শুক্রবার ভোর রাত সাড়ে তিনটা । তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য স্ত্রী ফেরদৌসী, মেয়ে হালিমা (১১), পুুুত্র মোহাম্মদ (৮) ও শিশু ইয়াসিন আহমেদ (৮ মাস) কে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে পাশের কক্ষে যাবার পর বিকট শব্দ ।
ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা ও সদর থানার সীমান্তবর্তী এলাকা বাবুরাইল তাতীপাড়ার প্রয়াত বাদশা হাজীর বাড়িতে ।
কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই পুরো ঘরের আসবাবপত্র ভেংগে চুরমার । চলন্ত সিলিং ফ্যানের পাখাগুলো ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণে একেবারে বেকে যাওয়ার দৃশ্য দেখে সকলেই অনুমান করতে পেরেছেন কি ঘটে গেছে ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেনের পরিবারের উপর।
পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, ভোররাতের সেফটি ট্যাংকির বিস্ফোরণে আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নেয়ার পর জরুরী বিভাগের চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা ঈমন শিশু ইয়াসমিন আহমেদ (৮মাস) কে মৃত ঘোষণা করেন। একই সাথে গুরুতর আহত ফেরদৌসী (৩৫), হালিমা (১১) ও মোহাম্মদ (৮) কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন ।
তোফাজ্জল হোসেনের ছোট ভাই আফজাল হোসেনের বরাত দিয়ে পরিরাবের সদস্যরা জানান, গুরুতর আহত ফেরদৌসী, মেয়ে হালিমা ও পুত্র মোহাম্মদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ তে রাখা হয়েছে । তাদের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা ।
এ ঘটনায় সদর ও ফতুল্লা থানার একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ।
উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর পূর্বে তোফাজ্জল হোসেনের পাশের বাড়িতে একই ধরনের ভয়াবহ বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছিলো।
এলাকাবাসীর দাবী, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বিশাল ড্রেন থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত গ্যাস বের হওয়ার কোন সুযোগ না থাকায় বারংবার ঘটে এমন বিস্ফোরণ । অপরিকল্পিতভাবে নাসিকের প্রভাবশালী ঠিকাদার আবু সুফিয়ান এলাকাবাসীর বিরোধীতা উপেক্ষা করে এমন নির্মানের কারণেই ঘটছে দূর্ঘটনা । এই ড্রেন নির্মানকালীন সময়েও গ্যাস লাইনের বিশাল ক্ষতির কারনে বারবার বিস্ফোরণ ঘটেছিলো বলেও জানায় অনেকেই ।
বাবুরাইল তাতীপাড়ার অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেছেন, আশেপাশের ড্রেন গুলো বিশেষজ্ঞ দিয়ে তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে বারবার এমন ভয়াবহ বিস্ফোরনের মূল কারন ।









Discussion about this post