২৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠেয় বিজয় সমাবেশ ঘিরে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাদির, আরজু ভূঁইয়া, আদিনাথ বসু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনুসহ অনেকেই একসাথে এক টেবিলে দেখা গেলো নাসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে। এমন একত্রিত হবার খবরে নারায়ণগঞ্জে দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য । এমন চাঞ্চল্যের মাঝেও আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আগামীতে কি অপেক্ষা করছে তা দেখার বিষয় বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকেই ।
সমালোচকদের অনেকেই বলেছেন ঈদ উল আযহার দুই দিন পর ২৫ জুলাই রোববার বিকেলে মৃত্যুবরণ করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের নেতা ও সদ্য সাবেক মেয়র চিকিৎসক সেলনা হায়াৎ আইভীর মা এবং প্রয়াত পৌর পিতা আলী আহমদ চুনকা পত্নী মমতাজ বেগম মৃত্যূ বরণ করেন। চরম বিরোধ থাকার পরও তাঁর (মমতাজ বেগম) মৃত্যুতে শান্তনা জানাতে মেয়র আইভীর পাশে ছুটে আসেন ওসমান পরিবারের সংসদ সদস্য দুই ভাই সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান । এমন ঘটনায় মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার পাশাপাশি আশংকাও প্রকাশ করেছিলো অনেকেই। সেই আশংকাই আবার সত্যিতে রূপান্তরিত হয়েছে কবরস্থানের মধ্যে শ্মশ্বানের মাটি ফেলাকে কেন্দ্র করে । সেই দ্বন্ধ এখনো চলমান রয়েছে বলেও দাবী রাজনৈতিক বিজ্ঞজনদের ।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুর দ্বন্দ্ব সহসাই মিলবে না বলেও দাবী নগরবাসীর । খোদ দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ডেকে নিয়ে একত্রিত করে ফটোসেশন করে মিলেমিশে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে কাজ করার নির্দেশ দিলেও ওসমান পরিবার ও জোহা পরিবারের রাজনৈতিক দ্বন্ধ নিরসন হতে দেখে নাই কেউ । বিগত কয়েকটি নির্বাচনে কি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জে তা সকলেই জানেন । এমন ধারণা থেকেই নারায়ণগঞ্জের রাজনতিতে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর দিকে তাকিয়ে আছে নগরবাসী ।
জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে বিভাজন দীর্ঘদিনের। উত্তর-দক্ষিণ বলয় বিভক্ত দলের নেতারা। তবে গত সোমবার দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে বৈঠকে এক নির্দেশের পর তারা সকলেই এক কাতারে এসে দাঁড়ালেও নানা আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে নগরীতে ।
মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের এক যৌথ সভায় তাদের একত্রে দেখা যায়। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দৃশ্যমান বিভাজনও দূর হয়েছে এই সভায়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মহানগর আওয়ামী লীগের বিগত কয়েকটি সভা ও দলীয় কর্মসূচিতে সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার মধ্যে বিভাজন দেখা গেছে। বিগত কর্মসূচিগুলোতে সভাপতি থাকলে সাধারণ সম্পাদক অনুপস্থিত থাকতেন, আবার সাধারণ সম্পাদক থাকলে সভাপতি অনুপস্থিত থাকতেন। সম্প্রতি নাসিক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ডা. আইভীর পক্ষে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাতেও সভাপতি আনোয়ার হোসেন উপস্থিত থাকলেও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা ও তার অনুসারী নেতা-কর্মীরা ছিলেন অনুপস্থিত। খোকন সাহা নিজেও সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
সূত্র বলছে, সিটি নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে বিভাজন আরও বাড়ে। মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন দলের একাধিক নেতা। মনোনয়ন চেয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চন্দন শীল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা। তবে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর মনোনয়ন ঠেকাতে একাট্টা ছিল একটি অংশ। বিভিন্ন সময় আইভীকে যাতে মনোনয়ন দেওয়া না হয় সেজন্য সরাসরি বক্তব্য রেখেছেন দলেরই একাধিক নেতা। মনোনয়ন পাওয়ার পরও ওই অংশটি দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে নীরব ছিল। তবে সব সমীকরণ পাল্টে গেছে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার এক নির্দেশে।
এদিকে গত সোমবার ঢাকায় ধানমন্ডি কার্যালয়ে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের ডাকেন দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সভায় ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা। এই সময় তিনি সিটি মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কড়া নির্দেশ দেন। এরপরই পাল্টে যায় নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতির চিত্র। যার প্রতিফলন ঘটেছে বিজয় সমাবেশের প্রস্তুতিমূলক সভায়।









Discussion about this post