয়ে মুলত মাদক কেনা-বেচা ও সেবন হয়। বিষয়টি গোপন থাকতো যদি টাইগার ফারুকের ১০
সহযোগি গ্রেপ্তার না হতো। গ্রেপ্তারকৃত এই ১০ সহযোগির নিয়মিত আড্ডা ছিল কথিত ওই যুবলীগ কার্যালয়ে।
মাদক বিক্রির টাকায় রাতারাতি বহুতল ভবনের মালিক বনে গেছে টাইগার ফারুক। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানও সেদিকে ইঙ্গিত করে বলেন, কিভাবে সম্ভব ১-২-৩ বছরে ৬তলা বাড়ি বানানো। তিনি আরও বলেন, টাইগার ফারুক দলের কেউ না।
এদিকে টাইগার ফারুকের অপরাধী চক্রের সিন্ডিকেট সদস্যরা কেউ আত্মগোপনে কেউ এখনো এলাকায় বহাল তবিয়তে রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের দাবী জানাচ্ছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, এই অপরাধী চক্রের সদস্যরা মাদক, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ এমন কোন অপকর্ম নাই যা তারা করে না। এই বাহিনী ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে এক যুবকে হত্যা করেছে। এছাড়া দুই বছর আগে বাকপ্রতিবন্ধী এক যুবককে ছেলে ধরা আখ্যা দিয়ে পাগলাবাড়ি এলাকায় নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এলাকাবাসী জানায়, ওই ঘটনার সাথে টাইগার ফারুক বাহিনী জড়িত। যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।
ওদিকে টাইগার ফারুক কারাবন্দি হওয়ার পর এলাকাবাসীর মুখে টাইগার ফারুক ও তার বাহিনীর নানা অপকর্ম আলোচিত হচ্ছে। তারা বলছেন, পাপ বাপকে ছাড়ে না। টাইগার ফারুক আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের চোখে ধূলি দিয়ে তার অপকর্ম চালিয়ে আসছে। যা এখন প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত: ৪ মে রোববার সিদ্ধিরগঞ্জে মিজমিজি টিসি রোড এলাকা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ টাইগার ফারুককে আটক করে। পরে তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকার চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ি। ওই মামলায় টাইগার ফারুকের ভাই জসিম ও ফেন্সি বাবু আসামী। এছাড়া মঙ্গলবার টাইগার ফারুককে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় শ্যেন এ্যারেস্ট দেখিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে সে কারাগারে রয়েছে।









Discussion about this post