নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলাকে অন্য জেলার লোক ভিন্নচোখে দেখে। অন্য ৮-১০টি জেলার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জকে তুলনা করলে হবে না। কেরানীগঞ্জ, সাভারের চেয়েও বেশি পাধান্য দেওয়া হয়। কারণ বঙ্গবন্ধু তার অসমাপ্ত জীবনীতে নারায়ণগঞ্জের কথা বহুবার উলেখ্য করেছেন।
ফুটপাত দখলমুক্ত করা ও ভূমিদস্যু সহ সকল অন্যায়কে রুখে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার। সেই সাথে জেলা প্রশাসনও কাজ করে যাচ্ছে। আপনাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে, সচেতন হতে হবে। অন্যান্য জেলার চেয়ে এই জেলার গুরুত্ব বেশি। এই নারায়ণগঞ্জে অনিয়ম মানুষ মেনে নিবে না। যে কোন অবস্থায় যে কোন জায়গায় চাঁদাবাজ প্রতিহত করতে হবে।
রবিবার পহেলা সেপ্টেম্বর দুপুরে শহরের চাষাড়ায় রাইফেল ক্লাবে ই-ট্রাফিকিং কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমি কিছুদিন আগে বেশ অবাক হয়েছে এটা শুনে যে, নারায়ণগঞ্জে একটি চায়ের দোকানের (বোস কেবিন) প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়। ৩০টি দৈনিক পত্রিকা অন্য কোন জেলায় নেই, যা নারায়ণগঞ্জে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একটা দাবী রাখা হয়েছে নারায়ণগঞ্জকে মেট্রোপলিটন সিটি করার জন্য। রংপুর সিটি কর্পোরেশন হবার পরপরই মেট্রোপলিটন হয়েছে, কিন্তু নারায়ণগঞ্জ অনেক দিন আগেই সিটি কর্পোরেশনের রুপান্তরিত হয়েছে। তবে আশা করা যায়, মেট্রোপলিটন সিটি হয়ে যাবে ।
তিনি পরিবহন মালিকদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, মালিক-শ্রমিকরা এক থাকলে যেকোন সমস্য বসে ৭দিনের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব।
তিনি ই-ট্রাফিকিংয়ের সুবিধার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, আমেরিকা থেকে বাংলাদেশ কিছু কিছু দিক দিয়ে এগিয়ে। বাংলাদেশে ১৬কোটি মানুষের মধ্যে ১৩ কোটি মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে। আর শতকরা ৮৮ভাগ মানুষ ইন্টারনেটের সঙ্গে জড়িত। নারায়ণগঞ্জে প্রতিদিন মোটরযানে ১৫শ থেকে ১৬শ মামলা হয়। এই মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ই-ট্রাফিকিং অনেক সহযোগীতা করবে।
এ সময়ে তিনি সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখার আহবান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, মাদকের সাথে যারা জড়িত আমরা যদি তাদের বাড়িতে দাওয়াত খাই, তাহলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব না। মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগনকেও এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমানে একটি কমন সমস্যা একজন আরেক জনকে দোষারোপ করি, এই দোষারোপ বন্ধ করতে হবে। উশকানী মূলক বক্তব্য না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে যাবো ।
জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, আমার কয়েক গজ সামনেই রয়েছে বায়তুল আমান। অনেক কীর্তিমান পুরুষ এখান থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখান থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে সামসুজ্জোহা ও চুনকা সাহেবের মতো কীর্তিমান পুরুষেরা। এই নারায়ণগঞ্জে চাকরি করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। বিভিন্ন সেক্টরের গতিপথ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। সন্ত্রাসী, ভূমিদুস্য ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কাজ করছি। নারায়ণগঞ্জে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সকলেই আমাদের উপর নির্ভর করছেন। স্বল্প সময়ের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আসাদুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর সভাপতি আনোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের সি ই ও ব্যবস্থাপক পরিচালক মো. শওকত জামাল প্রমূখ ।









Discussion about this post