গ্রাম্য ভাষায় প্রবাদ আছে, “কারো সর্বনাশ আবার কারো পৌষ মাস !” এ প্রবাদের যথার্থ প্রমাণ করছে ওষুধ ব্যবসায়ীরা । বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ডেঙ্গু আতংকে যখন দেশের মানুষ দিগ্বিদিক হয়ে উঠেছে তখন আমাদের দেশের অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ীরা ওষুধের পন্য আমদানীর নাম করে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে নকল ওষুধ তৈরী করে বাজারজাত করছে । যা থেকে বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা শহর ও সকল উপজেলায় এই ভেজাল কারবারীদের দৌড়াত্মে পাগলপ্রায় হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ ।
নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
বাংলাদেশে প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মশা প্রতিরোধক পণ্যের দাম।
সারাদেশে ডেঙ্গু সতর্কতার কারণে মশা নিরোধক ক্রিম, জেলসহ নানা পণ্যের দাম এক ধাপে বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।
নারায়ণগঞ্জ শহরের কালীর বাজার, ডিআইটি, সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ও চৌরাস্তা, সদর উপজেলার শিমরাইলসহ সকল পাইকারী ও খুচরা ওষুধ ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ এলাকায় যে মসকিটো রেপেলেন্টের দাম ছিল ৮০ থেকে ১২৫ টাকা সেই একই পণ্য এখন বিক্রি করছে ৩০০টাকা থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত ।
এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে ভোক্তাদের নানা অভিযোগের মুখে রবি, সোম, মঙ্গল ও বুধবার সকাল থেকে শহরের কালীরবাজার, ডিআইটি ও চাষাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা ওষুধ ব্যবসাীয়দের সাথে আলোচনা করলে সকলেই এক বাক্যেই বলেন, ভাই আমদানী কারক কোন অবস্থাতেই কম দামে বিক্রি করছে না । তাই আমরাও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে এই ওষুধ রাখতে বাধ্য হচ্ছি ।
নাম প্রকাশ না করার জোড়ালো অনুরোধ করে কয়েকজন ফার্মেসির দোকানী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নারায়ণগঞ্জের আনাচে কানাচে, কয়েকটি নকল অডোমাস তৈরীর কারখানা রয়েছে । যারা এই ওষধ নামধারী মশা নিরোধ পন্য বিক্রি করে তারাই ভালো বলতে পারবেন । কোথায় কি করে তৈরী হচ্ছে এই নকল পন্য । এই নকল পন্যসহ ধরা পরলে তার ব্যবস্থাও করে রেখেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা । মোবাইল কোর্ট আসলে জরিমানার জন্য পৃথক করে কয়েক লাখ টাকাও প্রস্তুত রেখেছে মহাধূর্ত নকল পণ্য (ওষুধ) ব্যবসায়ীরা ।
প্রায় সকল ওষুধ ব্যবসাীয়দের এক ধরণের এমন মন্তব্য প্রমাণ করে সিন্ডিকেট করেই বেশিরভাগ ফার্মেসি তাদের ইচ্ছামতো দাম রাখছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ ওষুধ প্রশাসনের কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, মশা নিরোধ পন্য অডোমসসহ অন্যান্য অনেক পন্য যা ওষুধের আওতায় পরে না । এগুলি কোন ফার্মেসিতেও রাখতে পারবে না । কোন ফার্মেসিতে এই পন্য বিক্রি করলে তা জেল জরিমানা করার বিধান রয়েছে । এরই মধ্যে জেলা ওষুধ প্রশাসন সোনারগাঁয়ে একটি ভেজাল ওষুধ কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৬মাসের কারাদন্ডসহ জরিমানা করা হয়েছে । আমরা এই বিষয়ে তৎপর রয়েছি ।
“এজন্য আমাদের কয়েকজন সদস্য ছদ্মবেশে ক্রেতা হয়ে এসব ফার্মেসিতে যায়। যেই ও ডোমসের দাম ছিল ৭০/৮০ টাকা সেটা তাদেরকে কিনতে হয়েছে ৫০০ টাকায়। মানে কতোগুণ বেশি দাম খালি ভাবেন।”
কলাবাগানের কয়েকটি ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়।
মশা প্রতিরোধক এই পণ্যগুলোর বেশিরভাগই আসছে ভারত থেকে এবং এগুলো আমদানির কোনও বৈধ কাগজপত্রও ফার্মেসিগুলোর দেখাতে পারেনি।
মূলত তারা ‘লাগেজ পার্টির’ মাধ্যমে অবৈধভাবে এই ক্রিমগুলো আনেন বলে মন্তব্য করলেও আসলে সকল পন্যই নকল।
অবৈধভাবে পণ্য আমদানি সেইসঙ্গে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম রাখার অভিযোগে রাজধানীতে কয়েকটি ফার্মেসিকে সাময়িক বন্ধের পাশাপাশি জরিমানা করা হলেও নারায়ণগঞ্জে এর কোন প্রভাব পরতে দেখা যায় নাই । ফলে নারায়ণগঞ্জের অসাধু ব্যবসায়ীরা নিবিগ্নে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অবেধ কারবার ।
যদিও নারায়ণগঞ্জের অনেক বিক্রেতাদের দাবি সরবরাহ কম কিন্তু চাহিদা বেশি থাকার কারণে তাদেরকে এসব পণ্য আমদানিকারকদের থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এ কারণে এসব পণ্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
দেশের এমন সংকটময় পরিস্থিতিকে পুঁজি করে যারা মুনাফা লুটছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি করে দিয়েছেন নারায়ণগহ্জ জেরা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ।
এদিকে ডেঙ্গু নিয়ে সারাদেশে যখন আতঙ্ক বিরাজ করছে, তখন ভীষণ প্রয়োজনীয় এই পণ্যগুলোর দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন ভোক্তারা।
শহরের চাষাড়ার ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দাম হয়তো বাড়াতে পারে, তাই বলে এতো বেশি ? এতো দামে তো সবাই এগুলো কিনতেও পারবে না। দেশের যে অবস্থা, এই ব্যবসায়ীদের তো উচিত মানুষের দিকটা ভাবা। আগের দামটাই তারা রাখুক। কিন্তু এইভাবে লাভ করতে থাকলে সাধারণ মানুষেরই তো ক্ষতি হচ্ছে।”
সেখানে দেখা যায় তারা এই মসকিটো রেপেলেন্টগুলো প্যাকেটের গায়ে লেখা দামের চাইতে পাঁচগুন বেশি দামে বিক্রি করেছে।
ডেঙ্গু নিয়ে আতংকিত নারায়ণগঞ্জের মানুষ এমতাবস্থায় জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ ইমতিয়াজ নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেটকে বলেন, মশা নিরোধক কোন পন্য নিয়ে কোন ধরণের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে জেরা ওষুধ প্রশাসন দেখে থাকেন । আমাদের এখন প্রধান উদ্দেশ্য হলো ডেঙ্গু নিয়ে এমন প্রেখ্ষাপটে কি করে নারায়ণগঞ্জের মানুষকে সঠিক সেবা দেয়া যায় । কোন অবস্থাতেই ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষা NFI ও IGG/IGM ৫০০ টাকার উপরে কোন ডায়াগণষ্টিক সেন্টার যেন না নিতে পারে । একই সাথে CBC পরীক্ষার ৪০০ টাকার উপরে কোন প্রতিষ্টান গ্রহন করলে আমাদের দপ্তরে জানানোর জন্য জোড় অুরোধ করছি ।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ ইমতিয়াজ ।









Discussion about this post