`আপনাদের সাথে আমি ভিপি বাদল আছি। শামীম ওসমান, সেলিম ওসমান, খোকন সাহা আছে। যারা যারা মসজিদে যায়, মন্দিরে যায়, গীর্জায় যায়, প্যাগোডায় যায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো মেয়র কথা বললে ভয় পাবেন না। কেউ যদি দলে থেকে দলের বদনাম করেন, আপনারা তাকে নৌকায় মার্কায় ভোট দিবেন না ।‘
এভাবেই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল ।
শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরীর দেওভোগ এলাকার ঐতিহাসিক জিউস পুকুর সংলগ্ন অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ‘নারায়ণগঞ্জ জেলা হিন্দু সম্প্রদায়’ এর ব্যানারে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের মাটিতে মেয়র নমিনেশন চাওয়ার আগে দেবোত্তর সম্পত্তিটা দেবোত্তর সম্পত্তির নামে লিখে দেন। তা নাহলে আপনারা কী তাকে ভোট দিবেন? দলের বদনাম কইলে শুনবেন? নৌকায় বদনাম করতে দেয়া যাবে না। তাহলে আমরা বলবো আল জাজিরা টেলিভিশনে স্বাধীনতা নস্যাৎ করার চক্রান্তে যেমন করে লিপ্ত ওই স্বাধীনতা বিরোধীরা, ওই জামাত শিবির বিএনপিরা, আপনি তার উত্তরাধিকার। আপনি আওয়ামী লীগে থেকে খন্দকার মোশতাক। ওকে চিনে নেন আপনারা।’
সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘কার বিরুদ্ধে, কেন মামলা করেছেন? কীসের এত স্বাদ? কীসের এত স্বপ্ন আপনার? নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানের কাছে আমাদের দাবি। এই দাবি কবে পূরণ হবে? আর আমার প্রিয় বন্ধু খোকন সাহাকে নিয়ে কেউ যদি কথা বলে তাহলে নারায়ণগঞ্জ শহরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলবে। ওই আগুনে জ্বলে-পুড়ে ছাড়খার হবেন। আপনি যতই ভন্ডামি করেন। যতই কালী সাধনা করেন, মাথায় সিঁদুর পড়েন, কাজ হবে না।’
সরকারি তোলারাম কলেজের সাবেক ভিপি আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। এই বাংলায় হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কথাটি যেমন সত্য, তার চেয়ে অধিক সত্য আমরা সবাই বাঙালি। আমরা সবাই জয় বাংলা স্লোগান দেই। শেখ হাসিনার স্লোগান দেই। প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে দাবি রইল আমরা এর বিচার চাই।’
মেয়রকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘পাইছেন কী আপনে? আপনি একদিকে বলবেন, ডিআইটি মসজিদ উঠায় দিবেন। আরেকদিকে দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করবেন। আমরা হিন্দু-মুসলমান ঐক্যবদ্ধ। আমরা সবাই জাগ্রত বাঙালি। শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত দেবোত্তর সম্পত্তি আমরা নিতে দেবো না।’
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপক কুমার সাহার সভাপতিত্বে গণসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চন্দন শীল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা, যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূইয়া সাজনু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. জুয়েল হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহসীন মিয়া, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরুন দাস, সাধারণ সম্পাদক উত্তম সাহা, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, বর্তমান সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসমাঈল রাফেল প্রধান প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন।









Discussion about this post