স্টাফ রিপোর্টার :
সারাজীবনের চাকুরী শেষে সকল পুঁজি দিয়ে সন্তানদের জন্য এক টুকরো জমি কিনে রেখে যান দারোগা জালাল আহমেদ। আর এই জমির উপর চোখ পরেছে ভুমিদস্যূখ্যাত ফতুল্লার একটি প্রভাবশালী চক্রের ।
পুলিশ জমি কিনবে এতেও অনেকের চক্ষুসূলে পরতে হয়েছে প্রয়াত দারোগা জালাল আহমেদের পরিবারকে । কোনভাবেই বিশাল চাঁদা নয়তো ক্রয়কৃত জমি থেকে ৩ ফুট পরিমান জমি ছেড়ে দিতে হবে এমন অন্যায্য দাবী করে আসছিলো নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার জাহাঙ্গীর হোসেনসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা ।
এমন দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়াত দারোগা জালাল আহমেদের তিন ছেলে জাহাঙ্গির, হুমায়ুন ও ইব্রাহিম সোহেল পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে কয়েক দফা মেম্বার জাহাঙ্গীর হোসেনসহ আশেপাশের জমির কয়েকজন মালিক শালিশী বৈঠক করে সড়কের জন্য কিছু জমি ছেড়ে দিয়ে প্রাচীর নির্মান করে জাহাঙ্গির গং । এতেও স্বাদ মিটে নাই কথিত আওয়ামীলীগ নেতা ভুমিদস্যু জাহাঙ্গির হোসেন মেম্বারের ।
ভুইঘর এলাকার অনেক ভূক্তভোগি জানান, ভুমিদস্যু জাহাঙ্গির মেম্বারের দম্ভ করে প্রায়ই বলে থাকেন এই এলাকায় আমার কথার বাইরে কেউ কিচ্ছু করা বা বলার সাহস নাই আর এখানে তো মৃত পুলিশের পোলারা আইছে জমি নিয়া লড়াই করতে । আর জাহাঙ্গির মেম্বারের দুই স্ত্রী প্রতিদিন প্রতিমূহুর্ত ঝগড়া থাকায় এলাকায় সকলেই এই পরিবারটিকে অনেকেই ভয় পায় ।
অনেকের ভাষ্য থেকে জানা যায়, জাহাঙ্গির মেম্বার ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ নেতাদের দোহাই দিয়ে আশেপাশের জমির মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে প্রয়াত দারোগার জমি থেকে সড়কের জমি আদায় করে দিবে বলে আশ্বাস প্রদান করার পর জমির মালিকপক্ষ দারোগা জালালের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানী শুরু করে । 
ফের শালিশী বৈঠকের পরও কোন সমাধান না হওয়ায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে দারোগা জালাল আহমেদের ছেলেরা । এতও কয়েক দফা ফতুল্লা থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জাহাঙ্গির মেম্বারকে ডেকে পাঠালেও তা নিয়ে নানাভবে আপত্তিকর মন্তব্য করে ।
পুলিশের সাথে ধস্তধস্তি ও আপত্তিকর মন্তব্য করায় জাহাঙ্গির মেম্বারকে আটক করে থানায় নিয়ে আনার পর সদর উপজেলার ভূইঘরে সড়ক অবরোধ করে ব্যাপক ভাংচুর চালালে ওসিসহ অতিরিক্ত পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এবং ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আওয়ামীলীগ অফিসে ভাংচুর করে জাহাঙ্গির মেম্বারের লোকজন ।
এমন ঘটনায় ফতুল্লা থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা অনুরোধে বলেন, জাহাঙ্গির মেম্বারকে ছাড়াতে ফতুল্লা থানার দফায় দফায় তাদ্বর চালাচ্ছে এক নেতা । চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হলেও জাহাঙ্গির মেম্বারকে ছাড়াতে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদালতে জামিন করাতে বাদীপক্ষকে চাপ দিচ্ছে ভুমিদস্যুখ্যাত এই আওয়ামীলীগ নেতা । এরপর প্রয়োজনে নিজেরা বসে বিষয়টি মীমাংশা করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে ভুমিদস্যুরা ।
জাহাঙ্গীর মেম্বারের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফতুল্লা থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের। তিনি জানান, জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হবে ।









Discussion about this post