নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
নারায়ণগঞ্জ শহরের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে অসংখ্য অপরাধীরা প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছে নানা অপরাধ। জেলা শহরের কোন জ্বালানী তেলের ডিপো না থাকলেও শহরের ৫নং ঘাট এলাকায় এক সময়ের হোটেল বয় আবদুল্লাহ চোরাই তেলের রমরমা ব্যবসা করে শহরের কয়েকটি বাড়ী, বিশাল সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেছেন । চোরাই তেলের ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার চোরাই তেলের ব্যবসা করলেও কেউ তার টিকিটিও স্পর্শ করতে না পারলেও ফতুল্লার জ্বালানী তেল চোরাই কারবারী বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ যেমন সাধুবাদ পাচ্ছে তেমনি জোড়ালোভাবেই মহানগরজুড়ে উঠেছে ব্যাপক সমালোচনা।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানা সংলগ্ন লঞ্চ ঘাট এলাকা থেকে ১০ মার্চ রোববার সন্ধ্যায় জেলা ডিবি পুলিশের দারোগা আলমগীর হোসেন অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত তেল চোরাকারবারী ইকবার চৌধুরীর অবৈধ চোরাই তেলের গোডাউনে হানা দিয়ে রুবেল চৌধুরী, কামাল হোসেন, লোকমান হোসেনকে আটক করে । আটকের ঘটনা জানতে গণমাধ্যমকর্মীরা যোগাযোগ করলে দারোগা আলমগীর রোববার সন্ধ্যায় বলেন, “অভিযান চলছে । শেষ হওয়ার পর আপনাদেরকে সকল তথ্য জানানো হবে ।“ তিনজনকে আটকের পর প্রায় ৩০ ঘন্টা অতিবাহিত হলে ১১ মার্চ দিবাগত রাত ১২টার পর ফের তেল চোরদের বিষয়ে তথ্য জানতে দারোগা আলমগীরের সাথে যোগাযোগ করলে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি বলেন, অভিযান শেষ হয়েছে, অনেক রাত তাই হয়তো যদি সম্ভব হয় ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করবো এবং মঙ্গলবার দুপুরে আসামীদের আদালতে চালান করা হবে ।
নারায়ানগঞ্জ ডিবি পুলিশের দারোগা আলমগীরের এমন মন্তব্যের আগেই ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও শহরের সর্বত্র চাউর হয় ডিবি পুলিশ ১০৭ ড্রাম (ব্যারেল) অর্থাৎ প্রায় ২৫ হাজার লিটার জ্বালানী (ডিজেল, পেট্টোল অকটেন) জব্দ করার পর ইকবাল চৌধুরীকে না পেয়ে তার ভাই রুবেল চৌধুরীকে আটক করেছে । রুবেলকে ছাড়াতে তার স্ত্রী নানাভােবে তদ্বির চালাচ্ছে ।
জেলা ডিবি পুলিশ কর্তৃক ফতুল্লা থানায় দায়ের করা মামলা থেকে জানা যায়, রুবেল চৌধুরী, কামাল হোসেন, লোকমান হোসেনকে গ্রেফতার দেখানো হয় এবং পলাতক আসামী দেখানো হয়েছে তেল চোরের মূল হোতা ইকবাল হোসেন চৌধুরী, ফাজিলপুরের পাগলার মেয়ের জামাই ইব্রাহীম (৫৫), নূরা সেক্রেটারীর ভাই আবু সালাম (৫০), রহমতউল্লাহ ভান্ডারির ছেলে রনি ভান্ডারি (৩৮), সাবেক এমপি কবরীর ক্যাডার ও পঞ্চবপি ডালডা রোডের হাবিবুর রহমান মুন্সীর ছেলে পাভেল (৪০), ফাজিলুপুরের পাগলা রনি, ভান্ডারির মেয়ের জামাই রাসেল, ট্যাংক লড়ি মালিক সমিতির সভাপতি রহমতউল্লাহ ভান্ডারি, পঞ্চবটির বাবু চৌধুরী, পঞ্চবটির কোটিপতি বাবু (৪২), যমুনা ডিপো সংলগ্ন তিতাস মার্কেটের দোকানি ও আলেকের ছেলে রুবেল, একই এলাকার সরদার বাড়ির সাবেক যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম হিরো (৫২) এবং শহরের পাইকপাড়া/বাবুরাইল এলাকার মোফাজ্জল হোসেনকে আসামী করা হয় । আর এই মামলায় উদ্ধার দেখানো হয়েছে ৫৭ ব্যারেল (ড্রাম) জ্বালানী তেল । যা নিয়ে অভিনন্দনের পরিবর্তে সমালোচানর ঝড় উঠেছে সর্বত্র।
