স্টাফ রিপোর্টার :
চমকই দিলেন শেখ হাসিনা । অনেকেই মন্ত্রীত্ব পাবার আশায় হাজারো চেস্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত এবারের মন্ত্রিসভায় তরুণদের ঠাঁই দিয়ে সবচেয়ে বড় চমক দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এই মন্ত্রিসভা গঠন করে শেখ হাসিনা প্রমাণ করলেন তিনি অত্যন্ত সাহসী। এই মন্ত্রিসভা গঠন করে শেখ হাসিনা শুধু চমক নয়, বরং সাহসেরও পরিচয় দিয়েছেন।
আওয়ামীলীগের শাসনামলে নারায়ণগঞ্জে এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী দিয়ে আরেক চমক সৃস্টি করেছেন শেখ হাসিনা। পোড় খাওয়া আওয়ামীলীগ নেতা শামীম ওসমান ও ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষ নেতা তিন তিনবারের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু দ্বাদশ সংসদেও মন্ত্রীত্ব পাওয়ার গুঞ্জর দেখা দিলেও এবার অনেকরে ধারণা ছিলো মন্ত্রীত্ব পেতে পারেন এই দুই সাংসদ। দীর্ঘদিনের নারায়ণগঞ্জবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে এবারই প্রথম আওয়ামীলীগ গোলাম দস্তগীর গাজীকে পূর্ণ মন্ত্রীত্ব দিয়ে আরেক চমক স্থাপন করলেন । এমন চমক দেয়ার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের জনসাধারণ শেখ হাসিনাকে সাধুবাধ জানিয়েছেন। একই সাথে রাজনৈতিক দৃস্টিভঙ্গির প্রসংশাও করছেন।
এমন চমকের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র ব্যাপক আলোচনার সৃস্টি হয়েছে । এমন আলোচনা থেকে জানা যায় । নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে আওয়ামীলীগের কোনো হেভিওয়েট নেতাকে নেয়া হয়নি। এমনকি সৎ এব নিষ্ঠাবান হিসেবে পরিচিত, শেখ হাসিনার দু:সময়ের পরীক্ষিত বেগম মতিয়া চৌধুরীকেও মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এটা ছিলো নতুন মন্ত্রিসভার সবচেয়ে বড় চমক। সম্ভবত দলের মধ্যে তোফায়েল আহমেদ, আমীর হোসেন আমুর মতো হেভিওয়েটদের বাদ দেয়ার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনতেই মতিয়া চৌধুরীকে বাদ দেয়া হয়েছে।
এই মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী তার কোনো কূলের কোনো আত্মীয় স্বজনকে স্থান দেননি। বিগত মন্ত্রী সভাতেও প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন। প্রথম দফায় তিনি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সরিয়ে তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। এবার মন্ত্রিসভায় তাকে বাদ দেয়াটাকে অনেকে বলছেন অবিশ্বাস্য। একই সঙ্গে শেখ ফজলুল করিম সেলিম তৃতীয় বারের মতো মন্ত্রিত্ব বঞ্চিত হলেন। ১৯৯৬ সালে প্রথম মেয়াদে শেখ সেলিম স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অন্তত তিনটি গুরত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে শেখ হাসিনা সম্পূর্ণ আনকোরা এবং নতুন মুখ নিয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন। এরমধ্যে সবচেয়ে বিষ্ময়কর ছিল কুমিল্লা-৯ এর সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলামের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া। এই মন্ত্রণালয় সাধারণত দলের সাধারণ সম্পাদককে দেয়া হয়। কিন্তু সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সরিয়ে ঐ পদে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে দিয়ে শেখ হাসিনাই প্রথাভঙ্গ করেছিলেন। কিন্তু এবার এই মন্ত্রণালয় দেয়া হয়েছে এমন একজনকে, যার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা খুবই কম।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন মুখ টিপু মুন্সীকে। টিপু মুন্সী নিজেই একজন ব্যবসায়ী। কিন্তু এই মন্ত্রণালয়ের নানা মেরুকরণ তিনি কীভাবে সামলাবেন সেটা দেখার বিষয়।
প্রথমবার এমপি হয়ে প্রথমবারই মন্ত্রী হলেন শ ম রেজাউল করিম। তাকে দেওয়া হয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জের গোলাম দস্তগীর (বীর প্রতীক) কে দেয়া হয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় । তারা এমন মন্ত্রণালয়ের চাপ কীভাবে সামলাবেন সেটাই দেখার বিষয়।
নতুন মন্ত্রীসভায় বিতর্কিত কাউকেই রাখা হয়নি। বিগত মন্ত্রিসভায় যারা বিতর্কিত ছিল এমনকি দলে যারা বিতর্কিত তাদেরও মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়নি।









Discussion about this post