আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে পেঁয়াজের বাজারে। নতুন পেঁয়াজ ওঠার পর গত ২ সপ্তাহে দাম কিছুটা কমেছিল কিন্তু নতুন বছরের শুরুতেই আবারও অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে মসলা জাতীয় এই পণ্যটির দাম। গত ৩ দিনেই কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৪০-৬০ টাকা।
শনিবার নারায়ণগঞ্জের কালীর বাজার, দিগু বাবুর বাগান, বউ বাজার ও ফতুল্লা বাজার সহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে দাম বাড়ার এই তথ্য পাওয়া যায়।
দিগুবাবুর বাজারে শনিবার বিকেলে দেশি প্রতিকেজি পেঁয়াজ খুচরা পর্যায়ে ১৮০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে মহল্লার বাজারে এই দাম আরো বেশি। সদর উপজেলার দেওভোগ ও কাশিপুর বাংলা বাজারে ১৯০ থেকে ২১০ টাকায় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছে। এদিন সকালের চেয়ে বিকেলে দাম ১০ টাকা বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, অপরিণত পেঁয়াজ তুলে বিক্রি করার কারণে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জাগায় কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি ও তীব্র শীতের কারণে চাষীরা পেঁয়াজ তুলতে পারছে না। এসব কারণে দাম বাড়ছে। এই দাম আরো বাড়বে বলে ইঙ্গিত দেন তারা।
শহরের মন্ডলপাড়া থেকে বাড়ির জন্য দিগুবাবুর বাজারে পেঁয়াজ কিনতে এসেছেন আলমগীর হোসেন । তিনি নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট কে বলেন, আজ সকালে থেকে ২১০ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনেছি। কিন্তু কালীর বাজারে একটু কমে পেয়েছি। এখান থেকে এক পাল্লা (৫ কেজি) কিনেছি ৯০০ টাকা দিয়ে। অর্থাৎ প্রতিকেজির দাম পড়ছে ১৮০ টাকা। তিনি ব্যবসায়ীদের এমন মূল্যবৃদ্ধির কারন কে খোড়া যুক্তি বা অজুহাত বলেও মন্তব্য করেছেন
এই ক্রেতা বলেন, বড় শঙ্কা হচ্ছে, পেঁয়াজ আবার কত দামে ওঠে যায়! তবে সরকারের পরিকল্পনার অভাবেই সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সরবরাহের ঘাটতি কথা উল্লেখ করে দিগু বাবুর বাজারের আড়তের একজন বিক্রেতা বলেন, গত শুক্র-শনিবার ১১০ থেকে ১২০ টাকায় কেজি বিক্রি করেছি। কিন্তু এখন ১৮০ টাকায় বিক্রি করতে হয়। এক সপ্তাহে ৫০-৬০ টাকা দাম বেড়েছে।
কেন হুট করে আবার দাম বাড়ছে জানতে চাইলে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, এখনো বাজারে দেশি আসল পেঁয়াজ আসেনি। এখন যেগুলো আসছে সেগুলো মুড়ি কাটা পেঁয়াজ। তবে এর পরিমাণ কমে আসছে। কারণ দাম বেশি থাকার কারণে কৃষকেরা অপরিণত পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি করে ফেলেছে। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বিক্রি করেছে এসব পেঁয়াজ। এ কারণে পেঁয়াজের পরিমাণ কমে গেছে।
পেঁয়াজের দাম নিয়ে তিনি আরো জানান, কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া তীব্র শীতও পড়ছে। এ কারণে ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ উঠাতে পারছেন না কৃষক। ফলে সরবরাহ কমে গেছে। এ কারণেই দাম বাড়ছে।
বিক্রেতাদের কয়েকজন আর বলেন, গতকাল শুক্রবার সকালে ১৪০ টাকায় বিক্রি করছি। বিকেলে দাম বেড়ে যাওয়ায় ১৫০ টাকা বিক্রি করেছি। কিন্তু আজ শনিবারে দাম আরো বাড়লো। এখন ১৭০ টাকায় বিক্রি করছি। তবে এটি পাইকারি দাম। এখানে খুচরা বিক্রি হয় না।
তিনি বলেন, দাম আরো বাড়বে। কারণ আগের তুলনায় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে । তবে বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজের পরিমাণ বেশি দেখা যায়নি । অল্পসংখ্যক বিক্রেতার কাছে চায়না ও তুরস্কের পেঁয়াজ দেখা গেছে। এরমধ্যে চায়না পেঁয়াজ ৬০ টাকা আর তুরস্কের পেঁয়াজ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।









Discussion about this post