এমন ঘটনায় ফতুল্লায় ডিবির মামলায় এক পক্ষ আসামী অপর পক্ষ ছাড়, উদ্ধারকৃত তেল নিয়ে তেলেসমতি কারবারের অভিযোগ করেছে অনেকেই । অনেকেই সমালোচনা করে বলছে, ডিবি পুলিশের কার্যালয়ের মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে আবদুল্লাহর বিশাল চোরাই তেলের ব্যবসা । সিদ্ধিরগঞ্জের দুইটি ডিপো ঘিরে রমরমা চোরাই তেলের কারবার থাকার পরও শুধুমাত্র এক পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হলো কেন ? যাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে তারা চিহ্নিত তেল চোর এটা ঠিক কিন্তু অপর পক্ষ কেন এই অভিযান ও মামলা থেকে রক্ষা পেলো ।
ব্যাপক সমালেচনা থেকে আরো জানা যায়, তেল উদ্ধার, মামলার আসামী নির্ধারণ এবং অভিযানের পরও ৩০ ঘণ্টায় কোনো রকম তথ্য না দেওয়ার যে নাটক রচিত হয়েছে, এই নাটকের নেপথ্য কারিগর ছিলো চিহ্নিত সোর্স আনোয়ার। এই আনোয়ার ফতুল্লায় খুনের শিকার সোর্স শাওন হত্যা মামলার আসামী এবং পঞ্চবটি এলাকায় প্রকাশ্যে জুয়ার বোর্ড পরিচালনাকারী। তার সিন্ডিকেটে আরও রয়েছে, চিহ্নিত তেল চোর ও মাদক ব্যবসায়ী ফরহাদ, সোর্স বাদল, তেল চোর ইব্রাহীম ওরফে ইবুসহ মূখ্য ভুমিকা পালন করেছে একজন ডিবি পুলিশের (বিশেষ পেশার নামধারী) এক সোর্স/মাদক ব্যবসায়ী ।
সোর্স আনোয়ার দীর্ঘদিন ফতুল্লা অঞ্চলে থেকে প্রথমে থানা পুলিশ পরে ডিবি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করে। এই সময়ের মধ্যে তার দ্বারা ব্যাপক হয়রানি শিকার হয় ওই অঞ্চলের অজস্র সাধারণ মানুষ। সব থেকে ভয়ঙ্কর কর্মটি সে করে এক এগার সরকার সময়ে। ওই সময়ে ফতুল্লা থানার ওসি আশরাফুলসহ তিন পুলিশকে গ্রেফতার করানোর সাথে এই সোর্স এর একটা ভূমিকা ছিলো। এছাড়াও সোর্স হওয়ার সুবাদে স্থানীয় থানা পুলিশের অনেকেই নির্ভর ছিলো তার উপর। ফলশ্রুতিতে স্থানীয় তেল চোর, মাদক ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নানা অপরাধ জগতের মানুষদের সাথে গড়ে উঠে তার সখ্যতা। এরমধ্যে সে একটি সিন্ডিকেট গড়ে করে ।
এই সিন্ডিকেটের মধ্যে আরও ছিলো, তেল চোর ও মাদক ব্যবসায়ী ফরহাদ, কালুর ছেলে ইব্রাহীম ওরফে ইবু, সোর্স বাদল, মাদক বিক্রেতা সানি, চাড়াল মিনু, মাদক ব্যবসায়ী সাইদুল প্রমূখ। সূত্র জানায়, স্থানীয় অনেক মাদক ব্যবসায়ীরা সোর্স আনোয়ারের শেল্টারে নিরাপদে মাদকের ব্যবসা চালাতো। এরমধ্যে ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে ফতুল্লা সোর্স শাওন হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ হত্যা মামলার আসামী সোর্স আনোয়ার, ফরহাদ, ইব্রাহীম ওরফে ইবু, সোর্স বাদল। এরমধ্যে এ হত্যায় গ্রেফতার কথিত সাংবাদিক আরিফ আদালতে জবানবন্দী প্রদান করে। সে জানিয়েছিলো শাওনকে হত্যার পর ফরহাদের লাল রঙের হোন্ডাযোগে এনে মেঘনা ও যমুনা ডিপোর মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দিয়েছিলো। এদিকে ডিবি, থানা পুলিশের পরিবর্তীতে র্যাব-১১ এর সোর্স হিসেবে কাজ শুরু করে আনোয়ার।
এ সময় র্যাবের নাম ভাঙিয়ে পঞ্চবটির মোড়ে প্রকাশ্যেই ২৪ ঘণ্টাব্যাপী জোয়ার বোর্ড চালাতে থাকে ওই সিন্ডিকেট নিয়ে। এভাবে অনেকদিন চলার পর র্যাবের বিষয়টি আচ করতে পেরে সেখানে অভিযান চালায়। এরপর থেকেই নারায়গঞ্জ ছাড়া ছিলো আনোয়ার। তবে, সম্প্রতি সে নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসে ।
