এনএনইউ রিপোর্ট :
নারায়ণগঞ্জ রাজউকের নিকট অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদনের পর তদন্তাধীন বিষয নিস্পত্তি না হওয়ায় ফিল্মী কায়দায় চারজন অস্ত্রধারী নিয়ে শহরের কালীরবাজারের দেলোয়ার টাওয়ারে তান্ডব চালায় দেলোয়ার ও তার সাথে থাকা চার অস্ত্রধারী।
সর্টগান নিয়ে সত্রাসী কায়দায় আজ রোববার দুপুর ১২ টায় তান্ডব চালানোর সময় তাৎক্ষনিক নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ চারটি সর্টগানসহ অস্থধারী কামাল, লেলিন শেখ, মহসিন ও অহিদুজ্জামানকে আটক করে। তাদের প্রত্যেকের বয়স ৩৫ থেকে ৪৫ বছর। থানার হাজত রেজিস্টারে আটককৃতদের নাম ঠিকানা লিপিবদ্ধ না করায় পূর্ণঙ্গ তথ্য পাওয়া যায় নাই।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার দারোগা তাহিদ উল্লাহ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে দেলোয়ার টাওয়ারের মালিক দেলোয়ার হোসেন দ্রুত গাড়ীতে করে সটকে পরলে নড়াইল জেলার কালিয়া থানার কামাল, লেলিন শেখ, অহিদুজ্জামান ও নওগাঁ জেলা মহসিন কে চারটি সর্টগানসহ আটক করি।
দেলোয়ার টাওয়ারের ফ্লাট মালিকদের পক্ষে অশোক কুমার, বিপ্লব কুমারসহ অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ দেলোয়ার টাওয়ারের কর্ণধার দেলোয়ার নানা অসাধু পন্থা অবলম্বন করে আন্ডারগ্রাউন্ডে বিভিন্ন গোডাউন ভাড়া, সিড়ি কোটা দখল,
পানি ট্যাকিংর উপর দোকান নির্মান করে ভাড়া দিয়ে সকল ফ্লাট মালিকদের অতিস্ট করে তুলেছে। যাতায়াতের ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা, অগ্নি নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থা না রাখাসহ নানা অনিয়ম করে ফ্লাট মালিকদের সাথে প্রতারণাসহ নানাভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসিতেছে। এমন নিরাপত্তাহীনতার কারণে ফ্লাট মালিকদের পক্ষ খেকে রাজউক বরাবর অভিযোগ দিয়ে কোন প্রতিকার পাই নাই। ১৬ তলার বিশাল এই ভবনের কোন নিরাপত্তা না থাকায় আমরা বারবার সকল দপ্তরে ধর্না দিয়ে ব্যর্থ হলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক দপ্তরে এমন অভিযোগ তুলে একটি আবেদন করি। বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রেজাউল বারি নিজেই তদন্ত করতেছেন । এমতাবস্থায় আজ দুপুরে হঠাৎ ৫/৬ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের নিয়ে দেলোয়ার নিজেই ব্যাপক তান্ডব চালিয়ে কলাপসিবল গেইট ভেঙ্গে ফেলে এবং গালিগালাজ করতে থাকে। ভয়ে এ সময় কেউ আর বাইরে বেড়িয়ে আসার সাহস করে নাই।
বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করলে তাৎক্ষনিক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে গাড়ী দিয়ে পালিয়ে যায় দেলোয়ার হোসেন।
আটককৃত কামাল, লেলিন, মহসিন, অহিদুজ্জামান প্রতিবেদকে জানায়, তারা মূলতঃ সিকিউরিটি হিসেবে কাজ করে। স্বরাস্টমন্ত্রী নাসিম থাকাবস্থায় এই অস্ত্রের লাইসেন্স তারা করেছিলো। আজই তাদেরকে বডিগার্ড হিসেবে নিয়োগ দিয়ছে দেলোয়ার। অস্ত্র আইনের বিধান তারা জানেন কিনা এমন প্রশ্নে আটককৃতরা নিশ্চুপ থাকে।
প্রত্যাক্ষদর্শী অনেকের পাপাপাশি পুলিশ সদস্যরাও সমালোচনা করে বলেন, আটককৃতদের পরিধেয় দেখে কেউ বুঝতেই পারবে না তারা পুলিশ বা ডিবি অথবা সিভিল প্রশাসনের লোক না । তারা চুক্তিতে নানা অপরাধ করে থাকতেও পারে। যা পূর্নাঙ্গভাবে যাচাই করা জরুরী ।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, আটককৃতদের বিষয়ে সার্বিক তথ্য নেয়া হচ্ছে। যাচাই বাছাইয়ের পর আইনগত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।









Discussion about this post