নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা পিপি ওয়াজেদ আলী খোকনের ছেলে আকিব সাদতের ফ্লাটে নারী নিয়ে মদ্যপান ও ভাংচুরসহ লংকাকান্ডের ঘটনায় সদর থানা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতারকৃত শহরের কুখ্যাত সুতা চোরদের গডফাদার নানা অপরাধের হোতা ফরিদপুরের আইজ্জা গাছির পুত্র এবং শিল্পপতির বাদশার ভাই আবদুর রবের বখাটে কন্যা সায়মা (২০) ও আরেক সূতা কারবারী শহরের খানপুরের পোলষ্টার ক্লাব ও মহসিন ক্রাবের কর্তা জাহাঙ্গির কবির পোকনের পুত্র বখাটে পুত্র ইয়ামিন কবির কে আটকের পর মাদক মামলায় আদালতে পাঠিয়েছে সদর থানা পুলিশ ।
গ্রেফতারের পর থেকেই মাদকসেবী ইয়ামিন কবির নিজেকর পরিচয় গোপন করে তার বাবার নাম মনির হোসন খোকন বলে দাবী করে আসছিলো । একই সাথে তার নাম ইয়ামিন কবির হলেও কখনো আমিন কখনো ইয়ামিন বলে দাবী করে। তার দাদার নাম খানপুরের বাসেদ চেয়ারম্যান হলেও সে প্রথমে নিজেকে এলাকার বাড়াটিয়া বলে দাবী করে প্রতারনার আশ্রয় নেয় ।
মঙ্গলবার দুপুরে সদর থানার দারোগা সিহাব আহমেদ মদ্যপানকারী সায়মা ও ইয়ামিনকে আদালতে পাঠানোর পার আদালতের বিজ্ঞ বিচারক সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নূরুননাহার ইয়াসমিন কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে আগামীকাল বুধবার জামিন শুনানীর দিন ধার্য করেন । আদালতে জামিন শুনানী কালে অসংখ্য আইনজীবী ধনীর দুলাল দুলালীদের পক্ষে আদালতে যুক্তি উত্থাপন করলেও আদালত বুধবার জামিনের শুনানীর জন্য আদেশ দেয় ।
নারায়ণগঞ্জ আদালতের ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমান নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেটকে বলেন, আগামীকাল বুধবার জামিন শুনানী রেখে আসামীদের কারাগারে পাঠিয়েছেনি বিজ্ঞ বিচারক ।
সকাল থেকেই আদালতপাড়া, সদর থানা ও পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে গ্রেফতারকৃতদের ছাড়াতে নানাভাবে চেষ্টা চালায় প্রভাবশালী স্বজনরা । 
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকনের পুত্র ও তার বন্ধু বান্ধবীসহ মদ্যপান করে লংকাকান্ড ঘটায় সোমবার (২ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে শহরের বালুরমাঠ এলাকার নিজ বাসভবনে ।
এ ঘটনায় ওয়াজেদ আলী খোকনের পুত্র আকির সাদত (২০) নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলেও এ রিপোর্ট লেখাকালীন সময়ে তার অবস্থান জানা যায় নাই।
অপরদিকে একই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ইয়ামিন (২০) ও তাদের বান্ধবী সায়মাকে (২০) কে আটক করে।
খবর পেয়ে সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীল, বিকেএমইএ এর পরিচালক জিএম ফারুকসহ অনেকেই হাসপাতালে ছুটে আসেন।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার ডা. জাহাঙ্গির আলম মধ্যরাতে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে এসে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান মদ্যপানে অসুস্থ্য আকিব সাদতকে।
হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক সারোয়ার হোসেন বলেন, আকিব সাদত তেমন কোন অসুস্থ্য নয় । তার হাতে সামান্য কাটা আছে। ধারণা করা হচ্ছে মদ পানের পর কোন গ্লাসের আঘাত হাত কেটেছে। কোন সেলাই করতে হয় নাই । সামান্য ড্রেসিং করে দেয়া হয়েছে।
এদিকে সদর থানার আটক করে নিয়ে আসার পর শহরের খানপুরের বাসিন্দা সূতা ব্যবসায়ী মনির হোসেন পোকনের পুত্র ইয়ামিন পুলিশকে হুমকি দিয়ে বলে ”নারায়ণগঞ্জের পুলিশ আমাদের কিছুই করতে পারবে না।” এ ছাড়াও অকথ্য ভাষায় পুলিশকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজের পর সদর থানার দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের নির্দেশে মদ্যপান করা ইয়ামিনকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যায় । 
এ সময় ইয়ামিন নিজেকে অসুস্থ নয় বলে দাবী করলেও নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা ইমনের কাছে মাদকসেবী ইয়ামিন স্বীকার করে তারা দুই বন্ধু ও বান্ধবী সায়মাকে নিয়ে বিদেশী মদের সাথে কোক মিশিয়ে মদ্যপান করেছে । এবং চিকিৎসকের কাছে ওয়াস না করার জন্য অনুরোধ করে।
হাসপাতালে ইয়ামিন অপকপটেই জানায় তারা প্রায় প্রতিদিন ওয়াজেদ আলী খোকনের বাড়ীতে মদ্যপানের আসরে মিলিত হয়।
ছেলে ইয়ামিনের এমন খবর পেয়ে থানায় রাত ২টায় ছুটে আসেন বাবা মনির হোসেন পোকনের (খোকন)সহ নিকটাত্মীয়রা। পুত্রের এমন কান্ডে পুলিশের সামনেই ইয়ামিনকে মারধর করলেও পুলিশ তাকে থামিয়ে দেয়।
মধ্যরাতের মদের আসরে অন্যতম সদস্যা সায়মার আটকের খবর পেয়ে ছুটে আসে বাবা শহরের নানা অপকর্মের হোতা সূতা চোরদের গডফাদার ফরিদপুরের আইজ্জা গাছির পুত্র ও বিশিষ্ট সূতা ব্যবসায়ী বাদশার ছোট ভাই আবদুর রবসহ তার স্ত্রী।
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের কয়েকজন সদস্য জানান, মদ ও নারী কেলেংকারীর ঘটানয় পিপির বাড়িতে এমন লংকাকান্ড দেখে আমরা হতবাক। যে দৃশ্য আমরা দেখেছি তা ভাষায় প্রকাশ করাও যায় না।
ঘটনার বিষয়ে পিপি ওয়াজে আলী খোকন সোমবার মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেটকে বলেন, এ বিষয়ে আমি এখনো পুরোপুরি জানি না। এই মূহুর্তে মন্তব্য করতে পারছি না বলে মন্তব্য করেছিলেন ।









Discussion about this post