শেষ মুহূর্তে রাজধানী ছেড়েছে অনেক মানুষ। যদিও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে এবার রাজধানী ছেড়েছে অন্যান্য বারের তুলনায় কম মানুষ। রেল, ঘরমুখী মানুষের চেনা সেই জনস্রোত নেই। শেষ সময়ে বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, পিকআপ, ট্রাকে করে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে অনেককে। এবার ঈদগাহে জামাত হচ্ছে না। কোরবানির হাটে শেষ দিনে ভিড় ছিল। সেই তুলনায় পশু কম। মহামারির এই কালে কাগজে-কলমে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হচ্ছে।
এমনি ভিন্ন আবহে আজ শনিবার ১০ জিলহজ উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে ঈদুল আজহা। আমাদের দেশে এই ঈদ কোরবানির ঈদ নামেই পরিচিত। করোনা মহামারির মধ্যে গত ঈদে (ঈদুল ফিতর) চিরচেনা উৎসব চোখে পড়েনি। তবে এবারের চিত্র গত বারের তুলনায় ভিন্ন। শেষ মুহূর্তে রাজধানীর পশুর হাট, শপিংমল, বাজারে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ঈদুল আজহা আসে আত্মত্যাগের মহিমা নিয়ে। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক নর-নারীর জন্য এই ঈদে পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। আমাদের দেশে গরু ও ছাগলই কোরবানি করা হয় বেশি। অল্প কিছু মহিষ, ভেড়া, উট-দুম্বাও কোরবানি করা হয়। ধর্মীয় বিধান অনুসারে ঈদের দুই দিন পর অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজ তারিখেও কোরবানি করা যায়।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তাঁর উদ্দেশে পশু কোরবানির ভেতর দিয়ে নিজেদের ভেতরের পশুত্ব ও লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষকে কোরবানি করাই এই ঈদের মূল তাৎপর্য। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। তবে আল্লাহপাকের কুদরতে ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। ঈদের দিন সকালে ঈদগাহে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজের খুতবায় খতিবরা এই ঘটনার বয়ান দেন এবং কোরবানির তাৎপর্য তুলে ধরেন। তবে এবার আগেই সরকারিভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে না। মসজিদগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। গত ঈদুল ফিতরেও ঈদগাহে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়নি।
কোরবানির ঈদের আগে আগে পশু কেনা, তার পরিচর্যা করার মধ্য দিয়ে যে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, শহরের দৃশ্যপটে এবার তা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। ক্রেতারা হাট থেকে গরু কিনে গলায় জরির মালা, শিংয়ে রাংতা জড়িয়ে দড়ি ধরে টানতে টানতে বাসায় নিয়ে যাওয়ার সেই দৃশ্য এবার কমই চোখে পড়েনি। যাঁরা কোরবানি দিচ্ছেন, তাঁরাও হাটে হাটে বেশি ঘোরাফেরা না করে চটজলদি পশু কিনে বাসায় ফিরছেন। বরাবর যেমন অনেকে কোরবানির কয়েক দিন আগে পশু কিনে তাদের একটু পরিচর্যা করার চেষ্টা করেন, এবার তা থেকে বিরত থাকছেন। অনলাইন হাট থেকেও অনেকে পশু কিনেছেন।
গত ৩১ মে থেকে লকডাউন উঠে যাওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস-ট্রেন-লঞ্চসহ সব যানবাহন চালু হয়েছে। তবে নিরাপদ থাকতে অনেকে ঈদে বাড়ি যাওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। ফলে বরাবর বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও সদরঘাটে ঈদের সপ্তাহখানেক আগে থেকে ব্যাগ-বোঁচকা নিয়ে যে বিপুল জনস্রোত দেখা যায়, শেষ দিন (আজ) ছাড়া সেই দৃশ্য এবার ছিল না। এসব মিলিয়েই এক অন্য রকম কোরবানির ঈদ এসেছে এবার।
নারায়ণগঞ্জে ৪১০০ মসজিদে সাড়ে ৮ হাজার ঈদ জামাত
করোনা ভাইরাসের কারণে ঈদুল ফিতরের পর এবার ঈদুল আজহাতেও নারায়ণগঞ্জে কোন ময়দানে বা ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবেনা। তবে প্রতিটি মসজিদে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে ঈদের একাধিক জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ইসলামিক ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী জেলায় মোট ৪১শ মসজিদ রয়েছে। প্রতিটি মসজিদের একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী জেলায় এবার ঈদুল আজহায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার।
নারায়ণগঞ্জের ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে মাসদাইরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কবরস্থান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৭ টায়। এখানে দ্বিতীয় জামাত ৮ টায় ও তৃতীয় জামাত ৯ টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে জায়নামাজ ব্যতিত অন্য কিছু নিয়ে আসতে নিষেধ করা হয়েছে মুসল্লিদের।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জের উপ পরিচালক জাকির হোসাইন জানান, উন্মুক্ত স্থানে নামাজ হবেনা, বাসা থেকে সবাই ওজু করে আসবে, বাচ্চারা বয়স্করা আসবেনা, কার্পেট বিছানো যাবেনা, জায়নামাজ নিয়ে আসবে সকলেই এমনটাই আমরা দিক নির্দেশনা দিয়েছি। এবার ঈদে জেলায় মোট ৪১শ মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সাড়ে ৮ হাজারের মত। আশা করছি সবাই দিক নির্দেশনা মেনে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই ঈদের নামাজ আদায় করবেন।









Discussion about this post