নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
ফুটপাতে আমি একা চান্দা তুলি না, প্রতিটি এলাকা ভিত্তিক ফুটপাত থেকে চান্দা তুলার জন্য একটি কমিটি করা আছে । তারাই চান্দা তুলে । আবার, থানায়, পুলিশের, গাড়ী প্রতি, বিশেষ পেশার নামধারীসহ সকলের কাছে বিতরণ করে । ফুটপাতের চান্দার টাকা সমিতির মাধ্যমে উঠানো হয় । প্রায় ৩০/৪০ বছর ধরে এভাবেই চলছে ফুটপাতের চান্দা উঠানোর কাজ । শহরে আমার নাম একা উঠবে কেন চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের মূল হোতা রহিম মুন্সি, আসাদুজ্জামান আসাদ, আলমগীর হোসেন পলাশ, পুলিশ পরিদর্শক সুরুজ মিয়া, আরিফ ও সোহেল এরা সবাই কি করে ?
এমন প্রশ্ন রেখে শহরের ফুটপাতের শীর্ষ চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিতি সিইদ্ধরগঞ্জে ঝাউল্লাপাড়ার বাসিন্দা মোতালেব ভান্ডারী নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট কে মুঠোফোনে উল্লেখিত মন্তব্য করেন ।
মোতালেব ভান্ডারী ছাড়াও নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে হকারদের কয়েকজন হকার প্রতিবেদকের সাথে আলোচনাকালে অকপটেই স্বীকার করে জানান, কোন দিন যদি নির্ধারিত স্থানে বসতে না পারি তরে সেদিনের ফুটপাতের চাঁদা ঠিকই দিতে হয় । তাই বাধ্য হয়েই ফুটপাত বা সড়কে দোকান নিয়ে বসতে হয়। আর এই চান্দার বিশাল টাকার একটি বৃহৎ অংকের টাকা নিয়ে নেয় নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা । শহরের ফুটপাত দখলকারী হকারদের পুঁজি করে নারায়ণগঞ্জের অসাধু একটি চক্র প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে যাচ্ছে । একই সাথে ফুটপাত দখল করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের নেতারা ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে মোটা অংকের অগ্রিম টাকা দিয়েই ফুটপাত কিংবা সড়কে স্থান দখল করতে হয় ।
ক্ষমতাশীন দলের গুটিকয় নেতার সমন্নয়ে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের হকারদের কর্মকান্ড । বর্তমানে যে সকল সেক্টরগুলোতে ব্যাপক চাঁদা বাণিজ্য হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হকারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়। শহরের মাত্র দুই কিলোমিটারে ফুটপাত থেকে দৈনিক লক্ষাধিক টাকার বেশী চাঁদা আদায় করছে চাঁদাবাজরা ।
শহরের চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের মূল হোতা রহিম মুন্সি, আসাদুজ্জামান আসাদ, আলমগীর হোসেন পলাশ, মোতালেব ভান্ডারী, পুলিশ পরিদর্শক সুরুজ মিয়া, আরিফ ও সোহেল। এসব চাঁদাবাজরা প্রতি বছরে কোটি কোটি টাকা চাদাবাজি করে নেতা, পুলিশসহ অনেক সেক্টরে বিতরণ করে যাচ্ছে । প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের পর রহিম মুন্সি, আসাদুজ্জামান আসাদ, আলমগীর হোসেন পলাশ, ভান্ডারী, পুলিশ পরিদর্শক সুরুজ মিয়া নিজেদের বন্টন বুঝে নিয়ে নেতাদের ও থানাসহ স্থানীয় মাস্তান, বিশেষ পেশার নামধীরীসহ কয়েকজনের জন্য নির্ধারিত অর্থ বরাদ্ধ রাখে ।
খোজ নিয়ে আরো জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ হর্কাসলীগের নামধারী সভাপতি রহিম মুন্সি শহরের চাষাড়াস্থ হর্কাস মার্কেট থেকে বঙ্গবন্ধু সড়কের আমান ভবন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে কয়েক যুগ ধরেই । এই সড়কের পূবদিক ২৫০ এর অধিক হকারের দোকান থেকে প্রতিদিন দোকান প্রতি ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে । প্রতিদিন আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং মাসে প্রায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা আদা করে থাকে। যা বছরের হিসেবে চাঁদা আদায় হয় আনুমানিক অর্ধ কোটি টাকা।
