নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
সাধারণ মানুষের উপর পুলিশী হয়রানীর নানা অভিযোগের চিত্র পাল্টে দিতে এবার কাজ শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ । একই সাথে সন্ত্রাস, মাদক, ভূদিস্যুতা, জুট সন্ত্রাসী, ফুটপাতের চাদাবাজি বন্ধসহ নানা অপরাধীদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনার পর এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশের দূর্ণাম গুছাতে ডিবি কার্যালয় শহরের মেট্টো সিনেমা হল এলাকা থেকে স্থানান্তরের কাজ শুরু করেছে এসপি হারুন ।
ইতিমধ্যেই সারাদেশের সকল জেলার মতো নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশের কার্যালয় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে স্থানান্তর করতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ সুপার দপ্তর ।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বিগত দিনে ডিবি পুলিশের নানা অপরাধ মূলক কর্মকান্ড উল্লেখ করে বলেন, মেট্টো সিনেমা হল এলাকায় স্থাপিত জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে সাধারণ মানুষ সামান্য অপরাধের কারণে আটক করে এনে নির্মম নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনা ছাড়াও নানা অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরার ঘটনা নারায়ণগঞ্জবাসী সকলেই জানেন ।
মেট্টো সিনেমা হলের ডিবি কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনেকেই মদের আসর বসাতো, নারী কেলেংকারী করে কোন কোর ওসি মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে বিয়ে করার মতো কেলেংকারীও ঘটিয়েছে । দারোগাদের অনেকেই পেশাদারিত্ব ছেড়ে দিয়ে রীতিমত ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে পুলিশকে ধীকৃত করে তুলেছিলো । ব্যবসায়ীদের আটক করে এনে কোটি কোটি টাকার লুটপাট করার ঘটনায়ও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে । এমন অনেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা আত্মস্যাৎ সহ দারোগাদের কেউ কেউ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে চেকের মাধ্যমে টাকা তুলে নিজেদের মনে করে বাগভাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে কয়েকজন দারোগার বিরুদ্ধে । যাদেরকে ইতিমধ্যেই ক্লোজও করা হয়েছে স্ব স্ব ইউনিট থেকে ।
এ ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের অনেক রাজনীতিবিদ ডিবি পুলিশকে নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে ।
নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার, সোর্স হিসেবে কয়েকজন বিশেষ পেশার নামধারীদের সহায়তায় নারায়ণগঞ্জবাসীকে লুটপাটের আখড়ায় পরিণত করা হয়েছিলো ডিবি কার্যালয়কে । ডিবি পুলিশকে “আন- ছাড় -খা” নামেই জেলাবাসী চিনেন বলেও পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানতে পেরেছেন ।
এক সময়ের জেলা পুলিশের রিজার্ভ কার্যালয়কে ৮০ দশকে জেলা ডিবি কার্যালয়ে রূপান্তরের পর যা খুশি তাই করে যাচ্ছিলো পুলিশের অনেক অসাধু সদস্যরা । কয়েক যুগ যাবৎ ভীতিকর পরিস্থিতির অভিযোগে বিগত সময়ের পুলিশ সুপারগণও কঠোর সমালোচনার মুখে পরতে হয়েছিলো ।
সেই সুযোগটি আর কাউকেই দিতে রাজী নয় এমন বিবেচনায় পুলিশ সুপার হারুন নতুন ইতিহাস গড়ে তুলতে ডিবি কার্যালয়কে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের চতুর্থ তলায় স্থানান্তর করতে নতুন ইমারতের কাজ শুরু করেছে ।









Discussion about this post