স্টাফ রিপোর্টার :
বুধবার সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জর শহরের সকল নিষিদ্ধ পলিথিনের কারবারীরা শহরের সকল নিষিদ্ধ দোকান, গোডাউন, কারখানা বন্ধ করে পলাতক রয়েছে জেলার পলিথিনের গডফাদার হিসেবে পরিচিত লেবাসদারী বাবুল, মেয়ের জামাতা রুবেল, বন্দরের সোহাগসহ সকল অসাধুরা । একই সাথে প্রশাসনের বিভিন্ন সেক্টরের অসাধু কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তেতে সকল পলথিনের কারবারীদের দোকান কারখানা, গোডাউন বন্ধ রাখাতে ফোন করে আগাম জানান দিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে নিষিদ্ধ পলিথিনের সাথে যুক্ত কয়েকজন চাকুরীজীবী ।
এমন খবরের সত্যতা যাচাই করতে আজ বুধবার ২০ ফেব্রুয়ারী সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট এর একটি অনুসন্ধানকারী দল বিভিন্ন এলাকায় খোজ নিয়ে জানা গেছে প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তারাই গতকাল মঙ্গলবার রাতে অসাধু পলিথিন ব্যবসায়ীদের গডফাদার বাবুল, সাগর ও বাবুলের মেয়ের জামাতা রুবেলকে ফোন করে জানিয়ে দেয় বুধবার সকালে মোবাইল কোর্ট বের হবে, ”পলিথিনের কারখানা, দোকান ও গোডাউন খোলা রাখবেন না । সমস্যায় পরলে কোন ছাড় দেয়া হবে না । তাই সাবধান করেদেন সকলকে।“ এরপর বাবুল চক্র জেলার সকল পলিথিন ব্যবসায়দেরকে মঙ্গলবার রাতেই সতর্ক করে দিয়ে ফোন করলে বুধবার সকাল থেকেই সকল অসাধূ পলিথিন ব্যবসায়ীদের অিবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ থােকতে দেয়া যায় ।
অনুসন্ধানকালে আরো জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র ২ নং রেল গেইট এলাকর পলিথিনিরে মূল গডফাদার বাবুল ষ্টোর, জালাল এন্টারপ্রাইজ, সাগরের মালিকানানধীন আজমীরী এন্টারপ্রাইজ, সাকিল এন্টারপ্রাইজসহ শহরের দিগু বাবুর বাজারের অঞ্জন, সিদ্ধিকসহ চারটি নিষিদ্ধ দোকান, খানপুরের বৌ বাজারের পলিথিনের কারখানার মালিক সবুজের কারখানা ও দোকান, নয়ামাটির শ্যামা সুন্দর সাহা দোকান ও কারখানা, টানবাজারের রাজিব কারখানা, লিটনের কারকানা, এক্সপোর্ট ব্যবসায়ী বাদল সাহা অবৈধ কারখানা, জে জে পলি ফ্যাক্টরীর লোকমানের কারখানা, সদর উপজেলার নাগবাড়ী এলাকার কারখানা, জালকুড়ি এলাকায় কয়েকটি কারখানায় তালা দিয়ে সটকে পরেছে কর্মচারীরা ।
শহরের দোকান, কারখানা ও গোডাউন বন্ধ রাখার বিষয়ে কথা বলতে গেলেই সকলেই একবাক্যে বলেন, ভাই কেন তারা এই পলিথিনের দোকান কারখানা, গোডাউন বন্ধ রাখে তা একজন মূর্থ মানুষও জানে । জানে না শুধু পুলিশ প্রশাসনের লোক আর সাংবাদিকরা । সব জেনেশুনে কেন আমাদের কাছে জিজ্ঞেস করতে আসেন ? আবার অনেকেই বলেছেন, নাম কইলে কি হইবো তা সকলেই জানে, খুইজ্জা লন ! মোবাইল কোর্ট বাইর হইবো এই খবর আগে কেমনে জানে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবসায়ীরা ? এর উত্তর আগে লন ! ডিসি অফিসের কয়েকজনের ফোন ট্রেকিং করলেই জানা যাইবো নিষিদ্ধ পলিথিনের কারবার কারা করায় । আইন আছে, মন্ত্রী কইছে পলিথিন বন্ধ, এরপরও কারা করে এই ব্যবসা ? মোটা অংকের ঘুষেই চলে পলিথিনের ব্যবসা !