এরমধ্যে তাকে চাষাড়া এলাকায় বেশ কয়েকবার দেখা গেছে। এর মধ্যে উত্তর চাষাড়া ল্যাবএইড হসপিটালের উল্টোপাশে তেল চোর ফরহাদের বোন জামাই, তেল চোর ইব্রাহীম ওরফে ইবু এবং সোর্স বাদলের সাথে মিটিংও করে। এর কিছুদিন পর চাষাড়ায় বাগে জান্নাত মসজিদের কাছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক আলমগীর হোসেনসহ তার পুরো টীমের সাথে কোলাকুলি করাসহ আড্ডা দিতেও দেখা গেছে। জেলা গোয়োন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন দাবি করেছেন তিনি সোর্স আনোয়ার কে তাকে চেনেন না, জানেনও না।
কিন্তু আপনার সাথে আনোয়ারকে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিতে দেখা গেছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কারো সাথে হাই হ্যালো হওয়া মানেই তার সাথে আমার সম্পর্ক আছে তা নয়। কাউকে সুবিধা দেওয়ার কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি। মামলায় অজ্ঞাত আরও ৭ থেকে ৮ জন রয়েছে। সেসব স্থানে অন্যদেরও আনা হবে। এছাড়াও উদ্ধারকৃত তেল ৫৭ ড্রামই ছিলো দাবি করে ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, উপস্থিত সাক্ষীদের সামনেই ড্রাম মার্ক করা হয়েছে। গুণে ৫৭ ড্রাম উদ্ধার করেছি। প্রথম দিন কিছু উদ্ধার করি এবং পরের দিন আরও কিছু উদ্ধার করি। এ কারণে দুদিন এ অভিযান চলে। আমাদের অভিযান এখনও চলমান আছে। আমরা সমস্ত চোরদেরই গ্রেফতার করবো।
অভিযোগ উঠেছে অভিযানে ইকবালের গোডাউন থেকে ১০৭ ড্রাম তেল উদ্ধার করা হলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে ৫৭ ড্রাম। এছাড়াও মামলায় তিনজন আটক দেখালেও আসামী করা হয়েছে ১৬ জনকে। তবে, চাতুরতার আশ্রয় নিয়ে এই মামলায় তেল চোর ফরহাদ, ইব্রাহীম ওরফে ইবু, সালাউদ্দিনসহ আরও বেশ কয়েকজনকে আড়াল করা হয়েছে। তেল উদ্ধারের ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ডিবি পুলিশের এসআই আব্দুল জলিল মাতব্বর। মামলায় রুবেল চৌধুরী, কামাল হোসেন, লোকমান হোসেনকে গ্রেফতার দেখানো হয় এবং পলাতক আসামী দেখানো হয়েছে তেল চোরের মূল হোতা ইকবাল হোসেন চৌধুরী, ফাজিলপুরের পাগলার মেয়ের জামাই ইব্রাহীম (৫৫), নূরা সেক্রেটারীর ভাই আবু সালাম (৫০), রহমতউল্লাহ ভা-ারির ছেলে রনি ভান্ডারি (৩৮), সাবেক এমপি কবরীর ক্যাডার ও পঞ্চবপি ডালডা রোডের হাবিবুর রহমান মুন্সীর ছেলে পাভেল (৪০), ফাজিলুপুরের পাগলা রনি, ভা-ারির মেয়ের জামাই রাসেল, রহমতউল্লাহ ভান্ডারি, পঞ্চবটির বাবু চৌধুরী, পঞ্চবটির কোটিপতি বাবু (৪২), যমুনা ডিপোসংলগ্ন তিতাস মার্কেটের দোকানি ও আলেকের ছেলে রুবেল, একই এলাকার সরদার বাড়ির সাবেক যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম হিরো (৫২) এবং শহরের পাইকপাড়ার এলাকার মোফাজ্জল হোসেন। এদিকে একটি সূত্র বলছে ।
চোরাই তেলের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় দায়ের করা মামলার বাদী দারোগা জলিল মাতুব্বর নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেটকে বলেন, আমাকে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করতে বলা হয়েছে আমি শুধু স্বাক্ষর করেছি এর বাইরে আমি কিছু বলতে পারবো না । চোরাই তেলের বিষয়ে আমি কিছুই জানিও না ।









Discussion about this post