এনএনইউ রিপোর্ট :
প্রতীক বরাদ্দের আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের সর্বত্র চষে বেড়াচ্ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ মহাজাটের বর্তমান সংসদ সদস্য পাঁচ প্রার্থী। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগ, সভা–সমাবেশে সরব তাঁরা। নারায়ণগঞ্জ থেকে মনোনয়ন পাওয়া নারায়ণগঞ্জের বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরাও মাঠে নেমেছেন। যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। তবে তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগসহ মহাজোটের নেতা–কর্মীদের হামলা, গ্রেপ্তার, ভাঙচুর আর হুমকিতে তাঁরা বাধার মুখে পড়ছেন ।
এমন অভিযোগকে সামনে রেখে আজ আজ শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় বন্দরের সোনাকান্দা স্টেডিয়ামের ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় আসছেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা।
ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড.কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষস্থানীয় সকল নেতাই এই জনসভায় আসছেন। এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। এর আগে গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর বন্দর) আসানের ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী এসএম আকরাম সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনে কিভাবে বাধা প্রদান, মামলা হামলা করা হচ্ছে তার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে আওয়ামী লীগসহ মহাজেটের ও ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীসহ ৩৬ জন প্রার্থী লড়ছেন নির্বাচনী মাঠে। সবাই কমবেশী প্রচার–প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জ ১ (রূপগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী । প্রতিদিনই তিনি গণসংযোগ করছেন। চলছে পথসভা, জনসভা, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিএনপি নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান অভিযোগ করে আসছেন, তাঁর প্রচার-প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে, মাইক ভাঙচুর, কর্মীদের মারপিট করা হচ্ছে। জাতীয় পাটির প্রার্থী আজম খানও অভিযোগ তুলেছে তার নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর করা হয়েছে ।
এই আসনের অন্য প্রার্থী ইসলামী আন্দোলনের মো: ইমদাদুল্লাহ, স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজীর আস্থাভাজন হাবিবুর রহমান হাবি সার্বক্ষনিক গোলাম দস্তগীর গাজীর পাশে তেকে নৌকার প্রচার চালাচ্ছেন । কমিউনিস্ট পার্টির মো: মুনিরুজ্জামান চন্দন এবং জাকের পার্টির মাহফুজুর রহমান প্রচারণা চালাচ্ছেন বিনা বাধায় ।
নারায়ণগঞ্জ ২ (আড়াইহাজার) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু। তিনি চষে বেড়াচ্ছেন গোটা এলাকা। সঙ্গে থাকছেন দলের সব পর্যায়ের নেতা–কর্মী। নজরুল ইসলাম বাবু নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়ালেও বিএনপির নতুন মুখ নজরুল ইসলাম আজাদ বরাবরই আওয়ামীলীগ নেতা বাবু ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা, মামলা ও প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে । এমন ঘটনায় নব নিযুক্ত পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের বদলীরও দাবী করে ইসি বরাবার অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এই আসনে ইসলামী আন্দালন প্রার্থী নাসির উদ্দিন ও কমিনিস্ট পাটির প্রার্থী সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর ভাই হাফিজুর রহমান এখনো পর্য্ন্ত কোন অভিযোগ করে নাই ।
নারায়ণগঞ্জ ৩ (সোনারগাঁ) আসনে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী না থাকায় বর্তমান সাংসদ জাতীয় পাটির লিয়াকত হোসেন খোকার বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাত প্রবল বাধা অতিক্রম করে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন দৃঢ়তার সাথে । অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান সমানতালে প্রচাণা চালিয়ে যাচ্ছেন ।
সোনারগায়ে নানা অঘটন হলেও এই আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন । আইনশৃংখলা বৈঠকে বিএনপির প্রার্থী মান্নানকে মারধর ও অন্যান্য হুমকি ধমকির অভিযোগ উঠলেও কোন প্রার্থীই প্রচার প্রচারণায় পিছিয়ে নেই।
নারায়ণগ্ঞ্জ-৪ (ফতুল্লা -সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের পরিক্ষিত সংসদ সদস্য শামীম ওসমান প্রচারণা চালাচ্ছেন জোরেশোরে। তবে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে জমিয়াতুল ইসলামের প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমী তোমন কোন প্রচারণা না চালালেও নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও প্রচারণা করতে না দেয়ার অভিযোগ তুলছেন প্রতিনিয়ত: । বিএনপির পরিক্ষিত নেতা গিয়াস উদ্দিন ও শাহ আলমকে মনোনয়ন না দেয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঠে নামানো যাচ্ছে না । মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্ট ছাড়াও এই আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন । তারা হলেন : ইকবাল হোসেন (কমিউন্সিট পাটি), মাহমুদ হোসেন ( বিপ্লবী ওয়ার্কার্স) শফিকুল ইসলাম ( ইসলামী আন্দোলন), ওয়াজি উল্লাহ মাতব্বর অজু ( ন্যাপ), জসিম উদ্দিন ( খেলাফত আন্দালন) ও সেলিম মাহমুদ (বাসদ)।
নারায়ণগহ্জ ৫ (সদর বন্দর) আসনে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী না দিলেও মহাজোটের বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমান প্রতিদিন গণসংযোগ করছেন। জনসভা-পথসভা করছেন। টাঙানো রয়েছে তাঁর পোস্টার। অপরদিকে এই আসনের এক্যফ্রন্টের নেতা সাবেক সাংসদ এসএম আকরাম ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে রয়েছেন মহা বিপাকে। বিএনপির অনেক নেতা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানসহ পুরো পরিবারের হত্যা মামলার আসামী আত্মস্বীকৃত খুনি কিসমত হাসেমের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন ওসমান পরিবারের নির্বাচনী প্রচারণায় । ফলে বিএনপির বিশাল একটি অংশও আওয়ামীলগের অনেকেই জাতীয় পাটির লাঙ্গলের প্রার্থী সেলিম ওসমানের নির্বাচনী মঞ্চে দেখে শহরে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে ।
এই আসনে আরও , ইসলামী আন্দোলনের আবুল কালাম, জাকের পার্টির মোর্শদ হাসান, খেলাফত মজলিসের কবির হোসেন, ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ বাহাদুর শাহ, কমিউন্সিট পাটির এড: মন্টু ঘোষ ও বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব ।
এমতাবস্থায় আজ শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের ঐক্যফ্রন্টে পাঁচ প্রার্থীর পক্ষে প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে বন্দরের বিকেল ৩টায় বন্দরের সোনাকান্দা স্টেডিয়ামের ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় বক্তব্য দেবেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড.কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নাগরিক ঐক্যেও আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমূখ ।









Discussion about this post