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে একজন নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদনকারী বলেন, এই ব্যবসার সাথে জড়িত হইয়া টাকা কামাইছি এটা ঠিক । কিন্তু প্রশাসনের প্রতিটি দপ্তরে দপ্তরে টাকা দিতে হয় । এরপরও মোবাইল কোর্ট করে লোক দেখানোর জন্য । মোবাইল কোর্ট হইলো আই ওয়াশ। নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবসায়ীদের গডফাদার জামতলার ধোপাপট্টির বিশাল আলিশান ভবনের মালিক বাবুল ওরফে ফরিদপুইরা বাবুলের মোবাইল ফোন, বন্দরের হত্যা মামরার আসামী নিজেরে আওয়ামলিীগ নেতা পরিচয় দেয় সাগর ও বাবুলের মেয়র জামাই রুবেলের মোবাইল ফোনে ট্রাকিং করলেই তো বের হয় প্রশাসনের কারা এই অবৈধ পলিথিনের ব্যবসা চালাতে সকলভাবে সহায়তা করে । জেলা প্রশাসনের কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি, পরিবেশ অধিদপ্তরের কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি ও পুলিশ প্রশাসনের কয়েকজনের সাথে বাবুল, সোহাগ ও রুবেলের সাথে গভীর সখ্যতা থাকায় নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবসা এভাবে প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছে অনেকেই। এই চক্রটির একাধিক নাম্বার থােকলও পরিচিত ছাড়া এরা কারো ফোন রিসিভ করে না । অপরাধীদের ধরতে প্রশাসনের ইচ্ছাই যথেষ্ট ।
এমন অভিযানের পর কয়েকটি কারখানা থেকে গত দুদিনে সাগর ও বাবুলচক্র শহরের দিগু বাবুর বাজারের অঞ্জন, সিদ্ধিকসহ চারটি নিষিদ্ধ দোকান থেকে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করে । একই ভাবে খানপুরের বৌ বাজারের পলিথিনের কারখানার মালিক সবুজ, নয়ামাটির শ্যামা সুন্দর সাহা, টানবাজারের রাজিব, লিটন, এক্সপোর্ট ব্যবসায়ী বাদল সাহা, জে জে পলি ফ্যাক্টরীর লোকমান, ২নং রেল গেইটে এলাকার সোহাগের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের চাঁদা আদায় করার পর প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের কাছে নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়ে আসবে বলে অঙ্গিকার করায়, আজ ২০ ফেব্রুয়ারী আবার মোবাইল কোর্ট অভিযান চালাবে বলে সকল অসাধু ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে । তাই সকাল থেকেই নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রির সকল দোকান, কারখানা বন্ধ করে সটকে পরে পলিথিনের ব্যবসায়ীসহ কর্মচারীরা।
গামেন্টসের জন্য বিদেশ থেকে আমদানী করা পলিথিনের দানা অসাধু পথে নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরী করতে একটি বিশাল চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ জেলা প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা, থানা ও ডিবি পুলিশের অসাধু কর্মকর্তাদের নিয়মিত মোটা অংকের মাসোয়ারা দিয়ে সরকারের কঠোর আইন থাকলেও তা না মেনে অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ।
বিগত সময়ে জেলা প্রশাসনের এনডিসি মাঞ্জারুল মান্নান নারায়ণগঞ্জ নিষিদ্ধ পলিথিনের গডফাদার বাবুলের কয়েক ট্রাক নিষিদ্ধ পলিথিন আটক করলেও তোলপাড়ের ঝড় উঠে শহরজুড়ে। তৎকালীন সময়ে বাবুল সহ সকলেই নাকে খত দিয়ে এই ব্যবসা করবে না বলে অঙিগকার করলেও গত কয়েক বছরে থামানো যায় নাই এই নিষিদ্ধ ব্যবসা । দিন দিন বেড়েই চলেছে পলিথিন ব্যবসায়ীদের দৌড়াত্ম । বাবুলসহ অন্যান্যদের অনেক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দেখা না যাওয়ায় সমালোচনা রয়েছে সর্বত্র ।
নারায়ণগঞ্জের নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরীর কারখানার মালিক ও সকল প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায়কারী নিষিদ্ধ পলিথিনের গডফাদার সাগরের সাথে অসংখ্যবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নাই ।









Discussion about this post