কথিত হর্কাস সংগ্রাম পরিষদের আহব্বায়ক আসাদুজ্জামান আসাদ নিয়ন্ত্রন করেন বঙ্গবন্ধু সড়কের গলাচিপা থেকে চাষাড়া মার্ক টাওয়ার পর্যন্ত । এ সড়কে আনুমানিক ১৫০-১৭০ টি হকারের দোকান রয়েছে। প্রতিদিন দোকান প্রতি ৫০ টাকা করে যা দাড়ায় আনুমানিক ১০ হাজার টাকা । মাসে চাঁদা আদায় হয় ৩ লাখ টাকা। বছরে চাঁদা আদায় করা হয় ৩৬ লাখ টাকা।
আলমগীর হোসেন পলাশ নিয়ন্ত্রন করেন ২ নং রেলগেইট থেকে ১ নং রেলগেইট পর্যন্ত। ফজর আলী মার্কেট থেকে উৎসব বাস কাউন্টার পর্যন্ত চেম্বার রোড সড়কের রেল লাইনের পাশে কম করে হলেও ২০০ টির অধিক দোকান। উত্তর পাশের প্রতি দোকান থেকে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে ১০ হাজার টাকা, দক্ষিন পাশে ৫০ টাকা করে আরো ১০ হাজার টাকা করে মোট দৈনিক আদায় হয় নিম্নে ২০ হাজার টাকা হাজার টাকা । মাসে চাঁদার পরিমান দাঁড়ায় ৬ লাখ টাাক বছরে চাঁদা আদায় করে চাঁদাবাজ পলাশ । পলাশ নিজে আবার চাঁদা আদায় করতে লোক নিয়েগ করে দিয়েছে । যার প্রতিমাসে বেতন ১০ হাজার টাকা ।
ভান্ডারী নিয়ন্ত্রন করেন নারায়ণগঞ্জ উৎসব কাউন্টার থেকে বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট পর্যন্ত। এই এলাকায় প্রায় ১শ টি হকারের কাছ থেকে প্রতিদিন ৩০/৪০/৫০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করে যাচ্ছে । প্রতিদিন নিম্নে ৫ হাজার টাকা চাঁদার টাকা বেতনভূক্ত লোক দিয়ে উত্তোলনের পর তা বিভিন্ন দপ্তরে বিতরণ করা হয় । সদর থানায় প্রতি মাসে ৫০ হাজার । নেতাদের র জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়ে যা থাকবে তা ভান্ডারী নিজেই দখল করে । মাসে নিম্নে দেড় লাখ টাকা চাঁদা আদায় কেরছে ভান্ডারী । বছরে চাঁদা আদায় করা হয় ১৮ লাখ টাকা।
২নং রেল গেইট পুলিশ বক্সের পুলিশ পরির্দশক সুরুজ মিয়া নিয়ন্ত্রন করেন মন্ডলপাড়া থেকে নগর পাঠাগার পর্যন্ত। তিনি এই সড়কের আনুমানিক ২০ টি ভ্যান গাড়ির দোকান থেকে প্রতি সপ্তাহে ভ্যান প্রতি ২০০ টাকা করে মাসে ১৬ হাজার টাকা ব্যক্তিগত ভাবে আদায় করেন। বছরে চাঁদা আদায় করা হয় ২ লাখ টাকা।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের গলি থেকে পপুলার হাসপাতালের গলি পর্যন্ত নিয়ন্ত্রন করেন আরিফ। এখানে দোকান বসে সব মিলিয়ে ১শ টির মতো। দোকান প্রতি চাঁদা তোলা হয় ১শ টাকা করে। দৈনিক ১০ হাজার টাকা হিসেবে মাসে উঠানো হয় ৩ লাখ টাকা। বছরে চাঁদা আদায় করা হয় ৩৬ লাখ টাকা।
কালীবাজার ব্যাংক মোড় থেকে ফ্রেন্ডস মার্কেট পর্যন্ত চাঁদা তোলেন সোহেল। এখানে দোকান আছে ১৫০টি। ৫০ টাকা করে টাকা দৈনিক ৭ হাজা ৫শ টাকা চাঁদা উত্তোলন করে থাকে। মাসে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বছরে চাঁদা আদায় করা হয় ৩০ লাখ টাকা।
তালিকার এ সকল ব্যক্তিরা নিরীহ হকারদের জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় দিয়ে এবং কিছু পুলিশ কর্মকর্তাকে মেনেজ করে চলছে চাঁদা তোলার মহা উৎসব চলছেই অভবরামভাবেই ।
এমন প্রকাশ্য চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআই টু সাজ্জাদ রুমন বলেন, পুলিশকে কঠোর ভাবে এসপি হারুন অর রশিদ আদেশ দিয়েছেন কোন অবস্থাতেই যেন হকাররা ফুটপাত দখল করতে না পারে । এমন বিশাল চাঁদাবাজির বিষয়টি হয়তো জানা ছিলো না । এমন বিশাল চাঁদাবাজির বিষয়ে অচিরেই ব্যবস্থা হচ্ছে বলেও জানান সাজ্জাদ রুমন ।









Discussion about this post