নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
জ্বালানী তেল নিয়ে নারায়ণগঞ্জের প্রায় দেড় শতাধিক চোরাকারবারীর নানা তেলেসমাতির পর মাত্র একটি গোডাউনে হানা দিলে জেলা ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে তেল চোর চক্ররা তেলে বেগুণে জ্বলে উঠে । প্রথমে তিন তেল চোর গ্রেফতার হলে নানা তদ্বির করে ছাড়াতে না পেরে তেল চোরদের হোতা ইকবাল চৌধুরী তেল চুরির মামলার আসামী হয়েও উল্টো আদালতে ডিবি পুলিশের দুই দারোগা ও সোর্স আনোয়ার ও ক্যাশিয়ার নূরুর বিরুদ্ধে মামলা করে । এই ঘটনায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয় সর্বত্র ।
পলাতক থাকা অবস্থায় তেলচোর ইকবাল দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার অজো পাড়াগাঁ মোল্লার হাট থেকে গ্রেফতার করে নারায়ণগঞ্জের আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করলে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করে পলাতক রয়েছে চোরচক্রের সকল সদস্যরা । ইকবালের স্বীকারোক্তিতে বেড়িয়ে আসে কারা কারা তেল চুরিতে সাবিক সহায়তা দেয় এবং নেপথ্যে থাকা গডফাদার কারা । ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে গডফাদাররা নিয়মিত মাসোয়ারা নিলেও বর্তমানে সকলেই যেন মুখে কুলুপ এঁটেছেন । তেলচোরদের কে কোন নেতাদের কেউ ঠিক মতো চিনেন না বলেও দাবী করেছেন নিজস্ব আলোচনায় । এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের গণমাধ্যমকর্মীরাও গডফাদারদের নাম লেখার ক্ষেত্রে এবং প্রশ্ন করতেও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রয়েছে ।
চোরাই জ্বালানী তেল সেক্টর থেকে কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা সিদ্ধিরগঞ্জের তেলচোরদের কিং মেহেদী ও তার সহযোগিরা পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে দিব্বি আয়েশের সাথে তার অপকর্ম অব্যাহত রেখেছে । এমতাবস্থায় তেল চোরদের নিয়ে এক বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষ ।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার তেল চোরদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা, ইকবালের আদালতে স্বীকারোক্তি ও ফতুল্লার একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য এবং ব্যাপক অনুসন্ধ্যান করে জানা যায়, ট্যাংক মালিক সমিতির সভাপতি টোকাই থেকে কোটিপতি রহমত উল্লাহ ভান্ডারী (যার বাবা মায়ের কোন পরিচয় নাই), সেক্রেটারী সালাউদিন ( আফসুর ছোট ভাই), ইকবাল, মেঘনার ডিপিার ট্যাংক লড়ি মালিক সমিতির সভাপতি চোরদের হোতা আফসু, মোকলেস, পল্টি দেলু,ফেরহাদ, কামাল, শাহিন, হিরু, ডলফিন দেলু, পাগলার মেয়ের জামাই ইব্রাহীম, সাবেক এমপি কবরীর ক্যাডার ও পঞ্চবটি ডালডা রোডের হাবিবুর রহমান মুন্সীর ছেলে পাভেল, পঞ্চবটির কোটিপতি বাবু, নূরা সেক্রেটারীর ভাই আবু সালাম, যমুনা ডিপো সংলগ্ন তিতাস মার্কেটের দোকানি ও আলেকের ছেলে রুবেল, একই এলাকার সরদার বাড়ির সাবেক যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম হিরোসহ পুলিশের হাতে আটক রুবেল চৌধুরী, কামাল হোসেন, লোকমান হোসেনসহ পুরো চক্র সকাল ৯ টা থেকে পালাক্রমে ভোর রাত ৫টা পর্যন্ত অবিরাম জ্বালানী তেল চেুরির কারবার চালিয়ে যাচ্ছে কয়েক যুগ ধরে ।
যমুনা ও মেঘনা ডিপোকে কেন্দ্র করে পুরো চক্রটি দিনের সকাল থেকে রাত ১০ পর্যন্ত ডিপো ও গেইট সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করে প্রকাশ্যেই রমরমা চোরাই তেলের কেটে যাচ্ছে, অপরদিকে রাত ১০ টা তেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত অপর চক্র নদীতে জাহাজ থেকে তেলকাটার (চুরি) কারবার অবিরাম অব্যাহত রেখেছে ।
এই পুরো চক্রটিকে ফতুল্রার কিং মেকার হিসেবে পরিচিত শিল্পপতি মোহাম্মদ আলীর ভাতিজা রিপন ও অপর এক রাজনৈতিক স্থানীয় নেতা নানাভবে শেল্টার দিয়ে যাচ্ছে বলেও জোড় অভিযোগ রয়েছে। এলাকার অনেকের অভিযোগ থেকে আরো জানা যায়, তেলচুরির রমরমা টাকায় এই চক্রটির সকলেই মদ, নারী, জুয়াসহ সকল ধরণের অপরাধের সাথে জড়ি থেকে পুরো ফতুল্লার পরিবেশ কলুষিদ করে তুলেছে ।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে একজন তেল চোর ব্যবসায়ী বলেন, (যার অডিও ও ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষনে রয়েছে) ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের প্রায় দেড় শতাধিক ব্যাক্তি সরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে তেল চুরির সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে । কোটি কোটি টাকার তেল চুরি করে পুরো চক্রের সকলেই বিশাল অট্টালিকার মালিক । এই তেল চুরির সাথে জড়িত রহমত উল্লাহ ভান্ডারীর ছেলে রনি, রকি ও মেয়ে সোানিয়া নিজেও নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিন যাবৎ । সম্প্রতি এই সোনিয়া মাদক সহ ফতুল্লা পুলিশের হাতে আটক হলে মোটা অংকের টাকায় তাকে ছাড়িয়ে নেয় এলাকার প্রভাবশালীরা । এই তেল চুরির বিশাল একটি অংশ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে পৌছে যায় । মধ্যম সারির এক নেতা ১২ লাখ টাকা মানসায়ারা নেয শুধু সালাউদ্দিনের কাছ থেকে । পুরো তেল চোর চক্রের হোতারা পুলিশের অভিযানের ভয়ে এবং ইকবালের আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তির কারণে সকলেই পালিয়ে থাকলেও আবার জামিন নিয়ে ভান্ডারী, আফসু, সালাউদ্দিন চক্র নতুন করে নানা পরিকল্পনা করে যাচ্ছে ।
আর আর প্রত্যেক তেলচোরদের কাছ থেকে ডিবি পুলিশের নাম করে মোফাজ্জল ওরফে বিশু ১৫/২০ হাজার টাকা হিসেবে প্রতিমাসে প্রায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে শুধু ফতুল্রার তেল চোরদের কাছ থেকে ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ সকল অপরাধীদের সাম্রাজ্য গুড়িয়ে দেয়ার কঠোর ঘোষনা দিলেও এবার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে গোপনে এক শিল্পপতির ভাতিজা, বিদেশে থাকা এক নেতা চক্রাকারে পরিকল্পনা করে যাচ্ছে কি করে জ্বালানী তেল চুরির কারবার পুরোদমে চালু করা যায় ।









Discussion about this post