স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি নির্বাচনী আসনে নির্বাচনের দিনক্ষন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই দেখা দিয়েছে ঐক্যফন্টের প্রার্থীদের মধ্যে বাড়ছে শংকা। বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেকেই নির্বাচনের মাঠে না থাকায় নতুন প্রার্থীদের সকলেই কোনঠাসা হয়ে পরছে নির্বাচনের মাঠে। অপরদিকে পাঁচটি আসনের মহাজোটের প্রার্থীদের কেউ কেউ রয়েছে শংকায় আবার কেউ কেউ রয়েছে ফুরফুরে মেজাজে।
এমতাবস্থায় একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে আরো অনেক চমক অপেক্ষা করছে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিনের আগ মূহুর্ত পর্যন্ত। আওয়ামীলীগের অনেক নেতাকর্মী যেমন দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার প্রচারণা চালাবে আর নেপথ্যে নানাভাবে কুটকৌশল করছে ঠিক তেমনি বিএনপির অনেক নেতা প্রার্থীতার ক্ষেত্রে চরম কোন্দল থাকায় দলের জন্য কাজ না করে মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে এবং গোপনে চালাচ্ছে নির্বাচনী কার্যক্রম।
নারায়ণগঞ্জ-১
(রূপগঞ্জ) আসনে সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীরের বিরুদ্ধে প্রায় ২০ জন্য প্রার্থী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন। এতে নেতৃত্ব দেয় দেশের শীর্ষ একটি ভুমিদস্যু প্রতিস্টান । আর প্রকাশ্যে আসে রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। দীর্ঘদিন যাবৎ রূপগঞ্জের ভুমিদস্যুতার কারণে এমন বিরোধকে কেন্দ্র করে চরম আকার ধারণ করে। আর এই ভূমিদস্যতার কারণেই গাজী গোলাম দস্তগীর যাতে কেন অবস্থাতেই মনোনয়ন না পায় সে লক্ষ্যে সকল শেষ পর্যন্ত সাবেক রাস্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদকে এই আসন থেকে নির্বাচন করাতে ভুমদস্যু প্রতিস্টানটি।
সকল চক্রান্তের কাছে পরাস্ত হয়ে শেষ মূহুর্তে রফিক বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো প্রত্যাহার করানোর শর্তে একজোট হয়ে নৌকার পক্ষে মাঠে নামেন রফিক ও তার বাহিনী । মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে রফিকসহ অন্যান্যরা রাজনৈতিক কৌশলে মাঠে নামলেও ভিতরে ভিতরে ভিন্ন কৌশলে মাঠে রয়েছে গাজী বিরোধীরা। রূপগঞ্জে ৭ জন প্রার্থীর প্রতীক চূড়ান্ত হলেও মূল প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন গোলাম দস্তগীর গাজীর নৌকা আর প্রধান বিরোধী জোট ঐক্যফন্ট নেতা ও জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যে।
আর পাঁচ প্রার্থীও মধ্যে স্বতন্ত্র হাবিবুর রহমান সিংহ প্রতীক পেলেও এখনো পর্যন্ত কোন প্রচার প্রচারণা নাই। গাজী গোলাম দস্তগীর অত্যান্ত আস্থাভাজন হাবিবুর রহমান হাবু যে কোন মূহুর্তে প্রার্থীতা বিলুপ্ত ঘোষনা করবেন রাজনৈতিক কৌশলে । এই আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ থানার মৃত ফজলুল করিম খানের ছেলে আজম খান অজ্ঞাত কারণে নির্বাচনী মাঠে অবস্থান করছেন বলে চাউর আছে রূপগঞ্জের প্রতিটি এলাকায় । আর এই কারণে গাজী পন্থি আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা ১৭ ডিসেম্বর সোমবার রূপগঞ্জের একটি লাঙ্গলের নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে ।
অপর প্রার্থী ইসলামী আন্দোলনের ইমদাদুল হক হাতপাখা, জাকের পার্টির মাহফুজুর রহমান এবং কমিউনিস্ট পার্টির মনিরুজ্জামান কাস্তে প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন রাজনৈতিক কারণে। তাদের নেই তেমন প্রচার প্রচারণা ।
মূলতঃ কাজীর সাথে গাজীর নির্বাচনী লড়াই হলেও এই লড়াইয়ে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী কাজী মনিরুজ্জামানকে মন থেকে মেনে নিতে না পেরে গোপনে চালাচ্ছে গাজীর নৌকার প্রচারণা ঠিক তেমনি রফিক বাহিনীর অনেকেই দীর্ঘদিনের কোন্দল হঠাৎ করে প্রকাশ্য ঐক্য হলেও গোপনে কাজী মনিরের সাথে আঁতাত করে আসছে বলেও চাউর রয়েছে রূপগঞ্জজুড়েই ।









Discussion about this post