আহারে ঝালমুড়ি ! জিহবায় জল এসে যাচ্ছে। আর সেই জিহবার কারনে এবার ট্রেন থামিয়ে দিলেন চালক । একদিন বা দুই দিন না, প্রায় ৫/৭ দিন দেখার পর ভিডিও করে ফেসবুকে প্রচারের পর তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে নারায়ণগঞ্জে।
ঝালমুড়ি কে না পছন্দ করেন, অনেকেই আবার মুখরোচক এই খাবার খেতে পায়ে হেটেও চলে যান অনেক দূর। কেউ কেউ হুট-হাট গাড়ি থামিয়ে পছন্দের খাবার খেয়ে নেন, নতুন নয়। তবে, এবার রেকর্ড করেছেন নারায়ণগঞ্জের এক ট্রেন চালক। তিনি মাঝ পথে ট্রেন থামিয়ে কিনেছেন তার প্রিয় খাবার ঝালমুড়ি !
৩০ নভেম্বর রাতে স্যোশাল মিডিয়ায় এমনই একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অনেকেই ব্যাপারটি নেতিবাচক ভাবে দেখছেন।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, ঢাকাগামী একটি ট্রেন থামিয়ে চালক নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে উকিলপাড়া এলাকার রেল সড়কের পাশে বসা এক নারী বিক্রেতার কাছ থেকে ঝালমুড়ি সংগ্রহ করছেন।
ভিডিও ধারণ করা ব্যক্তি দিপ্ত সাহা ১ ডিসেম্বর রাতে জানান, বিষয়টা প্রায় ৫/৬ দিন খেয়াল করেছি, কালকে (৩০ নভেম্বর) ভিডিও ধরণ করেছি।
নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশনের সদ্য বদলী হওয়া স্টেশন মাস্টার গোলাম মোস্তফা জানান, ‘নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ট্রেন ৪০ মিনিটের মধ্যে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ পৌছানোর কথা। সেখানে কখনো কখনো ৫০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টারও বেশি সময় লাগে।’
ব্রিটিশ, এরপর পাকিস্তান আমলের বিখ্যাত ও প্রাচীনতম রেল লাইন গুলোর মধ্যে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ রেল পথটি অন্যতম। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৫টি ট্রেন দিনে ৩০ বার এই রোডে ৩০ হাজারের বেশী যাত্রী আসা যাওয়া করে। অথচ, লক্কড়ঝক্কড় বগিতে সিট ছেঁড়া, জানালা গুলোও ভাঙা। অনেক বগিতে লাইট-ফ্যান নেই। খুব স্বল্প গতিতে চলছে ট্রেন। তারপরেও অন্যান্য পরিবহন থেকে ভাড়া তুলনামূলক কম হওয়ায় নিম্ম ও মধ্য আয়ের মানুষ গুলোর ভরসা ট্রেন পথটি। তাইতো দাঁড়িয়ে-বসে, গাদাগাদি করে ভ্রমণ করেন নারায়ণগঞ্জের মানুষ।
ঝালমুড়ির ব্যাপারটি নিয়ে বর্তমান নারায়ণগঞ্জ স্টেশন মাস্টার কামরুল ইসলাম জানান, আমি এখনও এমন কোন ভিডিও দেখিনি বা অভিযোগ পাইনি। যদি ট্রেন থামিয়ে ঝালমুড়ি খেয়ে থাকে, তাহলে খুব খারাপ কাজ করেছি। আমি খবর নিচ্ছি, কে করেছে। প্রমান পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









Discussion about this post