এনএনইউ রিপোর্ট :
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর নতুন খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রথম অফিসে এসে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, “আমি সততা ও নিষ্ঠা নিয়েই এ পর্যন্ত এসেছি। আপনাদের কাছে আমার প্রত্যাশা, আমার ভেতর যাতে অহঙ্কার না ঢোকে, আমি যেন সততা বিসর্জন না দেই সেই দোয়া করবেন। এই দোয়া ও সততা নিয়েই খাদ্য মন্ত্রণালয় চালাতে চাই। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন । কোন প্রকার দূর্ণীতি আমার মন্ত্রণালয়কে যেন স্পর্শ করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখবেন ।
“খাদ্য মন্ত্রণালয়ে একটু কিছু হলেই দুর্নাম শুরু হয়ে যায়। আমাদের এই দুর্নাম যাতে না হয়।” এমন কঠোর আদেশ দেন নব নিযুক্ত খাদ্যমন্ত্রী ।
এমন খবর জানতে পেরে নারায়ণগঞ্জর একটি চিহ্নিত চোরাকারবারী চক্রের (এরই মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অসাধূ কর্মকর্তাদের সাথে নতুন করে সম্পর্ক তৈরী করতে প্রাণপন চেস্টা চালিয়ে আসছিলো ) মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরছে বলে চাউর উঠেছে জেলার পাইকারী বাজার নিতাইগঞ্জে । বিগত সময়ে এই চিহ্নিত চোরাকারবারী চক্র খাদ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের থেকে শুরু করে গেইট কিপারদের সাথে সম্পর্ক রেখে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন । এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের একজন সামান্য ডিমওয়ালা/ ভিউ কার্ড বিক্রেতা জেলায় অসংখ্য বাড়ি/গাড়ী/ফ্লাট/ জাহাজ ও মালিক বনে গেছেন চোখের পলকে । নিতাইগঞ্জের এক গম চোরাকারবারীদের গডফাদারও ( গম চোর হিসেবেই পরিচিত ) নানাভাবে দফায় দফায় চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে নব্য কোটিপতি এক ডিমওয়ালার সাথে ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন গম ব্যবসায়ী, আটা ময়দার মেজর মিল ফ্যাক্টরীর মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিতাইগঞ্জের চিহ্নিত একটি চক্র বিগত কয়েক বছরে টিআর, খাবিখা ছাড়াও সরকারী গম চোরাই পথে সরকারী গোডাউন থেকে চুরি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনেককেই হজ্বে নিয়ে যাওয়ার নামে চোরাই ব্যবসা করতে নানা মিশন চালিয়ে শত শত কোটি টাকার গম, আটা, ময়দার নামে লুটপাটের সাম্রাজ্য চালিয়ে আসছিলো ।
গত বছর দূদকসহ অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এই চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলে আত্মগোপনে চলে যায় নারায়ণগঞ্জের চিহ্নিত চোরকারবারীরা । নির্বাচনের পর এক চোরাকারবারী আবারো সেই চোর চক্রের মূল হোতাদের হাতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর চিত্র পত্রিকায় প্রকাশ পেলেও শেষ রক্ষা হয় নাই । পাল্টে যায় চিত্র । খাদ্য মন্ত্রী পরিবর্তন হওয়ায় এবার নতুন মন্ত্রীর সাথে যে কোন মূল্যে লিয়াজো করতে চালিয়ে যাচ্ছে তদ্বির । এমন কথা চাউর রয়েছে নিতাইগঞ্জে। এই চোরাকারবারী চক্র একই শক্তিশালী যে তাদের হাতের মুঠোয় রয়েছে প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তা । যার কারণে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেও ভয় পান অনেক স্বণামধন্য ব্যবসায়ীরা।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক অসাধু চক্রের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে নারায়ণগঞ্জের চোরাকারবারীরা শহরের নিজস্ব আলোচনার এক পর্যায়ে জানায়, নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাধন চন্দ্র জন প্রতিনিধি হিসেবে যাত্রা শুরু হয় নিজের ইউনিয়ন হাজীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর আশির দশকে এরশাদ আমলে তিনি নিয়ামতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হন। ২০০৮ সাল থেকে টানা তৃতীয় দফায় নওগাঁ-১ আসন থেকে সাংসদ হয়েছেন তিনি।
তৃণমূল থেকে উঠে আসা সাধন চন্দ্র “ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে এই পর্যন্ত এসেছে। তার বোঝার মতো জ্ঞান আছে ।, তিনি চান সবাই একসাথে একটা টিমওয়ার্ক করা। অনেক ফাইল সচিব হয়েই চলে যাবে, কিন্তু সেটা সততার সাথে যেন মন্ত্রীর নলেজে থাকে।”
খাদ্য মন্ত্রী আরো বলেছেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কী চিন্তা করেছেন জানি না। খাদ্য মন্ত্রণালয় অনেক বড় মন্ত্রণালয়। এটাও ঠিক খুবই সেনসেটিভ মন্ত্রণালয়। চালের দাম দুই টাকা কমলেও দোষ, দুই টাকা বাড়লেও দোষ।
এমন খবরে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জের পাইকারী আড়ৎগুলোতে চোরাকারবারীদের নিয়ে চলছে নানা কানাঘুষা। আবার কি এই চিহ্নিত চোরাকারবারীদের আস্ফালন দেখতে হরে ? র্যাব, পুলিশ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার চোখ ফাঁকি দেয়া এই চোরা কারবারীদের ফের দৌড়াত্ম কি প্রমাণ করে ? এমন অনেক প্রশ্ন সকলের মুখে উচ্চারিত হচ্ছে ।
( চোরাকারবারীদের বিস্তারিত তথ্য জানতে চোখ রাখুন নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপপেট ডটকম এ )









Discussion about this post